সাতক্ষীরায় ডলার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শহরের দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর শহরের আল-বারাকা শপিং সেন্টারের আল আমিন জুয়েলার্স-এর স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এবং প্রিয় গোপাল বস্ত্র বিপণী-এর স্বত্বাধিকারী সত্যজিৎ ঘোষের দিকে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ডলার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করলেও পরে তারা টাকা বা ডলার কোনোটিই ফেরত দেননি।
অনুসন্ধানে ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে ডলার লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ থেকে স্বর্ণ আমদানির নামে ডলারের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়া ডলার সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সত্যজিৎ ঘোষ এই চক্রের অন্যতম সহযোগী। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তিনি পরিচিতজনদের কাছে দাবি করতেন যে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়েও কম মূল্যে ডলার সংগ্রহ করে দিতে পারবেন আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। তার কথায় বিশ্বাস করে অনেকেই ডলার কেনার উদ্দেশ্যে মাসুদের কাছে টাকা দেন। কিন্তু পরে ডলার তো দূরের কথা, টাকাও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এই প্রতারণার অন্যতম শিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক নাজির এবং বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নাজির খাজা সাহাবুদ্দিন। তার দাবি, ২০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও সত্যজিৎ ঘোষ তার কাছ থেকে ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তিও হয়, যেখানে পাঁচ দিনের মধ্যে ডলার বুঝিয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেই চুক্তির দুই বছর পার হয়ে গেলেও তিনি এখনো ডলার বা টাকা কোনোটিই ফেরত পাননি। বরং টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য নানা টালবাহানা করা হচ্ছে। সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি জিবি ফান্ড থেকে ঋণ নিয়ে ওই অর্থ দিয়েছিলেন। বর্তমানে প্রতি মাসে বেতনের টাকা থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, একই কৌশলে আরও অনেক সাধারণ মানুষকে ডলার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করলে আরও বহু ভুক্তভোগীর তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং প্রতারণার প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও সত্যজিৎ ঘোষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন।
আব্দুল্লাহ আল মাসুদ দাবি করেন, অবৈধ ডলার ব্যবসার সঙ্গে সত্যজিৎ ঘোষ জড়িত এবং তিনি নিজে এ ধরনের কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। অন্যদিকে সত্যজিৎ ঘোষ দাবি করেন, অবৈধ ডলার লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। তিনি বলেন, তিনি কখনোই ডলার বা অন্য কোনো অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
এদিকে খাজা সাহাবুদ্দিনের পাওনা অর্থের বিষয়ে উভয় অভিযুক্তই দাবি করেন, তার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ভুক্তভোগী খাজা সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, আমার ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার এক টাকাও তারা এখনো পরিশোধ করেননি। বরং পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে হয়রানি ও সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। আমি আমার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাই।
আরাফাত আলী, 








