ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক সরকারি চাকরিজীবীর কাছ থেকে ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী হলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক নাজির এবং বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নাজির খাজা সাহাবুদ্দিন।
তার অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে টাকা দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তিনি ডলার কিংবা টাকা কোনোটিই ফেরত পাননি। সাতক্ষীরা শহরের আলবারাকা শপিং সেন্টারের আল আমিন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদও প্রিয় গোপাল বস্ত্র বিপণীর স্বত্বাধিকারী সত্যজিৎ ঘোষ তার কাছ থেকে ডলার দেওয়ার কথা বলে ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
সাহাবুদ্দিন জানান, ২৮ জুলাই ২০২৪ সালে তার ভাইকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য ২০ হাজার মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হয়। এ সময় মাসুদ ও সত্যজিৎ ঘোষের সঙ্গে তার পরিচয় হলে তারা ২০ হাজার ডলার দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর বিপরীতে তিনি তাদের ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বিষয়টি ৩’শ টাকার একটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমেও সম্পন্ন হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তরা বিভিন্ন অজুহাতে ডলার দিতে বিলম্ব করতে থাকেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা ডলার সরবরাহ করেননি এবং টাকাও ফেরত দেননি। পরে পাওনা টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাহাবুদ্দিনের দাবি, সে সময়ের সাতক্ষীরা-৩ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আ. ফ. ম. রুহুল হক বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন এবং তাকে বলেন, “সরকারি চাকরি করে এত টাকা কোথায় পেয়েছো? এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে না গিয়ে দালালের মাধ্যমে কেন ডলার করতে গেলে? বেশি বাড়াবাড়ি করলে চাকরি থাকবে না।
তিনি আরও জানান, ভাইকে বিদেশে পাঠানোর জন্য জিবি ফান্ড থেকে ঋণ নিয়ে ওই টাকা জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পার হলেও তিনি তার অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না।
এবিষয়ে সত্যজিৎ ঘোষ বলেন, ওই ২৪ লাখ টাকার প্রকৃত মালিক সাহাবুদ্দিন নন, একজন সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ডলার কেনার উদ্দেশ্যে সাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ওই সাবেক ডিসি আল আমিনের কাছ থেকে প্রায় চার কোটি টাকার ডলারও নিয়েছিলেন।
স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্রে তার স্বাক্ষর থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সত্যজিৎ ঘোষ বলেন, তিনি শুধু মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তাই স্বাক্ষর করেছেন। তিনি দাবি করেন, হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই; বরং এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে আল আমিন জড়িত। এছাড়া তিনি শুনেছেন, স্থানীয় একটি পত্রিকার সম্পাদকের মধ্যস্থতায় সাহাবুদ্দিন ও আল আমিনের মধ্যে বিষয়টির সমাধান হয়েছে।
অন্যদিকে আব্দুল্লাহ আল মাসুদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা তিনি নেননি; নিয়েছেন সত্যজিৎ ঘোষ। তার দাবি, সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে টাকার বিষয়টি আগেই মীমাংসা হয়ে গেছে। স্ট্যাম্পে সম্পাদিত চুক্তিপত্র নাজিরের কাছে নেই বলেও তিনি জানান। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি কোনো হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন; বরং এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে সত্যজিৎ ঘোষ জড়িত।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য আ. ফ. ম. রুহুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরাফাত আলী, 









