আজ ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ঘুষের জালে বন্দি সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিস বাড়তি টাকা ছাড়া মিলছে না সেবা সরকারি ফির বাইরে ঘুষ আদায় প্রশ্নের মুখে সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিস দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কালিগঞ্জে কৃষক তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ সাতক্ষীরার নারী জেলা প্রশাসককে নিয়ে সংসদে কটূক্তির প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন সরকারি অফিসেই ‘ব্যক্তিগত বাসা’! বাড়ি ভাড়াও তুলছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তারেক রহমানের কাছে অভিযোগ: কালিগঞ্জে রোকনুজ্জামানের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপির ভাবমূর্তি বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সাইকেল র‍্যালি ফুলতলায় অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাসহ যশোর জেলা পুলিশের কনস্টেবল গ্রেপ্তার সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন শ্যামনগরে সম্পত্তি দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ঘুষের জালে বন্দি সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিস বাড়তি টাকা ছাড়া মিলছে না সেবা

  • আরাফাত আলী,
  • আপডেট সময়: ০২:৫৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

 সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে থেমে নেই ঘুষ বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে প্রতিটি পাসপোর্টের বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং এই অর্থের বড় একটি অংশ অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে বণ্টন করা হয়।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিটি পাসপোর্টে সরকারি ফি’র বাইরে দালালের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রায় ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়।  এর বড় একটি অংশ উপ-পরিচালক আজমল কবীরের কাছে যায় এবং বাকি অর্থ বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মাসে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি পাসপোর্টের মাধ্যমে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, উপ-পরিচালক আজমল কবীর বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা বলে থাকেন। তার দাবি, জাতীয় দৈনিকের কয়েকজন সম্পাদক, জেলার কিছু জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী শ্যামনগর উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বর্তমানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত থাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাসপোর্ট করতে আসা বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে সরকারি ফির বাইরে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ঘুষ ছাড়া আবেদন করলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে অতিরিক্ত টাকা দিলে সহজেই পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। তাদের ভাষ্য, ঘুষ বাণিজ্য যেন পাসপোর্ট অফিসের নিত্যদিনের চিত্র।

পাসপোর্ট অফিসের পাশে অবস্থিত টেকনো কম্পিউটার-এর স্বত্বাধিকারী ওয়ালিদ বিন আমিন তাসকিনের দোকানেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিটি পাসপোর্টে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০০ টাকা অফিসে দিতে হয় এবং তার কাছে থাকে ২০০ টাকা। অফিসে কারা এই টাকা পান এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, অফিস প্রধান নেন ১ হাজার ২০০ টাকা নেন এবং বাকি ৬০০ টাকা অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিদিন রাতে ১৫ থেকে ২০টি পাসপোর্টের বিপরীতে আদায় করা ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেন। এছাড়া তিনি বলেন ঘুষ না দিয়ে কোনোভাবেই পাসপোর্ট করা সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আনসার সদস্য দাবি করেন, টাকা ছাড়া পাসপোর্ট অফিসে কোনো কাজ হয় না। তার ভাষ্য, প্রতিদিন সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা ঘুষ আদায় করা হয় এবং এই টাকার ভাগ বিভিন্ন মহল পেয়ে থাকে। এ কারণেই এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নেয় না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাসপোর্ট অফিসসংলগ্ন কম্পিউটার ও অনলাইন সেবা কেন্দ্র এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে থাকা কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অনেকের দাবি, দালালের সহযোগিতা ছাড়া নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক আজমল কবীরের মোবাইল  নাম্বারে ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ঘুষের জালে বন্দি সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিস বাড়তি টাকা ছাড়া মিলছে না সেবা

ঘুষের জালে বন্দি সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিস বাড়তি টাকা ছাড়া মিলছে না সেবা

আপডেট সময়: ০২:৫৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

 সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে থেমে নেই ঘুষ বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে প্রতিটি পাসপোর্টের বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং এই অর্থের বড় একটি অংশ অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে বণ্টন করা হয়।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিটি পাসপোর্টে সরকারি ফি’র বাইরে দালালের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রায় ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়।  এর বড় একটি অংশ উপ-পরিচালক আজমল কবীরের কাছে যায় এবং বাকি অর্থ বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মাসে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি পাসপোর্টের মাধ্যমে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, উপ-পরিচালক আজমল কবীর বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা বলে থাকেন। তার দাবি, জাতীয় দৈনিকের কয়েকজন সম্পাদক, জেলার কিছু জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী শ্যামনগর উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বর্তমানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত থাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাসপোর্ট করতে আসা বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে সরকারি ফির বাইরে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ঘুষ ছাড়া আবেদন করলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে অতিরিক্ত টাকা দিলে সহজেই পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। তাদের ভাষ্য, ঘুষ বাণিজ্য যেন পাসপোর্ট অফিসের নিত্যদিনের চিত্র।

পাসপোর্ট অফিসের পাশে অবস্থিত টেকনো কম্পিউটার-এর স্বত্বাধিকারী ওয়ালিদ বিন আমিন তাসকিনের দোকানেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিটি পাসপোর্টে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০০ টাকা অফিসে দিতে হয় এবং তার কাছে থাকে ২০০ টাকা। অফিসে কারা এই টাকা পান এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, অফিস প্রধান নেন ১ হাজার ২০০ টাকা নেন এবং বাকি ৬০০ টাকা অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিদিন রাতে ১৫ থেকে ২০টি পাসপোর্টের বিপরীতে আদায় করা ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেন। এছাড়া তিনি বলেন ঘুষ না দিয়ে কোনোভাবেই পাসপোর্ট করা সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আনসার সদস্য দাবি করেন, টাকা ছাড়া পাসপোর্ট অফিসে কোনো কাজ হয় না। তার ভাষ্য, প্রতিদিন সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা ঘুষ আদায় করা হয় এবং এই টাকার ভাগ বিভিন্ন মহল পেয়ে থাকে। এ কারণেই এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নেয় না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাসপোর্ট অফিসসংলগ্ন কম্পিউটার ও অনলাইন সেবা কেন্দ্র এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে থাকা কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অনেকের দাবি, দালালের সহযোগিতা ছাড়া নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক আজমল কবীরের মোবাইল  নাম্বারে ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।