আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচিত হলে নবিজির ন্যায়ের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভার মঞ্চে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, বেহেশত ও দোজখের মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ সেটা অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। যারা বিভিন্ন টিকিট দিচ্ছে, যেটার মালিক মানুষ না, কিন্তু সেটার কথা বলে শিরক করছে। নির্বাচনের আগেই একটি দল মানুষকে ঠকাচ্ছে, এবার নির্বাচনের পর কেমন ঠকাবে বুঝে নেন। তিনি বলেন, একটি মহল দেশে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। যারা ভোট ডাকাতি করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, তাদের মতো ব্যালট ডাকাতির ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের জনগণ ৫ আগস্ট প্রমাণ করেছে, যেকোনো ষড়যন্ত্র তারা প্রতিহত করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৫ বছর উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ও দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে সারাদেশে খাল খনন করা হবে। খাল খনন করে কৃষকদের পাশে দাঁড়াবো। আমরা কৃষকদের উন্নয়ন করতে চাই। ১২ তারিখ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে পারবো। তিনি বলেন, কীভাবে বাংলাদেশ একটি দেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল আমরা ভুলিনি। দিল্লি নয়-পিণ্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমরা সকল শিক্ষিত মা-বোনকে স্বনির্ভর করতে চাই। লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই। বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্রাম ও শহরের সকল দুস্থ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। যাতে পরিবারের সকলের সহযোগিতা বাড়বে। এজন্য ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধরী। রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিবর্তন আনতে গণতন্ত্রই সবচেয়ে জরুরি: গত বিশ বছরে জনসংখ্যা যে হারে বেড়েছে, সে অনুপাতে নাগরিক সুবিধা বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিবর্তন আনতে হলে গণতন্ত্রই সবচেয়ে জরুরি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট নগরের একটি অভিজাত হোটেলে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ‘দ্য প্ল্যান- ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় নগরীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে। সভায় তারেক রহমান জানান, গত ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকতে হলেও, যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তিনি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে রাষ্ট্রব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনার চেষ্টা করবেন তিনি। তিনি বলেন, গত ২০ বছরে দেশের জনসংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, সে অনুপাতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধা বাড়েনি। এই সংকট সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে তরুণ সমাজ। দেশ পরিষ্কার রাখতে হলে আগে গণতন্ত্র পরিষ্কার করতে হবে। গণতন্ত্র ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার ভবিষ্যৎ সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি পরিবারের প্রধান নারীকে এই কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণ-তরুণীরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন করেন। সিলেট থেকে ঢাকায় যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। তরুণরা জানান, তারা দেশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি জানাতে চান।

রিপোর্টার 






















