আজ ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় আজ শুরু বৃত্তি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে ৮৫০২ শিক্ষার্থী শ্যামনগরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে বাধা, চাঁদাদাবি ও হুমকির অভিযোগ বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাতক্ষীরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত সাতক্ষীরায় নববর্ষের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এমপি না হয়েও শাখরা–কোমরপুর ব্রিজ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রাখলেন আব্দুর রউফ সাতক্ষীরায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদযাপন শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও উপস্থিতিতি বাড়াতে প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে মিড-ডে মিল সাতক্ষীরা স্কলার হাবের উদ্যোগে ইতালিতে স্কলারশিপে পড়ার সুযোগ লুটপাট অপহরণ ও ৭২ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলার আসামী রতন জামিনে মুক্ত, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার

প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে চেয়ার দখলের অভিযোগ: শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০২:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬০ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করে দায়িত্ব দখলের অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া ওই শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক একেএম আজহারুজ্জামান মুকুল। তিনি বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামানকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান সাতক্ষীরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১০ নভেম্বর সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে মামলায় উল্লেখ থাকা ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর মুজিদ জানান, রোববার (২১ ডিসেম্বর) মামলার পাঁচ আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামায়াত নেতা মহাব্বত খাঁ ও আজমল হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠান। একই সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলসহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকজন ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর করে বের করে দিচ্ছেন। অন্য একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষক একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান বলেন, তিনি ২০০২ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং ২০২২ সালে নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হন। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিধি অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে সহকারী শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলের নেতৃত্বে কয়েকজন বহিরাগত তাঁকে কক্ষ থেকে বের করে মারধর করেন এবং প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেন। পরে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে জানান জামিলুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমি আদালতের ওপর আস্থা রাখছি। আশা করি ন্যায়বিচার পাব।’

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে চেয়ার দখলের অভিযোগ: শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময়: ০২:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করে দায়িত্ব দখলের অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া ওই শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক একেএম আজহারুজ্জামান মুকুল। তিনি বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামানকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান সাতক্ষীরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১০ নভেম্বর সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে মামলায় উল্লেখ থাকা ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর মুজিদ জানান, রোববার (২১ ডিসেম্বর) মামলার পাঁচ আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামায়াত নেতা মহাব্বত খাঁ ও আজমল হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠান। একই সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলসহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকজন ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর করে বের করে দিচ্ছেন। অন্য একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষক একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান বলেন, তিনি ২০০২ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং ২০২২ সালে নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হন। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিধি অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে সহকারী শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলের নেতৃত্বে কয়েকজন বহিরাগত তাঁকে কক্ষ থেকে বের করে মারধর করেন এবং প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেন। পরে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে জানান জামিলুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমি আদালতের ওপর আস্থা রাখছি। আশা করি ন্যায়বিচার পাব।’