সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, দেবহাটা ও কলারোয়ায় পৃথক নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বক্তব্য রেখেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী এসব জনসভায় নেতারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে “পরিবর্তনের নির্বাচন” উল্লেখ করে ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসভাস্থলগুলো জনসমাগমে পরিণত হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
কালিগঞ্জ উপজেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এড. মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন বঞ্চিত থেকেছে, এবার ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিবর্তন আনতে চায়। তিনি অতীতের বিভিন্ন সরকারের সময়কার উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষ দরকার, নতুন বাংলাদেশ গড়তে নতুন চিন্তা-চেতনা দরকার।” তিনি সাতক্ষীরার চারটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
শ্যামনগরের নকিপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় এড. হেলাল বলেন, জনগণ শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চায়। তিনি জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি ও সুশাসনকেন্দ্রিক বলে উল্লেখ করেন। সেখানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “জুলাই পরবর্তী সময়ে জামায়াত মানুষের পাশে থেকেছে।” তিনি ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে “জুলাই সনদ” বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
দেবহাটার সখিপুর সরকারি কেবিএ কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় এড. হেলাল বলেন, দীর্ঘ সময়ের নির্যাতন ও ত্যাগের পর মানুষ একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান। সেখানে সাদিক কায়েম বলেন, “আগামী নির্বাচন হবে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে লড়াই।”
জনসভাগুলোতে সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, খুলনা-১ আসনের প্রার্থী কৃষ্ণ লাল নন্দীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগরের জনসভায় বক্তারা টেকসই বেড়িবাঁধ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চার উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
রিপোর্টার 


















