আশাশুনির ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধের একটি ক্লোজারে চাপান সম্পন্ন


এপ্রিল ৫ ২০২১

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলা সদরে জেলেখালী-দয়ারঘাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেঙ্গে যাওয়া বেড়ী বাঁধের ২টি পয়েন্টের একটি ক্লোজার চাপান সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ক্লোজারে বালি ভর্তি জিও বস্তা ফেলে আটকানোর কাজ শেষ হয়।
গত বছর (২০২০ সাল) ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তান্ডবে আশাশুনি সদরের জেলেখালী ও দয়ারঘাট বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৯ মাসেও বাঁধ রক্ষার কাজে হাত দেওয়া হয়নি। এলাকার একটি বড় অংশ বাইরে রেখে রিং বাঁধের মাধ্যমে বাকী এলাকাকে জোয়ারের পানির প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছিল। এবছরের ৩০ মার্চ খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় রিং বাঁধ ভেঙ্গে পুনরায় সদর ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। অনেক পরিশ্রমের বিনিময়ে ভাঙ্গন কবলিত রিং বাঁধ রক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়। শনিবার (৩ এপ্রিল) থেকে মূল বাঁধে দু’টি পয়েন্টে ২১০ ফুট ভাঙ্গন স্থানের ছোটটির ক্লোজারের বেডের কাজে হাত দেওয়া হয়। এরপর জিও বস্তায় বালি ভরে ছোট ভাঙ্গনটি রক্ষার কাজ শুরু করে রবিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর নাগাদ ক্লোজারের চাপান কাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে এই অংশ দিয়ে ভিতরে পানি ওঠা রোধ হয়েছে। একই সাথে বড় ভাঙ্গন বাঁধে বেড তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। সোমবার পুরোদমে সেখানে কাজ করা হবে। মঙ্গলবার ২য় ক্লোজারের চাপান কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরন চক্রবর্তী চাপানের সময় উপস্থিত ছিলেন। নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তুলনায় নদীতে কমপক্ষে ১০-১২ সেঃমিঃ পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৫৪ মিঃ উচ্চতায় পরিণত হওয়ায় রিং বাঁধ টিকতে পারেনি। ভাঙ্গন কবলিত রিং বাঁধের কাজের পর মূল বেড়ী বাঁধের দু’টি পয়েন্টে ২১০ ফুট ভাঙ্গন স্থানের ছোটটির কাজও শেষ করা হয়েছে। বড়টির কাজেও হাত দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ক্লোজারের চাপান কাজ শেষ করা হবে। ক্লোজার আটকানোর পর জেলেখালী ও দয়ারঘাট এলাকার দুর্দশা ও চরম ঝুঁকিতে থাকা ৫৩৫ মিঃ বেড়ী বাঁধের কাজ করা হবে। এছাড়া নিমতলা এলাকার ২৫০ মিটার নির্মান কাজে সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকা এবং মানিকখালী থেকে নিমতলা ৭০০ মিটার বাঁধ নির্মানের জন্য ৪১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেখানেও কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন