বৃদ্ধ পিতাকে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


জানুয়ারি ৯ ২০২১


নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরায় বৃদ্ধ পিতাকে জোর পূর্বক আটকে রেখে ছোট ভাই কর্তৃক অপর দুই ভাইয়ের নামে আদালতে মিথ্যে মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কলারোয়া উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মোঃ হাজের আলী সরদারের দুই ছেলে আব্দুল মান্নান (৫৩) ও আব্দুল হান্নান (৫০) এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে দুই ভাই বলেন, আমরা তিন ভাই ও চার বোন। আমাদের ছোট ভাইয়ের নাম আবুল হাসান (৪০)। দীর্ঘদিন ধরে আমরা পিতার সাথে এক অন্ন বাটিতে বসবাস করে আসছি। আমরা দুই ভাই পিতার সাথে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কঠোর পরিশ্রম করে সংসারের উন্নতি করার এক পর্যায় আমার পিতা ৩৬ বিঘা সম্পত্তির মালিক হন। এছাড়াও নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারের মালিক ছিল। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে পিতার সাথে কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ১২ বিঘা জমি আমাদের তিন ভাইয়ের নামে ক্রয় করেন। আমারা কষ্ট করে ছোট ভাই আবুল হাসানকে ফাজিল পাস করাই। কিন্তুু কোন চাকুরি না পাওয়া ২বিঘা জমি বিক্রি করে পিতা তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠান। সেখানে রোজগার করতে না পেরে সে বাড়ি ফিরে আসে। পরে অনেক টাকা খরচ করে তাকে বিয়ে দেয়া হয়।
আব্দুল মান্নান ও আব্দুল হান্নান আরো বলেন, আবুল হাসানের বিয়ের পর পিতা আমাদের তিন ভাইকে পৃথক সংসারের ব্যবস্থা করেন। পিতা হাজের আলী সরদারের বয়স ৮৫ বছর হওয়ায় তিনি পর্যায়ক্রমে তিন ছেলে বাসায় খাওয়া দাওয়া করতেন। আয়ের উৎস্য না থাকায় ১০ কাঠা জমি বিক্রি করে নাভারন বাজারে ছোট ভাইকে ঔষধের দোকান করে দেয়া হয়। কিন্ত আবুল হাসান পদে পদে আমাদের পিতাকে অপমান করতো। ছোট ছেলের এরূপ নিষ্ঠুরতা, অকৃতজ্ঞতা ও অপমান সহ্য করতে না পেরে হাসানের বাড়ি ছেড়ে পিতা আমাদের দুই ভাইয়ের বাড়িতে এসে থাকা খাওয়া শুরু করেন। তিনি আমাদের বাসায় থেকে সুখি সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করছিলেন। এমতবস্থায় তিন বছর আগে আমার মা মারা যাওয়ার পর থেকে পিতা হাজের আলী সরদার ১২/১৩ বিঘা জমি লিখে নেয়ার জন্য আমাদেরকে বার বার তাগিদ দিতে থাকেন। একপর্যায় গত ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর কলারোয়া সাবরেজিষ্ট্রি গিয়ে স্ব-ইচ্ছায়, সুস্থ্য মস্তিষ্কে ও স্বজ্ঞানে কোন প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই এবং কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে পিতা ২৩ বিঘা জমির মধে থেকে ৪ একর ১৯ শতক জমি আমাদের দুই ভাইয়ের নামে লিখে দেন।
এঘটনার একমাস পরে বিষয়টি জানতে পেরে আবুল হাসান কয়েকজন সন্ত্রাসীকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে পিতা হাজের আলী সরদারকে টেনে হিছড়ে অন্যত্রে নিয়ে আটকে রাখে। পরে জোরপূর্বক পিতাকে দিয়ে স্বীকারোক্তি করিয়ে আমরা দুই ভাই জমি রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছি মর্মে সাতক্ষীরা আমলী আদালত-৪ একটি মিথ্যে মামলা দায়ের করেছে।
আব্দুল মান্নান ও আব্দুল হান্নান তাদের বৃদ্ধ পিতা যাতে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে স্ব-স্থানে এসে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারেন ও মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার করা হয় তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন