একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্ক্তিযোদ্ধা গণমানুষের নেতা সকলের খায়ের ভাই চলে গেলেন সকলকে কাদিয়ে


জুলাই ১৫ ২০২০

সাতক্ষীরাবাসিকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে চলে গেলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি, একাত্তরের রণাঙ্গনের লড়াকু সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ফিংড়ি ইউনিয়নের পাঁচ বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান, একাত্তরের ঘাত দালাল নিমূল কমিটির সাবেক জেলা আহ্বয়ক অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, ভূমিহীন আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, দক্ষ সংগঠক, গণমানুষের নেতা মো. আবুল খায়ের সরদার (৭৭)। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ৯:১৫ মিনিটে নিজ বাড়িতে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না এলাইহি রাজিউন)। আজ বুধবার জোহর নামাজের পর মরহুমের জানাজা নামাজ গাভা আইডিয়াল কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের গাভা গ্রামের রজব আলী সরদার ও আছিয়া বেগমের জ্যৈষ্ঠ পুত্র ছিলেন আবুল খায়ের সরদার। তিনি ফিংড়ি ইউনিয়নের পাঁচ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ৭০ দশকের শেষের দিকে ফিংড়ি ইউপির তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল বারি সরদারের মৃত্যুর পর তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর একাধারে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ১৯৯৬ সালে আবারো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরআগে তিনি ১৯৮৬ সালে তৎকালীন আশাশুনি সংসদীয় আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন।
আবুল খায়ের সরদার ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক। তিনি নির্যাতীত নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আজীবন নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। অন্যায়ের কাছে আপোষ করেননি কখনো। ভূমিহীন আন্দোলনের নেতৃত্বে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। জেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন আবুল খায়ের সরদার। একজন দক্ষ ন্যায় বিচারক ও সদালাপি মানুষ হিসেবে গোটা এলাকায় তার সুনাম সবার মুখে। তিনি ছিলেন গাভা আইডিয়াল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া গাভা দাখিল মাদ্রাসা, গাভা হাইস্কুল, জিফুলবাড়ি দরগাহ শরীফ আলিম মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যংদহা গণগ্রন্থাগার, বিভিন্ন ক্লাবসহ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে ছিল তার নাড়ির সম্পর্ক। ফিংড়িসহ সাতক্ষীরা জলাবদ্ধতা নিরসনে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনি ছিলেন একজন উন্নয়নকামী মানুষ। গরীব, দুস্থ, অসহায় মানুষের সুখ দু:খের সাথী হিসেবে তিনি আমরণ কাজ করে গেছেন। গত বছর তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। এরআগে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে তিনি অবিরাম কাজ করেছেন। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে গোটা জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে আবুল খায়ের সরদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল, সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক আবু রায়হান তিতু, সদস্য সচিব লায়লা পারভীন সেঁজুতি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, ফিংড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সামছুর রহমান, সুজন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সম্পাদক শেখ হেদায়েতুল ইসলাম ও মো. আবু ছালেকসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন