কলারোয়ায় ত্রানের চাহিদা ৪২ হাজার মানুষের, পেয়েছে ১১ হাজার


এপ্রিল ১৭ ২০২০

Spread the love


সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে জনজীবন বিপর্যস্ত। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষ প্রায় একমাস গৃহবন্দি। কোন কাজকর্ম করতে না পারায় ঘরে বন্দী থাকা খেটে খাওয়া মানুষসহ মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত মানুষ না খেয়ে থাকার উপক্রম দেখা দেয়।

আর এসব মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সেলক্ষ্যে সম্প্রতি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা দলবল নিবিশেষে গরীব অসহায়দের বাড়ি বাড়ি ত্রান পৌছে দেওয়ার জন্য তালিকা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়সহ দেশের প্রত্যেকটি জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

পরে এ নির্দেশনা অনুযায়ী সাতক্ষীরার কলারোয়ার পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরা এবং ১২ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বররা তাদের চাহিদা অনুযায়ী ইতোমধ্যে মোট ৪১ হাজার ৯৫৯ জন খেটে খাওয়া মানুষসহ গরীব অসহায়দের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর জমা দেন।

এরমধ্যে কলারোয়া পৌরসভায় ৭ হাজার জন, ১ নং জয়নগর ইউনিয়নে ৩ হাজার জন, ২ নং জালালাবাদ ইউনিয়নে ৪ হাজার জন, ৩ নং কয়লা ইউনিয়নে ১ হাজার ৫০০ জন, ৪ নং লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৫০০ জন, ৫ নং কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫০০ জন, ৬ নং সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে ৩ হাজার ৫০০ জন, ৭ নং চন্দনপুর ইউনিয়নে ৫ হাজার ২৯৯ জন, ৮ নং কেরালকাতা ইউণিয়নে ২ হাজার ৪৩৫ জন, ৯ নং হেলাতলা ইউনিয়নে ২ হাজার ৪৭৯ জন, ১০ নং কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নে ২ হাজার জন, ১১ নং দেয়াড়া ইউনিয়নে ২ হাজার ৭৪৬ জন ও ১২ নং যুগিখালী ইউনিয়নে ৩ হাজার জনসহ মোট ৪১ হাজার ৯৫৯ জনের নাম জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পৌর মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান।

পৌর মেয়র ও স্ব-স্ব ইউপি চেয়ারম্যানরা আরো জানান, তাদের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক ধাপে পর্য়ায়ক্রমে আসা কলারোয়া পৌরসভা ও উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মোট ১১ হাজার ১৫৬ জনের মাঝে মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাউল এবং ২ লাখ ৭২ হাজার ২০০ টাকার রেশিও অনুযায়ী ডাল, তেল ও আলু গরীব ও অসহায়দের মাঝে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে বিতরণ করা হয়েছে বা পরবতীতে হবে। তবে চাহিদা অনুযায়ী ইতোমধ্যে যেসব খাদ্য সামগ্রী পৌছেছে তা অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় খেটে খাওয়া গৃহবন্দি মানুষ খুবই দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছে। ইতোমধ্যে তারা তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে কেউ কেউ সাবান, মাক্স, তেল, ডাল, আলু, দিয়েছে বলেও জানান।

ত্রান সামগ্রী না পাওয়া মধ্যবিত্ত মানুষসহ খেটে খাওয়া গৃহবন্দি শত শত মাসুষ জানান, তারা এমনই পরিস্থিতির মধ্যে আছেন, পারছে না কারো কাছে হাত পাততে, পারছে না সইতে এভাবে যদি আর কয়েক দিন কোন সাহায্য সহযোগিতা না পাই তাহলে তাদের ঘর থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।

এ ব্যাপারে কলারোয়া পৌর সভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, তার পৌর এলাকার ৭ হাজার জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত তিনি ৩ হাজার ৪০০ জনের চাউল এবং নগদ ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ও ২০ হাজার টাকার শিশু খাদ্য হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৬০০ জনের মাঝে মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাউল ও ওই টাকার রেশিও অনুযায়ী চাল, ডাল ও তেল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৮০০ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

জয়নগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামসুদ্দীন আল মাসুদ বাবু জানান, তার ইউনিয়নের ৩ হাজার জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৬৬৯ জনের চাউল ও নগদ ১০ হাজার টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৫৯৯ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৭০ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

জালালাবাদ ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, তার ইউনিয়নের ৪ হাজার জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৬১৮ জনের চাউল ও নগদ ১১ হাজার ৫০০ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৪৮ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৭০ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

কয়লা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের ১ হাজার ৫০০ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ২৯৮ জনের চাউল ও নগদ ১১ হাজার টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৫ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৩৩ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নূরল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নের ১ হাজার ৫০০ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৪২৯ জনের চাউল ও নগদ ১৩ হাজার টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ২১২ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২১৭ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল জানান, তার ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫০০ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৭৭৩ জনের চাউল ও নগদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫৩ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২২০ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জানান, তার ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫০০ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৮৮২ জনের চাউল ও নগদ ২১ হাজার ৫০০ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩২ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৯০ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

চন্দনপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নের ৫ হাজার ২৯৯ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৯১২ জনের চাউল ও নগদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪০৫ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫০৭ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

কেরালকাতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ জানান, তার ইউনিয়নের ২ হাজার ৪৩৫ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৭৪৫ জনের চাউল ও নগদ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৯৫ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৩৫০ু জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

হেলাতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের ২ হাজার ৪৭৯ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৬৭৭ জনের চাউল ও নগদ ১০ হাজার ৭০০ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮৪ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৯৩ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আসলাম হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের ২ হাজার জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৫৩৪ জনের চাউল ও নগদ ১২ হাজার টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮০ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৫৪ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
দেয়াড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের ২ হাজার ৭৪৬ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৫২২ জনের চাউল ও নগদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ২৯২ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৩০ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

যুগিখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রবিউল হাসান জানান, তার ইউনিয়নের ৩ হাজার জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৬৯৭ জনের চাউল ও নগদ ১১ হাজার ৫০০ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৫০৫ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৯২ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই চাহিদা পত্রের বিপরীতে কয়েক দফায় যে পরিমান চাউল এসেছে। তা কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত নিয়ম মাফিক বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া চাহিদার অবশিষ্ট ত্রানের চাউল পর্যায়ক্রমে প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহে পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন