সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন আটকে রাখা যাবে না : ইলিয়াস কাঞ্চন


নভেম্বর ৩০ ২০১৯

Spread the love

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর বাস্তবায়ন আটকে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেছেন, ‘মানুষকে জিম্মি করে, সরকারকে বিব্রত করে যদি কেউ এই আইনের বাস্তবায়ন ঠেকানোর চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস কাঞ্চন এসব কথা বলেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইনের সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সরকার বিভিন্ন সময় ১৯৮৩ সালের আইনটি সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বারবারই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবহন সেক্টরের একটি অশুভ শক্তি। সম্প্রতি কয়েকটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলন সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পাসের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে সরকার এই আইনটি ২০১৮ সালে পাস করে। এর প্রায় ১৫ মাস পরে ১ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর শুরু করে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম ১৪ দিন সহনীয় মাত্রায় প্রয়োগ ছিল। পরবর্তীতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবিতে আইনের কয়েকটি বিষয় আগামী ছয় মাস পর্যন্ত কনসিডারের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বরাবরই পরিবহন সেক্টরে সেই চক্রটি বাধা সৃষ্টি করে নানা ধরনের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে দেয়। আমার প্রশ্ন, কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো?’

পরিবহন শ্রমিকদের উদ্দেশে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা পরিবহন শ্রমিকদের ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে, কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে তারা কতটা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করে? আপনাদের সুরক্ষার জন্য মালিক কি কোনো টাকা ব্যয় করেন? আপনাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কি কোনো ইনস্টিটিউশন করেছে, হাসপাতাল গড়েছে চিকিৎসার জন্য? হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে এক হাজার চালক হেলপার মারা যায়। এই যে আপনারা মারা যান, আপনাদের জন্য মালিকরা কী করে? বিষয়গুলো একবার ভেবে দেখবেন।’

জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা শুরু থেকেই এই আইনের প্রতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন দিয়ে গেছেন। আজ পরিবহন সেক্টরের কিছু মানুষের নৈরাজ্যের কারণে আপনাদের ভোগান্তি হচ্ছে। তবে আমি মনে করি এই ভোগান্তি সাময়িক। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য আপনাদের এরকম সাময়িক ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে। আপনারা ধৈর্য হারাবেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর মহাসচিব সৈয়দ এহসানুল হক কামাল, যুগ্ম সম্পাদক লায়ন গনি মিয়া, বাবুল সাদেক হোসেন এবং প্রচার সম্পাদক একে এম ওবায়দুর রহমান।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন