ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে জেলাবাসীর প্রাণের কোন ক্ষতি না হলেও মালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে


নভেম্বর ১৫ ২০১৯

সম্প্রতি উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় বুলবুল পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির বিষয় নিয়ে জেলা সংবাদপত্র পরিষদের সাথে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে জেলাবাসীর প্রাণের কোন ক্ষতি না হলেও মালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উড়ে গেছে বাসগৃহের ছাউনি, ভেঙে পড়েছে কাঁচা ঘর বাড়ি, উপড়ে পড়ছে হাজার হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। ভেসে গেছে মৎস্য ঘের। এখানে শেষ নয়, ধান শাক-সবজি রবি শস্য, পানের বরজের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ব্যাপক প্রচার প্রচারণার কারণে মানুষ সতর্ক ছিল। এই জন্য প্রাণের কোন ক্ষতি হয়নি। জেলার সার্বিক উন্নয়নের বিষয় নিয়ে তিনি সম্পাদকদের সাথে খোলামেলা আলোচনায় বলেন, অতি শীঘ্রই জেলার সকল ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানানো হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হবে। কেউ অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসময় তিনি সম্পাদকদের বিভিন্ন মতামত গ্রহণ করেন।
এদিকে সভায় সম্পাদকদের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব বাস্তবতার চেয়ে কম দেখানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সম্পাদকরা বলেন, মৎস্য বিভাগ জেলায় ১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা বলেছে। কৃষি বিভাগ বলেছে ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তবে অর্থের হিসাবে ক্ষতির পরিমান উক্ত হিসাবের চেয়ে ১০০ গুন বেশি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য সম্পাদকরা অনুরোধ জানান। এসময় জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, এটা প্রাথমিক হিসাব। ইতোমধ্যে ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব আমাদের হাতে এসেছে। প্রাথমিকভাবে হিসাব করে আমরা ৪৭ হাজারের কথা বলেছিলাম। কিন্তু বাড়ি বাড়ি যেয়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে ৫৪ হাজারের বেশি।
সভায় আগামীকাল ১৬ নভেম্বর সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অনুষ্ঠিত বই মেলা সুন্দর ও সার্থক করতে প্রচার কার্যক্রম আরো বেগবান এবং সকলকে বই ক্রয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে জাকজমকপূর্ণ আয়োজনে মেলা সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন জেলা প্রশাসক।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা সংবাদপত্র পরিষদের আহবায়ক দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নূর ইসলাম, দৈনিক পত্রদুত উপদেষ্টা সম্পাদক এড. আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা সম্পাদক মো. মহসিন হোসেন বাবলু, দৈনিক কালের চিত্র সহ-সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম খোকন, সাপ্তাহিক সূর্যের আলো সম্পাদক আব্দুল ওয়ারেশ খান, সাপ্তাহিক মুক্তস্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম, দৈনিক কাফেলার রফিকুল ইসলাম রফিক। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বদিউজ্জামান, সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য সচিব শেখ মোশফিকুর রহমান মিল্টন।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন