নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা : সাতক্ষীরার ২০ লাখ মানুষ তিন দশক ধরে জলাবদ্ধতার শিকার’


সেপ্টেম্বর ৩০ ২০১৯

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি :
দেড়শ’ কিলোমিটারের বেতনানদী এখন ছয়কিলোমিটারে এসে কোনোমতে টিকেরয়েছে। ৩০ কিলোমিটারের মরিচ্চাপ নদীকপোতাক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েচার কিলোমিটারে এসেমৃত্যুর প্রহর গুনছে।সাতক্ষীরার এই দুইনদী এখন বদ্ধজলাধারে পরিনত হয়েছে। জেলারপলিজমা এসব নদনদীর দুই তীরেবসবাসকারী ২০ লাখমানুষ গত তিনদশক ধরে জলাবদ্ধতার শিকারহচ্ছেন। তারা পরিবেশও তাদের জীবিকাহারিয়ে ফেলছেন।

রোববার সাতক্ষীরায় এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন যথাযথ নদী ব্যবস্থাপনা না থাকায় জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের প্রধান উপজীব্য ধান মাছ পশুপালন এবং বসতিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন ‘বিপন্ন নদী, বিপন্ন জনজীবন’ এ কথা উল্লেখ করে গোলটেবিল বৈঠকে বলা হয় আগামিতে এ অঞ্চলে স্বাভাবিক বসতি থাকবে কিনা তা নিয়ে শংকিত জনগন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ পশ্চিমের এ অঞ্চল বসবাসের অনুপযোগী এমনকি পরিত্যক্তও হতে পারে।

বেসরকারি সংস্থাউত্তরণ, পানি কমিটি,সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব ওপ্রগতির যৌথ উদ্যোগে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শহিদআলাউদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ জলাবদ্ধতা দুরীকরণে বেতনাও মরিচ্চাপ অববাহিকার নদীব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেনসাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ। এতে মূলপ্রবন্ধ পড়েন পানি কমিটি সম্পাদক গবেষকঅধ্যাপক হাসেম আলিফকির। বিষয় ভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন উত্তরণপরিচালক শহিদুল ইসলাম। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রিয় পানি কমিটিসভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম সফিকুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আনিসুর রহিম, প্রগতি পরিচালক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, প্রেসক্লাব সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি প্রমুখ।

বৈঠকেজানানো হয় জেলার  সব নদ নদীতেএখনও রয়েছে হাজারহাজার নেট পাটা।এসব নদীর পাড়েইগড়ে তোলা হয়েছেইটভাটা। দখলকৃত নদীচরে নোনা পান তুলে অপরিকল্পিত চিংড়িচাষের কারণে এলাকায়পরিবেশগত ভারসাম্য বিনষ্টহয়েছে। কৃষি ফসলনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গাছপালা মরেযাচ্ছে। নদীর যেখানেসেখানে অপরিকল্পিত স্লুইসগেট স্থাপনকরে পানি প্রবাহকে বাধাগ্রস্থ করাহয়েছে উল্লেখ করেতারা বলেন মরিচ্চাপ নদীরপানি এখন আরকপোতাক্ষে প্রবাহিত হয়না। মানুষ পায়েহেঁটে বেতনা ওমরিচ্চাপ নদী পারহয়। ইছামতির শাখানদী কাকশিয়ালি, সাপমারা, লাবণ্যবতীও মরণাপন্ন অবস্থায় চলেগেছে। এসব নদীতীরের মানুষ ভুগছেজলাবদ্ধতার যন্ত্রণায়। তারাহারিয়েছেন তাদের আদিপেশা , কুটির শিল্প,গবাদি পশুপালন ওবনায়ন। তাদের বাড়িঘরবারবার ভাঙ্গনের কবলেপড়েছে। উৎপাদনহীনতার কারণেখাদ্য নিরাপত্তার মুখেওপড়ছেন তারা।

গোলটেবিল বৈঠকেবলা হয় সুন্দরবনের নদনদী ভরাট হয়েআসছে। ফলে অতিমাত্রার বৃষ্টিও দুর্যোগের কারণেসৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা আছড়েপড়ছে উপকূল ভাগেরনদী খাল জনপদে।উপকূলীয় বাঁধ বারবারভেঙ্গে যাচ্ছে। সৃষ্টিহচ্ছে ভাঙ্গন, দেখাদিচ্ছে জলাবদ্ধতা। বৈশি^ক উষ্ণতার কারণেসমুদ্রপৃষ্ঠেরউচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসাথে ঝড় বন্যাজলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ায়জনজীবন লন্ডভন্ড হয়েযাচ্ছে। গত তিনদশক ধরে তারা এসব যন্ত্রণায় ভুগছেন।

বক্তারা বলেন নদী খননই এখন প্রধান কাজ। কেবল খনন কাজই যথেষ্ট নয় জানিয়ে তারা বলেন একই সাথে জোয়ারাধার (টিআরএম)সৃষ্টি করতে না পারলে খনন ফলপ্রসূ হবে না। বেতনা নদীতে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়ন করে মরিচ্চাপ নদীকে টিআরএমএর উপযোগী করে তোলা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে তারা আশাশুনির বুধহাটায় নোয়াপাড়া বিল অথবা গাবতলা স্লুইসগেট এলাকায় টিআরএম এর সুপারিশ করেন। সুপারিশে আরও বলা হয় সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলোচ্ছ্বাসরোধে উপকূলীয় বাঁধ আরও উঁচু টেকসই এবং মজবুত করতে হবে। বেতনা নদীর আশাশুনির বুধহাটা থেকে সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গা এবং আশাশুনি সদর থেকে বালিথার ত্রিমোহিনী পর্যন্ত মরিচ্চাপ নদী খননের তাগিদ দিয়ে তারা বলেন তার আগে নদী পাগেড়র অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে। তারা আন্তঃনদী খালে সংযোগ স্থাপনের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

জেলার সব নদ নদী পুনরুদ্ধার করে সচল ও স্বাভাবিক করতে পারলেই সমস্যার হতে পারে জানিয়ে তারা বলেন এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি স্মারক লিপি পেশ করা হবে। পরিবেশ প্রতিবেশ জীবন জীবিকা রক্ষায় জনগনকে আরও সচেতন হবার আহবান জানানো হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন  জাসদনেতা ওবায়দুস সুলতান বাবলু, সেতু পরিচালক আবুলহোসেন, অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, প্রকৌশলী আবেদুর রহমান, সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন ও গোলাম সরোয়ার, আলি নুর খান বাবুল, মো. নুরুল ইসলাম , আবদুর রব বাবু, শম্পা গোস্বামী, মো.মনিরুজ্জামান প্রমূখ।




Bottom of Form

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন