নানা আয়োজনে সাতক্ষীরায় দুই দিন ব্যাপী জলবায়ু মেলার উদ্বোধন


জুন ১৭ ২০১৯


নিজস্ব প্রতিবেদক : নাচ, গান, গ্রামীণ ঐতিহ্য লাঠিখেলা, উপকুলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার বাস্তব প্রদর্শনী, ঢোল তবলার ধ্বনিসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী উপজেলা শ্যামনগরে ২দিন ব্যাপি উদ্বোধণ করা হয়েছে জলবায়ু মেলা ২০১৯। “উপকুল রক্ষায় প্রয়োজন, জলবায়ু অর্থায়নে ন্যায্যতা ও সুশাসন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জলবায়ু ঝুকি মোকাবেলায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নকীপুর পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দুই দিন ব্যাপী জলবায়ু মেলা-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জলবায়ু পরিষদ শ্যামনগরের সভাপতি সাবেক উপাধ্যক্ষ নাজিমুদ্দিন। সকাল ১০ টায় জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি নকিপুর পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে ও পতাকা উত্তোলন করে মেলার উদ্বোধনী করেন, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান ও সিএসআরএল এর সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক মুক্তা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জলবায়ু পরিষদের সদস্য সচিব আশেক-ই-এলাহী। উদ্বোধনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিএসআরএল এর সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক মুক্তা, উপজেলা কৃষি অফিসার আবুল হোসেন মিয়া, পিআইও সেলিম খান, সমাজসেবা অফিসার শেখ শহিদুর রহমান, জলবায়ু মেলা উদযাপন কমিটির আহবায়ক মাস্টার নজরুল ইসলাম, সিএসআরএল ঢাকার সমন্বয়ক প্রদীপ কুমার রায়, পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান এড, আতাউর রহমান, কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম, ইশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান এড, জিএম শোকর আলী, আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু, বুড়িগোলিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল প্রমুখ।
এ সময় প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন জলবায়ু সমস্যা। আর এগুলো আমাদের হাতে সৃষ্টি নয়। উন্নত দেশগুলো এ পৃথিবীকে উত্তপ্ত করছে। আমরা জলবায়ু সহনীয় ধান উৎপাদন করার চেষ্টা করবো। আমরা মিঠা পানির মাছ চাষসহ বায়ো গ্যাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে জলবায়ু কে সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসতে চাই। আমরা যে যার স্থান থেকে চেষ্টা করবো। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড থেকে আমরা যদি অর্থ আনতে পারি তাহলে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা সহনীয় পর্যায়ে আনতে পারবো।
বিশেষ অতিথি জিয়াউল হক মুক্তা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে বিশে^র সবচেয়ে বিপন্ন দেশ বাংলাদেশ। এর মধ্যে বিপন্ন অঞ্চল দক্ষিণ অঞ্চল। ধনী দেশগুলোর গ্রীন হাউজ গ্যাস নিগর্মন কমানো দরকার। দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে একটি জরুরি তহবিল থাকা প্রয়োজন। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পাঠিয়েছিলাম। আমরা চাই আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হোক।
পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান এড. আতাউর রহমান ও বুড়িগোলিনি ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার বলেন, এ মেলা যখন হচ্ছে তখনই এই বৈরি আবহাওয়াই প্রমাণ করে আমরা কতটা ঝুঁকির মধ্যে আছি। আইলার কারণে এখানে ফসল হয় না। সুপেয় পানির সংকট আছে। জলবায়ু পরিষদের মাধ্যমে আমাদের অধিকার আদায় হবে বলে আমরা বিশ^াস করি। নদী ভাঙ্গনের কারণে অনেকেই মাইগ্রেশন হতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে এই ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের ন্যায্য অধিকার দিতে হবে। এ অঞ্চলে মজবুত টেকসই ভেড়ীবাধ না হলে সকল উন্নয়ন ভেসে যাবে।
জলবায়ু পরিষদের সদস্য সচিব আশেক-ই-এলাহী বলেন, প্রচন্ড গরম জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বাস্তব উদাহরণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ এলাকার মানুষ সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে এ অঞ্চলের যে ক্ষতি হয়েছে। তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমরা দুই বছর এ এলাকার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে সে ক্ষতির অর্ধেক সঠিক বরাদ্দসহ সঠিক বন্টনের কাজ করে আসছি।
মেলায় মোট ২৫টি স্টল বসে। প্রতিটি স্টলে গ্রামীণ জীবন যাত্রার বাস্তবতা নিয়ে বিভিন্ন উপকরণ প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও উপকুলীয় অঞ্চলে জনপ্রিয় বিভিন্ন পিঠাপুলিরও প্রদর্শন করা হয়। স্টলগুলোর মধ্যে রয়েছে, জলবায়ু তথ্য সম্ভার, ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী, প্রতিবন্ধী মানুষের কর্ণার, উপকুলের মৎস্যজীবি, বারসিক, ইসলামি রিলিফ, ফেইথ ইন এ্যাকশন, নওয়াবেঁকী গণমুখি ফাউন্ডেশন, রূপান্তর, লিডার্স, সামশ, বেতঙ্গী যুব সংঘ, নকশকাথা নারী সংগঠন, প্রযুক্তি গাছের পাঠশালা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, নবযাত্রা (ডিআরআর কম্পোনেট), সরকারি দপ্তর কর্ণার, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়,শ্যামনগর অনলাইন ব্লাড ব্যাংক। অনুষ্ঠানে প্রচন্ড তাপদাহের মধ্যেও উপস্থিত হওয়ার জন্য সকলকে ধন্যজ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি নাজিম উদ্দীন।
পরে বেলা সাড়ে ১২টায় শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে জলবায়ু বিপন্নতা ও অভিযোজন অগ্রাধিকার বিষয়ক মাল্টি স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জলবায়ু পরিষদ শ্যামনগরের সভাপতি নাজিমুদ্দিন। সদস্য্য সচিব আশেক-ই-এলাহীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সিএসআরএল ঢাকার সমন্বয়ক প্রদীপ কুমার রায়। অতিথি ছিলেন, সিএসআরএল এর সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক মুক্তাসহ উপকুলীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ।
বিকাল সাড়ে ৩টায় ৩য়, ৪র্থ ও ৫ শ্রেণির শিক্ষার্থীর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও ক্ষয়, ক্ষতি, নদী ভাঙ্গন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, সুপেয় পানির সংকট, কার্বন ও দূষণ যুক্ত পরিবেশ এর উপর চিত্রাংকণ ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৫টায় বাউল সংগীত, রাত ৮টায় জলবায়ু সংলাপ এবং মনোঞ্জ সাংস্কৃতি সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, জাগো যুব ফাউন্ডেশনের পরিচালক শেখ ফারুক হোসেন।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন