তালার মাঝিয়াড়া বিলের খাস খাল দখল করে মাছের ঘের তৈরী,বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ ॥ আশংকায় আতংক


জুন ১৫ ২০১৯


নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
সাতক্ষীরা তালায় সরকারী খাষ খাল দখল করে মৎস্য ঘেরের অন্তর্ভূক্ত করায় বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পানি নিষ্কাষণ পথ বন্ধ হয়ে গোটা এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধনের পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবিদের জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ভূক্তভোগী এলাকাবাসী পানি বন্দির আশংকামুক্ত হতে সরকারী খাষ খালের দখলমুক্ত করে তা পূণর্খননের দাবিতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদনও করেছেন। যার তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে জানাগেছে যে,উপজেলার ৬ নং তালা সদর ইউনিয়নের মাঝিয়াড়া মৌজার মাঝিয়াড়া-খড়েরডাঙ্গা বিলের প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে দীর্ঘ দিন ধরে মৎস্য চাষ চলে আসছে। যার মধ্য দিয়েই প্রবাহিত খালটি। স্থানীয়রা জানান,উপজেলার মাঝিয়াড়া,খড়েরডাঙ্গা,শিবপুরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম খালটি গত কয়েক বছর দখল হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন পথ রুদ্ধ হয়ে গোটা এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরী হয়। এতে ঐ অঞ্চলের ফসলের ক্ষেত,মাছের ঘেরসহ নি¤œাঞ্চল পানিতে তলিয়ে থাকে। কোন কোন এলাকায় পানি বন্দিত্ব রুপ নেয় স্থায়ী জলাবদ্ধতায়।
এলাকাবাসী জানায়,খালটির দুধারের জমি মালিকরা যার যার মত নিজ সীমানা বরাবর সরকারী খালের দখল নিয়ে ঘের ব্যবসায়ীদের ইজারা দেয়ায় এমন অবস্থার তৈরী হয়েছে। সূত্র জানায়,স্থানীয় মৃত আব্দুর রহমান গাজীর ছেলে গাজী কামরুল ইসলাম জমি মালিকদের কাছ থেকে আগামী ৫ বছরের জন্য উক্ত প্রায় দেড় শ’ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে ইতোমধ্যে উক্ত সরকারী খাষ খালসহ বেঁধে নিয়ে মাছ চাষের জন্য ঘের প্রস্তুত করেছে। ভূক্তভোগীদের দাবি,খালটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম। খালটি ঘেরের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করে বেঁধে মাছ চাষ করায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে গোটা এলাকা তলিয়ে শত শত বিঘার ধান,সব্জি ক্ষেত তলিয়ে যাবে। পানি বন্দি হয়ে পড়বে গোটা নি¤œাঞ্চল। এছাড়া খালটি বেদখল হওয়ায় রুদ্ধ হয়ে পড়েছে নি¤œ আয়ের মৎস্যজীবিদের জীবিকার মাধ্যম।
এব্যাপারে এলাকাবাসীদের অর্ধ শতাধিক মানুষ সংঘ বদ্ধ হয়ে ইতোমধ্যে খালটির দখলমুক্তির পাশাপাশি তা পূণর্খননের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জেলা প্রশাসক বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসকের (এসএ শাখার) পক্ষে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর আমিনুল ইসলাম গত ২৮ মার্চ স্মারক নং: ৩১.৪৪.৮৭০০.০০০০.৬১.১০০.৫৭.১৮-৪৬৬ মারফত তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরীনকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছেন। নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থ গ্রহনের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছেন। যার স্মারক নং: ০৫.৪৪.৮৭৯০.০০০.৩৮.০১৫.১৮-৫২২,তাং ১২/৬/১৯।
এলাকাবাসীর পক্ষে মমিন উদ্দীন,মো: ইদ্রীস মোড়লসহ ৫৫ জন ভূক্তভোগী স্বাক্ষরিত অভিযোগ পত্রে স্থানীয় তালা সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন,ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক আবেদনকারীদের আবেদন সত্য বলে খালটি উদ্ধার পূর্বক পূণ:খননের জন্য সুপারিশ করেছেন।
এলাকাবাসী জানায়,খালটি দখলমুক্তপূর্বক পূণ:খননের ব্যবস্থা করলে কপোতাক্ষ খননের সুফলভোগীদের মূল ¯্রােতে সম্পৃক্ত হবেন তারা। গোটা এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ত্বরান্বিত হওয়ায় সেখানে আগের মত ফলবে সোনালী ফসল। এছাড়া এলাকার স্বল্প আয়ের মৎস্যজীবিরা মুক্তভাবে মাছ আহরণে ফিরে পাবে তাদের জীবিকার মূল মাধ্যম এমনটাই প্রত্যাশা ভূক্তভোগী জনপদের সাধারণ মানুষের।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন