পাইকগাছার সংবাদ


মে ১২ ২০১৯

পাইকগাছায় চিংড়ীতে পুশ ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নেই
চিংড়ী শিল্প ধংসের দ্বার প্রান্তে!!

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥ খুলনার পাইকগাছায় প্রকাশ্যে চিংড়ীতে পুশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকার সর্বোচ্ছ রাজস্ব পেয়ে থাকে সাদা সোনা নামে খ্যাত চিংড়ী থেকে। দেশের মধ্যে সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনা থেকে এ খাতে বেশী টাকা রাজস্ব হিসাবে সরকারের কোষাগারে জমা হয়ে থাকে। কিন্ত আজ সাদা সোনা নামীয় চিংড়ী, বিশেষ করে বাগদা চিংড়ী শিল্প খ্যাতটি ধংসের দ্বার প্রান্তে।
পাইকগাছায় মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার সব মিলিয়ে ৫শতাধীক স্থায়ী মৎস্যডিপো এবং ৫শতাধীক ভ্রাম্যমান মৎস্যডিপো বা ব্যবসায়ী আছে। চিংড়ী বা কাঁকড়ার বাজারজাত করতে হলে সরকারী নিয়মনীতি মোতাবেক ডিপো তৈরী করতে হয়। আর ডিপো তৈরীতে সরকারী ভাবে ২৯টি শর্ত পরিপুর্ন বা বাস্তবায়ন করার পরে তারপর তাকে সরকারী ভাবে ডিপোর লাইসেন্স দেয়া হবে। এধরনের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে সরকারের। এছাড়া নিয়মনীতির মধ্যে থেকে প্রতিবছর ডিপো মালিকদের লাইসেন্স সরকারী নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নবায়নও করতে হয়। আর এর দেখভাল করার দ্বায়িত্বে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বা তার অফিস। গোপন তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, বেশীরভাগ মৎস্যডিপোই সরকারী নিয়মনীতির মধ্যে নেই। ২৯টি শর্ত থাকলেই বা পূরণ হলেই সেই ব্যক্তি ডিপোর লাইসেন্স পাবেন এর আগে নয়। অথচ বেশীরভাগ মৎস্যডিপোই লাইসেন্স বিহীন। কিভাবে বা কি কারনে এই মৎস্যডিপোগুলি চিংড়ি কেনাবেচা করছে তারও কোন ব্যাখ্যা নাই। এদিকে ২০১৯ সালের অর্ধবর্ষ শেষ হতে চললেও অনেক ডিপো মালিক তাদের লাইসেন্স নবায়ন না করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেটাও কিভাবে হচ্ছে সচেতন মহল জানতে চায়।
এসকল ডিপোতে প্রকাশ্যে চিংড়ীতে পুশ করা হচ্ছে। আবার ভ্রাম্যমান মৎস্যডিপো বা ব্যবসায়ীরা স্ব স্ব আবাসস্থলেই চিংড়ীতে পুশ করে দীর্ঘ দিন অব্যহত ভাবে চিংড়ি কেনাবেচা করছে। বর্তমান কোন অভিযান নেই। ইতিপূর্বে প্রায়ই অভিযান চালিয়ে জরিমানা সহ লাইসেন্স বন্দের জোরালো নোটিশ দেয়া হতো। বর্তমানে মৎস্যডিপো ছাড়াও বসত বাড়ীতে ও মৎস্যঘেরের বাসায় বসেও চিংড়ীতে চলছে লাগামহীন পুশিং। কিন্তুু ব্যবস্থা গ্রহনের অভাবে থেমে নেই চিংড়ীতে পুশ। এদিকে বিষয়টি নিয়ে শুধু আইন শৃংখলা নয়, উপজেলা মাসিক সম্নয় সভায়ও ব্যাপক আলোচনা হয়। কিন্ত কোন ডিপোতে হানা দিয়ে তাদের অবৈধ কাজে বাধা দেয়া হয়নি। সম্প্রতি সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার এলাকায় ও বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে প্রকাশ্যে চিংড়ীতে পুশ করছে মৎস্য ব্যাবসায়ীরা। তারা দুর-দুরন্ত থেকে মহিলা ও শিশুদের দিয়ে চিংড়ীতে পুশ করাচ্ছেন মর্মে একাধিক অভিযোগও রয়েছে।
খুলনার সবচেয়ে বড় প্্রাকৃতিক সম্পদ হলো চিংড়ী। আর এ চিংড়ী শিল্পটি সকলের চোখের সামনেই ধংস হতে চললেও কারোর কোন মাথা ব্যাথা নেই রহস্যজনক ভাবে এর কোন প্রতিকারও হচ্ছেনা।
কোন ডিপো মালিক পুশ করলে বা হাতে নাতে ধরতে পারলে তার লাইসেন্স বাতিল সহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এবং পুশকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানা প্রদান করার দাবি সচেতন মহলের। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস এ বিষয় এলাকার সচেতন মহলকে চিংড়ীতে পুশিং রোধে সহযোগীতা এবং এগিয়ে আসার আহবান জানান।

পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, জরিমানা আদায়
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥ পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য রাখাসহ বিভিন্ন অপরাধে পাঁচ ব্যাবসায়ীকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলিয়া সুকায়নার নেতৃত্বে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত পাইকগাছা পৌর বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য রাখাসহ বিভিন্ন অপরাধে সর্বমোট সাড়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এ সময়ে বিভিন্ন অপরাধে মুদি দোকানদার শ্রীপদ সানাকে পাঁচশ টাকা, নিত্যানন্দ মন্ডলকে ১ হাজার, প্রশান্ত সাধুকে ১ হাজার পাঁচশ, উত্তম সাধুকে ১ হাজার পাঁচশ ও সুকুমার সাধুকে ১হাজার টাকাসহ সর্বমোট পাঁচ হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং জব্দকৃত মালামাল ধ্বংস করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মন্ডল, পেশকার দীপংকর প্রসাদ মল্লিক ও পাইকগাছা থানা পুলিশ।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন