টাকার বিনিময়ে সাটিফিকেট নিতে যেয়ে ধরা খেলো কালিগঞ্জের জেলা পরিষদ সদস্য জামু আর ভুয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে হাজতে গেল রেজাউন রনি


ফেব্রুয়ারি ২২ ২০১৯

স্টাফ রিপোটার : টাকা দিয়ে কেনা গিয়েছিল জেলা পরিষদ সদস্য পদ। কিন্তু টাকার বিনিময়ে সাটিফিকেট জোগাড় করতে যেয়েে একজন গেল জেলে। ঘটনারটি ঘটেছে জেলার কালিগজ্ঞ উপজেলাতে। জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার পর একখান ম্যাটিকুলেশনের সাটিফিকেট খুব দরকার হয়ে পড়ে। ইতোপূর্বে একই ভাবে জোগাড় করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপজেলা সভাপতির পদ। আর তার মনে হয়েছিল সাটিফিকেট সংগ্রহ করা সম্ভব । কিন্তু বেরশিক পরীক্ষার দায়িত্বপালনরত কর্মকতা সব ভন্ডুল করে দিলেন । কালিগঞ্জে বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কালিগঞ্জ সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এস,এস,সি পরীক্ষার ১ম দিনে বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য নুরুজ্জামান জামুর পরীক্ষা প্রক্সি দিতে এসে রিপন আহমেদ, ওরফে রেজাউন রনি নামে এক কলেজ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে সোপর্দ করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। শুক্রবার বেলা ১১টার সময় কালিগঞ্জ সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত রিপন আহমেদ ওরফে রেজাউন রনির উপজেলার মধুরেশপুর ইউনিয়নে দেয়া গ্রামের ইমান আলী গাজীর পুত্র এবং কালিগঞ্জ সরকারী কলেজের ডিগ্রী ১ম বর্ষের ছাত্র। সে জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি বাজারগ্রাম রহিমপুর গ্রামের মৃত জহুর আলী মোড়লের পুত্র নুরুজ্জামান জামুর নিকট হতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে এঘটনা ঘটে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য নুরুজ্জামান জামু কালিগঞ্জ সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ আলীকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে উক্ত স্কুলে ভর্তি হয় এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ডের ও কো-অডিনেটর অফিসার আফরোজ আহমেদ স্বাক্ষরিত এডমিট কার্ড বা শিক্ষার্থী কার্ড প্রদান করে। উক্ত কার্ডে নুরুজ্জামান জামুর নাম থাকলেও ছবি ছিল রিপন আহম্মেদের। শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান জামুর পরিবর্তে কার্ড নিয়ে শুক্রবার সকাল ১০টায় পরীক্ষা হলে বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বেলা আনুমানিক ১১টার সময় হল পরিদর্শক উপজেলা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসের সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করা কালে উক্ত প্রক্সি ছাত্র রিপন আহমেদ কে এডমিট কার্ড এবং খাতা সহ গ্রেপ্তার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি তদন্তে সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী রিপন আহমেদ ওরফে রেজাউন রনি কে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে মামলা করার নির্দেশ দেন এবং প্রক্সি ছাত্র রিপন আহমেদ তার কৃতকর্ম লিখিত ভাবে স্বীকার করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কালিগঞ্জ সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কেন্দ্র সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন অত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ আলী এবং হলসুপার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম। কোন রকমে প্রাথমিকের গন্ডি পেরনো এক সময়কার জামায়াতের অর্থ যোগান দাতা এবং বি,এন,পি ক্যাডার নুরুজ্জামান জামু ২০১৩ সালে সহিংসতায় প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও মদদ দাতার হাত থেকে বাচার জন্য সুযোগ বুঝে মামলা, হামলা থেকে বাচতে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ২০১৬ সালে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদ কিনে নেয়। পরে ২০১৮ সালে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগার সেজে জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়। নিজেকে মুর্খতা ঘোঁচাতে মোটা অংকের টাকা দিয়ে কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ আলী এবং অফিস সহকারীকে ম্যানেজ করে ঘুষ বাণিজ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি হয় এবং সেই সুযোগে নুরুজ্জামান জামু সার্টিফিকেটের আশায় নিজে পরীক্ষা না দিয়ে কালিগঞ্জ কলেজের ডিগ্রী ১ম বর্ষের ছাত্র রিপন আহমেদ ওরফে রেজাউন রনি কে মোটা অংকের টাকা দিয়ে এডমিট কার্ডের ছবি বদল করে নুরুজ্জামানের নামে পরীক্ষা দিতে যেয়ে গতকাল সে শ্রীঘরে গেলেও মুল হোতা জেলা পরিষদের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নুরুজ্জামান জামু রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে। বিষয়টি তদন্ত করলে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত মুল হোতারা গ্রেপ্তার হলে শিক্ষাখাত অনেকটি কলঙ্কিত মুক্ত হবে। এব্যাপারে অত্র কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ আলী মাষ্টার এবং হলসুপার সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম এবং হল পরিদর্শক সহকারী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে বলেন যথাযথ আইনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এপ্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিনের নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আমি জেলা প্রশাসন মহোদয়ের নিকট কথা বলে থানায় মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি। এদিকে কলেজ ছাত্র রিপন আহমেদ ওরফে রেজাউন রনি গ্রেপ্তার হওয়ায় তার বাবা ভ্যান চালক ঈমান আলী এবং তার পরিবারের সদস্যরা থানার সামনে এসে ছেলের মুক্তির দাবীতে কান্নাকাটি করছিল। রিপন আহমেদ ওরফে রেজাউন রনির দীর্ঘদিন যাবৎ থানায় পুলিশের সাথে সক্ষতা গড়ে এলাকার নিরীহ লোকজনদের মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে হয়রানি করে আসছিল বলে এলাকাবাসী এ প্রতিনিধি কে জানান। এব্যাপারে জেলা পরিষদের সদস্য ও কালিগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নুরুজ্জামান জামুর নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রথমে টাকা নিয়ে নিউজ না ছাপানোর জন্য অনুরোধ করেন পরে তিনি পরীক্ষার্থী নন বলে এপ্রতিনিধি কে জানান এবং বলেন কে বা কাহারা আমার নাম ব্যবহার করেছে এব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন