দৌরত্ম বেড়েছে ক্লিনিক সমুহের :


জুন ২৪ ২০১৮

 

বর্তমান সিভিল সার্জনের ব্যর্থতায় ভেঙ্গে পড়েছে সাতক্ষীরার চিকিৎসা সেবা,
নিজস্ব প্রতিবেদ: সাতক্ষীরার চিকিৎসা সেবা বর্তমানে সবচেয়ে নৈরাজ্যময়। বর্তমান সিভিল সার্জনের সীমাহীনা দূর্নীতি ও দায়িত্ব পালনের অযোগ্যতার ফলে ক্লিনিক ব্যবসা রমরমা। আর সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা সেবার পরিবর্তে চিকিৎসা বানিজ্যের কবলে পড়ে গাট কাটার শিকার হতে হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের প্রথম থেকে সাতক্ষীরার চিকিৎসা সেবার মান দ্রুত উন্নতির দিকে এগুতে শুরু করে। বিশেষ করে এ এফ এম রুহুল হক স্বাস্থ্য মন্ত্রি হওয়ার পর থেকে সাতক্ষীরার চিকিৎসা সেবার বেশ পরিবর্তন আসে। পরবর্তিতে প্রধানমন্ত্রির প্রতিশ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হওয়ায় চিকিৎসার মান গুনগত ভাবে বৃদ্ধি পায়। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হয়ে উঠে সাধারণ মানুষের প্রধান চিকিৎসা গ্রহনের ঠিকানা। এ সময় গুলোতে সিভিল সার্জন হিসেবে যে সকল ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করেন, তারা প্রায় সকলে তাদের নিজস্ব নৈপুন্যতা দিয়ে চিকিৎসা প্রশাসনকে গতিশীল রাখেন। কিন্তু বর্তমান সিভিল সার্জন দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে সাতক্ষীরার চিকিৎসা সেবার পারদ নিন্মমুখি হতে শুরু করে। তাঁর অযোগ্যতার কারণে যোগ্যতা সম্পন্ন চিকিৎসকরা মেডিকেল কলেজের সাথে যুক্ত হতে থাকেন। ফলে সদর হাসপাতালে সৃষ্টি হয়েছে চিকিৎসক সংকট। সম্প্রতি দুজন শিশু মারা যায় চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা সেবা না পেয়ে। অন্যদিকে এ সুযোগ গ্রহন করেছে ক্লিনিক ও ডায়গোনেস্টিক কেন্দ্র সমুহ। এক্ষেত্রে প্রথম সারীতে আসে ডক্টরস ল্যাব। সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের মূল ঠিকানা এখানে। সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণকারীদের অধিকাংশের প্যাথলজিক্যাল পরিক্ষার জন্য প্রেরন করা হয়ে থাকে ডক্টরস ল্যাবে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডক্টরস ল্যাব সাতক্ষীরা অঘোষিত চিকিৎসা ব্যবসার ডন । মালিক পক্ষের ক্ষতাশীনদের সাথে আত্মিয়তার বদৌলতে তারা পয়সা পাওয়া যাবে না বুঝলে সে রোগির চিকিৎসার প্রতি দেখায় চরম অনিহা। তাদের এ অনিহার শিকার হলের সদ্যপ্রয়াত সকলের প্রিয় ঝর্ণা বু। আর ২০১৩ তে জামাত-বিএনপির সন্ত্রাসী হামলার শিকার ছাত্রনেতা মামুন। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকায় তাদের দুজনের খবর বাইরে আসে। আর যাদের এ সম্পর্ক নেই তাদের অশ্রু নিরবে অনেক্ষেত্রে হুমকি ধামকিতে শুকিয়ে যায়। অবশ্য ল্যাব কতৃপক্ষ ক্ষমা চেয়ে ও রাজনৈতিক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বিষয় দুটির নিস্পত্তি করেন।
বর্তমান সিভিল সার্জন ক্লিনিক গুলো থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা গ্রহন করায় সারা সাতক্ষীরাতে ব্যঙের ছাতার মত ক্লিনিক তৈরী গড়ে উঠেছে যেমন, তেমনি অপচিকিৎসায় শিকার হয়ে ভুগতে হচ্ছে সাধারন চিকিৎসা গ্রহনকারী মানুষদের। প্রাথমিক শর্ত পূরণ না করেও দিব্যি ক্লিনিক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপদে সদর ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক ক্লিনিক। স্থানীয় জনগনের অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদপত্রে তথ্য উঠে আসলেও একটিতে তদন্ত করেছেন এমন উদাহরণ এখনও তৈরী হয়নি।
এতই দায়িত্বহীন বর্তমান সিভিল সার্জন যে শ্যামনগর হাসপাতালের দায়িত্বশীল চিকিৎসের নিজস্ব গাড়ী চাকায় চালনারত অবস্থায় একজন সাধারন মানুষ হত্যা হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্যামনগর হাসপাতালের এ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদকগ্রহনেরও অভিযোগ।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের অব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকটি সভায় হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভাপতি এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
সাতক্ষীরা সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন পূর্ব্বক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করার বিষয়টি সাতক্ষীরার সুধিমহল প্রত্যাশা করে। স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল মনে করে চলতি বছরের শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনের আগেই সাতক্ষীরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য কাটিয়ে চিকিৎসা সেবা জনগনের দোড়গোড়ায় পৌঁছাতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের তৎপর হওয়া জরুরী। অন্যথায় সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের সফলতার বিরুপ বার্ত যাবে।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন