আজ ০১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
সাতক্ষীরায় ঘের ব্যবসায়ীর উপর হামলা;থানায় এজাহার ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি লিয়াকত তালা প্রেসক্লাবের অভিনন্দন সাতক্ষীরায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিরোধ মিছিল ও সমাবেশ ডা. আনিছুর রহমান মৃত্যু বার্ষিকীতে দোয়া অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজে ওয়ারেন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত  দরবাস্তিয়ায় গ্রামবাসীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করলেন ডা: আ: রাজ্জাক ​হযরত আবুবকর সিদ্দীক (রা:) ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় আলিম ১ম বর্ষের পবিত্র ছবক অনুষ্ঠান সাতক্ষীরায় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময় স্ত্রী-সন্তানের কাছ থেকে বন্ডে স্বাক্ষর করিয়ে আন,ভবলীলা শেষ করে দিব ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বদলি নিষ্পত্তির নির্দেশ

লুটপাট অপহরণ ও ৭২ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলার আসামী রতন জামিনে মুক্ত, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০১:১৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৪৮৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: মুক্তিপনের দাবীতে সংঘবদ্ধ অপহরন চক্রের প্রধান, চেক জালিয়াতি, সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িতে প্রবেশ করে লুটপাট এবং কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ইসমাইল হোসেন রতন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সাতক্ষীরা আদালত থেকে তিনি জামিন লাভ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানার চামটা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ইসমাইল হোসেন রতনসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা, জালিয়াতি, অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিপুল অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
সাতক্ষীরার মন্দিরা অয়েল ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মামলার বাদী মনোজ কুমার সরদার মামলা এজাহারে উল্লেখ করেন- সুপরিকল্পিতভাবে তার প্রতিষ্ঠানের মালিক মহাদেব চন্দ্র সাধু ও তার পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে প্রতিনিয়ত।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাতক্ষীরার মাগুরা-গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মহাদেব চন্দ্র সাধু একটি মামলায় কারাগারে অন্তরীন থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আসামিরা প্রথমে তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট গভীর রাতে পুলিশ অভিযানের পরপরই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মহাদেব সাধুর বাড়িতে সন্ত্রাসী কায়দায় লুটপাট চালায়।
রাত প্রায় ৩টার দিকে তারা বাড়ির দোতলায় উঠে বসতঘরে ঢুকে আলমারির তালা খুলে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্যাংকের স্বাক্ষরিত চেকসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে মহাদেব সাধুর মেয়ের প্রায় ১০/১২ আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের দুল এবং তার স্ত্রীর এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইনসহ অন্যান্য সামগ্রী ছিল।
পরে ওই চেকগুলো ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে উত্তরা ব্যাংক পিএলসি ও অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি থেকে মোট ৭২ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেক ক্লিয়ারেন্সের জন্য মহাদেব সাধুর মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে আসামি ইসমাইল হোসেন রতন নিজেকে মহাদেব সাধু পরিচয় দিয়ে ফোনে অনুমোদন দেন। ফলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সরল বিশ্বাসে চেকগুলো নগদায়ন করে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া পূবালী ব্যাংকের আরেকটি চেকে ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা লিখে সেটি ডিজঅনার করিয়ে নতুন করে মামলার ফাঁদ তৈরির অপচেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার বাদী মনোজ কুমার সরদার জানান, মহাদেব চন্দ্র সাধু গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ঘটনার বিষয়টি সামনে আসে। পরে আসামিদের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তারা নানা টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করে এবং আইনি ব্যবস্থা নিলে খুন-জখমসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রধান আসামি ইসমাইল হোসেন রতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অপহরণ করে নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
এদিকে এই প্রতারক ইসমাইল হোসেন রতনের জামিন পাওয়ার পর ঢাকা থেকে আনা তার আইনজীবী আল মামুন রাসেল মহাদেব চন্দ্র সাধু সর্ম্পকে জুলাই পরবর্তী বিষয় নিয়ে যে সমস্ত তথ্য উপস্থাপন করেছেন তা বানোয়াট। মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে কয়েকটি চেক ডিজঅনারের মামলা রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এতো গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও প্রধান আসামির জামিনে মুক্তি পাওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সাতক্ষীরায় ঘের ব্যবসায়ীর উপর হামলা;থানায় এজাহার

লুটপাট অপহরণ ও ৭২ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলার আসামী রতন জামিনে মুক্ত, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার

আপডেট সময়: ০১:১৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: মুক্তিপনের দাবীতে সংঘবদ্ধ অপহরন চক্রের প্রধান, চেক জালিয়াতি, সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িতে প্রবেশ করে লুটপাট এবং কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ইসমাইল হোসেন রতন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সাতক্ষীরা আদালত থেকে তিনি জামিন লাভ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানার চামটা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ইসমাইল হোসেন রতনসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা, জালিয়াতি, অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিপুল অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
সাতক্ষীরার মন্দিরা অয়েল ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মামলার বাদী মনোজ কুমার সরদার মামলা এজাহারে উল্লেখ করেন- সুপরিকল্পিতভাবে তার প্রতিষ্ঠানের মালিক মহাদেব চন্দ্র সাধু ও তার পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে প্রতিনিয়ত।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাতক্ষীরার মাগুরা-গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মহাদেব চন্দ্র সাধু একটি মামলায় কারাগারে অন্তরীন থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আসামিরা প্রথমে তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট গভীর রাতে পুলিশ অভিযানের পরপরই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মহাদেব সাধুর বাড়িতে সন্ত্রাসী কায়দায় লুটপাট চালায়।
রাত প্রায় ৩টার দিকে তারা বাড়ির দোতলায় উঠে বসতঘরে ঢুকে আলমারির তালা খুলে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্যাংকের স্বাক্ষরিত চেকসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে মহাদেব সাধুর মেয়ের প্রায় ১০/১২ আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের দুল এবং তার স্ত্রীর এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইনসহ অন্যান্য সামগ্রী ছিল।
পরে ওই চেকগুলো ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে উত্তরা ব্যাংক পিএলসি ও অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি থেকে মোট ৭২ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেক ক্লিয়ারেন্সের জন্য মহাদেব সাধুর মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে আসামি ইসমাইল হোসেন রতন নিজেকে মহাদেব সাধু পরিচয় দিয়ে ফোনে অনুমোদন দেন। ফলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সরল বিশ্বাসে চেকগুলো নগদায়ন করে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া পূবালী ব্যাংকের আরেকটি চেকে ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা লিখে সেটি ডিজঅনার করিয়ে নতুন করে মামলার ফাঁদ তৈরির অপচেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার বাদী মনোজ কুমার সরদার জানান, মহাদেব চন্দ্র সাধু গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ঘটনার বিষয়টি সামনে আসে। পরে আসামিদের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তারা নানা টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করে এবং আইনি ব্যবস্থা নিলে খুন-জখমসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রধান আসামি ইসমাইল হোসেন রতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অপহরণ করে নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
এদিকে এই প্রতারক ইসমাইল হোসেন রতনের জামিন পাওয়ার পর ঢাকা থেকে আনা তার আইনজীবী আল মামুন রাসেল মহাদেব চন্দ্র সাধু সর্ম্পকে জুলাই পরবর্তী বিষয় নিয়ে যে সমস্ত তথ্য উপস্থাপন করেছেন তা বানোয়াট। মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে কয়েকটি চেক ডিজঅনারের মামলা রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এতো গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও প্রধান আসামির জামিনে মুক্তি পাওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।