আজ ০৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার দল শ্যামনগর উপজেলা কমিটি অনুমোদন ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া সুষ্ঠু নির্বাচনই একমাত্র এজেন্ডা আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি জেলা প্রশাসকের বৈকারী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল সাতক্ষীরা ২ আসনে জনগণের আস্থার প্রতীক বিএনপির ধানের শীষ সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা সাতক্ষীরা স্কাউটস ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে এক কোটি টাকা বরাদ্দ বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুর রউফ
আব্দুর রউফকে ঘিরে তৃণমূলে নতুন সাড়া

সাতক্ষীরা-০২ আসনে ধানের শীষ, ঐক্যবদ্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা

  • আব্দুর রহমান
  • আপডেট সময়: ০৬:৪৭:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৪১ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি

আব্দুর রউফকে ঘিরে তৃণমূলে নতুন সাড়া — সমাবেশ, ঐক্য বৈঠক ও সাংগঠনিক সক্রিয়তায় জমে উঠছে নির্বাচন

সাতক্ষীরা-০২ আসন (সাতক্ষীরা সদর–দেবহাটা) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। বিশেষ করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুর রউফকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভাঙাগড়া ও নানা চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে এবার যেন একটি দৃঢ় ঐক্যের দিকে এগোচ্ছে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি।

ঐক্যের বার্তায় শুরু রাজনীতির নতুন সমীকরণ

সম্প্রতি জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রার্থী আব্দুর রউফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল আলিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক তাসকিন আহমেদ চিশতি।
সাক্ষাতে যোগ দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তারিকুল হাসান।
সকলেই এক মত পোষণ করেন—সাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষকে জয়ী করতে দলীয় ঐক্যই হবে প্রধান শক্তি।

এই বৈঠককে জেলা বিএনপির ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ গত কয়েক বছর ধরে নানা মতবিভেদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির থাকলেও নির্বাচনের মুখে শীর্ষ নেতৃত্বের এমন ঘনিষ্ঠতা মাঠপর্যায়ে নতুন আস্থা তৈরি করছে।

জনসমাবেশে মানুষের ঢল, কর্মীদের উচ্ছ্বাস

নির্বাচনী মাঠ উষ্ণতা পায় ২৭ নভেম্বর বিকেলে সাতানী ভাদড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে। ঘোনা, বৈকারী, কুশখালী, বাঁশদহা, আগরদাঁড়ী ও শিবপুর ইউনিয়নের নেতাকর্মী—সমর্থকদের অংশগ্রহণে সমগ্র এলাকা নির্বাচনী উৎসবে পরিণত হয়।

সভাপতিত্ব করেন কুশখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএম আব্দুর রাইহান।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আব্দুর রউফ বলেন—
“এই আসনের মানুষের গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণই আমার রাজনীতির প্রতিশ্রুতি।”

মঞ্চে ছিলেন জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা—আবু জাহিদ ডাবলু, আবুল হাসান হাদী, শেখ তারিকুল হাসান, হাবিবুর রহমান হাবিবসহ জেলা জজ কোর্টের জিপি অসীম কুমার মণ্ডল।
তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—

  • তৃণমূলে দলের পুনর্গঠন
  • কেন্দ্রীয় নির্দেশনার প্রতি আনুগত্য
  • নির্বাচনমুখী কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা
  • ভোটারদের কাছে গণতন্ত্রের বার্তা পৌঁছে দেওয়া

ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, তাঁতীদল ও শ্রমিকদলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ ছিল প্রাণবন্ত।

তৃণমূলে আব্দুর রউফের গ্রহণযোগ্যতা

মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়—
আব্দুর রউফ দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ। তার সহজ-সরল ব্যবহার, এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ এবং পূর্বের সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে “গণমানুষের নেতা” হিসেবেই বর্ণনা করছেন।

বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সমন্বয়–সংযোগ, সাম্প্রতিক সময়ের নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে নিয়মিত প্রচারণা এবং গ্রামাঞ্চলে সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়ায় তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নির্বাচনের প্রত্যাশা: দলীয় ঐক্যই বড় শক্তি

নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়—
এবারের নির্বাচনে বিএনপি যদি শক্তিশালী মাঠ ব্যবস্থাপনা করতে পারে, তাহলে সাতক্ষীরা-২ আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।

সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ বলেন,
“এখন আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি—ঐক্য। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে বিজয় সময়ের ব্যাপার।”

জেলা যুবদলের সাবেক নেতা আইনুল ইসলাম নান্টা বলেন,
“ধানের শীষের পক্ষে গ্রামেগঞ্জে যে সাড়া মিলছে, তা অভূতপূর্ব।”

রাজনীতির ভবিষ্যৎ চিত্র

সাতক্ষীরা-২ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এবারও ব্যতিক্রম নয়।
তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূলে সক্রিয়তার কারণে ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুর রউফ গুরুত্ব পাচ্ছেন।

সবার মুখে একটাই কথা— “ঐক্য থাকলে জয় আসবেই।”

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ

আব্দুর রউফকে ঘিরে তৃণমূলে নতুন সাড়া

সাতক্ষীরা-০২ আসনে ধানের শীষ, ঐক্যবদ্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা

আপডেট সময়: ০৬:৪৭:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

আব্দুর রউফকে ঘিরে তৃণমূলে নতুন সাড়া — সমাবেশ, ঐক্য বৈঠক ও সাংগঠনিক সক্রিয়তায় জমে উঠছে নির্বাচন

সাতক্ষীরা-০২ আসন (সাতক্ষীরা সদর–দেবহাটা) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। বিশেষ করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুর রউফকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভাঙাগড়া ও নানা চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে এবার যেন একটি দৃঢ় ঐক্যের দিকে এগোচ্ছে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি।

ঐক্যের বার্তায় শুরু রাজনীতির নতুন সমীকরণ

সম্প্রতি জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রার্থী আব্দুর রউফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল আলিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক তাসকিন আহমেদ চিশতি।
সাক্ষাতে যোগ দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তারিকুল হাসান।
সকলেই এক মত পোষণ করেন—সাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষকে জয়ী করতে দলীয় ঐক্যই হবে প্রধান শক্তি।

এই বৈঠককে জেলা বিএনপির ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ গত কয়েক বছর ধরে নানা মতবিভেদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির থাকলেও নির্বাচনের মুখে শীর্ষ নেতৃত্বের এমন ঘনিষ্ঠতা মাঠপর্যায়ে নতুন আস্থা তৈরি করছে।

জনসমাবেশে মানুষের ঢল, কর্মীদের উচ্ছ্বাস

নির্বাচনী মাঠ উষ্ণতা পায় ২৭ নভেম্বর বিকেলে সাতানী ভাদড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে। ঘোনা, বৈকারী, কুশখালী, বাঁশদহা, আগরদাঁড়ী ও শিবপুর ইউনিয়নের নেতাকর্মী—সমর্থকদের অংশগ্রহণে সমগ্র এলাকা নির্বাচনী উৎসবে পরিণত হয়।

সভাপতিত্ব করেন কুশখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএম আব্দুর রাইহান।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আব্দুর রউফ বলেন—
“এই আসনের মানুষের গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণই আমার রাজনীতির প্রতিশ্রুতি।”

মঞ্চে ছিলেন জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা—আবু জাহিদ ডাবলু, আবুল হাসান হাদী, শেখ তারিকুল হাসান, হাবিবুর রহমান হাবিবসহ জেলা জজ কোর্টের জিপি অসীম কুমার মণ্ডল।
তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—

  • তৃণমূলে দলের পুনর্গঠন
  • কেন্দ্রীয় নির্দেশনার প্রতি আনুগত্য
  • নির্বাচনমুখী কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা
  • ভোটারদের কাছে গণতন্ত্রের বার্তা পৌঁছে দেওয়া

ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, তাঁতীদল ও শ্রমিকদলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ ছিল প্রাণবন্ত।

তৃণমূলে আব্দুর রউফের গ্রহণযোগ্যতা

মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়—
আব্দুর রউফ দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ। তার সহজ-সরল ব্যবহার, এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ এবং পূর্বের সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে “গণমানুষের নেতা” হিসেবেই বর্ণনা করছেন।

বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সমন্বয়–সংযোগ, সাম্প্রতিক সময়ের নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে নিয়মিত প্রচারণা এবং গ্রামাঞ্চলে সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়ায় তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নির্বাচনের প্রত্যাশা: দলীয় ঐক্যই বড় শক্তি

নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়—
এবারের নির্বাচনে বিএনপি যদি শক্তিশালী মাঠ ব্যবস্থাপনা করতে পারে, তাহলে সাতক্ষীরা-২ আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।

সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ বলেন,
“এখন আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি—ঐক্য। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে বিজয় সময়ের ব্যাপার।”

জেলা যুবদলের সাবেক নেতা আইনুল ইসলাম নান্টা বলেন,
“ধানের শীষের পক্ষে গ্রামেগঞ্জে যে সাড়া মিলছে, তা অভূতপূর্ব।”

রাজনীতির ভবিষ্যৎ চিত্র

সাতক্ষীরা-২ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এবারও ব্যতিক্রম নয়।
তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূলে সক্রিয়তার কারণে ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুর রউফ গুরুত্ব পাচ্ছেন।

সবার মুখে একটাই কথা— “ঐক্য থাকলে জয় আসবেই।”