শহীদ জায়েদার স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত


জুলাই ২৭ ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : কালিগঞ্জে শহীদ জায়েদার ২১ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ভুমিহীন সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে জায়েদা নগর মাঠে শনিবার (২৭ জুলাই) বিকাল ৩ টায় কালিগঞ্জ দেবহাটা ভুমিহীন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহাব সরদারের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় টেলিফোনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা ৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ আফম রুহুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহম্মেদ, ভুমিহীন সংগ্রাম কমিটির জেলা সদস্য সচিব ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ্যাডঃ আবুল কালাম আজাদ, সাবেক পিপি এ্যাডঃ ওসমান গনি, কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী, জেলা পরিষদের সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আসাদুর রহমান সেলিম, বাসদ জেলা শাখার সংগঠক আজাদ হোসেন বেলাল, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, ভুমিহীন উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুস সামাদ, উত্তরণের মনিরুজ্জামান জোয়ার্দার, আশাশুনীর ভুমিহীন নেতা এস এম ইয়াহিয়া ইকবাল প্রমুখ। স্মরণসভায় বক্তারা ২৭ জুলাই কে ভূমিহীন দিবসের দাবি জানিয়ে বলেন, শহীদ জায়েদার রক্তের বিনিময়ে বাবুরাবাদে ৯টি গ্রামে হাজারো মানুষ তাদের মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছে। ১৯৯৮ সালে সালের পূর্বে ভূমিহীনদের অবস্থা খুবই নাজুক ছিলো। আজ আপনাদের পোষাকের পরিবর্তন হয়েছে, খাদ্যাভাসের পরিবর্তন হয়েছে। অথচ শহীদ জায়েদার কোন পরিবর্তন হয়নি। যে নিজের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল খাস জমি রক্ষা করার জন্য। তার স্মরণসভায় যেভাবে মানুষের উপস্থিত থাকার কথা ছিলো সেভাবেন থাকেননি।
আজ আপনারা জমির দলিল পেয়েছেন। আপনারা জানেন দলিল পাওয়ার পূর্বের ইতিহাস। শহীদ জায়েদার আত্মত্যাগের ইতিহাস। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম জানে না। আপনাদের উচিত জায়েদার আত্মত্যাগ সম্পর্কে পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো। যাতে যুগ যুগ ধরে শহীদ জায়েদা সকল ভূমিহীনদের মাঝে বেঁচে থাকতে পারে। তা যদি না করে তাহলে কেউ আর এধরনের আন্দোলনে এগিয়ে আসবে না। ভূমিহীন আন্দোলনের প্রাণ পুরুষ সাইফুল্লাহ লস্কর কে হত্যা করা হয়েছে। তাকে কারা হত্যা করেছে। এখান থেকে বিতাড়িত ভূমিদস্যুরাই চাঁদাতুলে তাকে হত্যা করেছে। এছাড়াও এড. আব্দুর রহিম, এড. আব্দুর রহিম, এড. ফিরোজ, আজিজসহ অনেক নেতা নিজেদের জীবনের মায়া না করে ভূমিহীন আন্দোলন করেছে।
আজ কষ্ট লাগে আমরা আন্দোলন করেছিলাম সকল ভূমিহীনদের জন্য। অথচ ভূমিহীন আন্দোলনটি বাবুরাবাদ, কালাবাড়িয়া, ভাঙ্গনমারি, ঝায়ামারি, বৈরাগির চক চিংড়াখালী ছাড়া অন্য কোথায় ছড়িয়ে পড়েনি। সে সময় আপনারা লড়াই করেছিলেন খাস জমি রক্ষার জন্য। কিন্তু সেই লড়াই সংগ্রাম কেন এখানে সীমাবদ্ধ থাকবে। এ আন্দোলনকে জেলা ব্যাপি আপনারা ছড়িয়ে দিতে পারেননি। এ লড়াই শুধু ভূমিহীণদের পুনর্বাসনের লড়াই না। এ আন্দোলন ভূমিহীনরা যাতে জমির মালিক হতে পারে সেই লড়াই। আপনাদের উচিত শহীদ জায়েদা চেতনা কে ধারণ করে ভূমিহীনদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা। এছাড়া ভূমিহীণ আন্দোলনে সাথে জড়িত থাকা সকল মরহুম নেতাদের স্মরণসভা করার আহ্বান জানান বক্তারা।
শাহাদৎ বার্ষিকীতে কালিগঞ্জ ও দেবহাটার ভুমিহীন সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগন অংশগ্রহন করেন। স্মরণসভার পুর্বে যোহরের নামাজবাদ জায়েদানগর জামে মসজিদে শহীদ জাহেদাসহ ভুমিহীন আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী প্রয়াত নেতাদের রূহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন