আশাশুনির খবর


জুন ১১ ২০১৯

বুধহাটায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে গ্রাহকরা অতিষ্ঠ

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলা বিশেষ করে বুধহাটা ফেডারে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা সীমানাহীন লোডশেডিং-এর যাতাকলে পড়ে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিবারাত্র অসংখ্যবার বিদ্যুতের আসাযাওয়ার কবলে পড়ে মানুষ কষ্টকর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে। সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় আশাশুনি উপজেলার সকল এলাকাসহ পাশ^বর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে আশাশুনি সাব-স্টেশনের মাধ্যমে। সম্প্রতি এই স্টেশনের আওতায় থাকা লাইনগুলোর গ্রাহকরা ভোগান্তিতে রয়েছে। দিবারাত্র অসংখ্যবার বিদ্যুতের আনাগোনায় জর্জরিত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে গ্রাহকরা। বিশেষ করে বুধহাটা ফেডারের গ্রাহকরা চরম বিপত্তিতে রয়েছে। অন্য ফেডারে বিদ্যুতের সরবরাহ কিছুটা সহনীয় থাকলেও বুধহাটা ফেডারের গ্রাহকরা অনেক বেশী বঞ্চিত হয়ে আসছে। এলাকার গ্রাহকদের বলতে শোনা যায়, বুধহাটা ফেডারের লোডশেডিং এর পরিমান অন্য ফেডারগুলোর তুলনায় অনেক বেশী। সংগত কারনে গ্রাহকরা বুধহাটা ফেডারের প্রতি বিমাতা সুলভ আচরণের অভিযোগ করে থাকে। ফজরের আজানের সময় থেকে দিনের লোডশেডিং শুরু হয় বুধহাটা ফেডারে। এরপর সকাল, দুপুর, বিকালে অসংখ্যবার বিদ্যুতের নিয়মিত আগমন প্রস্থানের ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এরপর সন্ধ্যার শুরুতে রাতের লোডশেডিং শুরু হয়। আর গভীর রাত পর্যন্ত নিয়মিত এ অবস্থা চলতে থাকে। কোন কোন দিন রাত্র ১২ টার পরও লোডশের্ডির দুর্ভাগ্যবান হতে দেখা যায় বুধহাটা ফেডারের গ্রাহকদের। এছাড়া মেঘ উঠলে, বৃষ্টি নামলে, ঝড় শুরু হলে বিদ্যুতের প্রস্থান চিরচেনা বিষয়। এনিয়ে প্রশ্ন করার কোন সুযোগ নেই গ্রাহকদের। একবার বিদ্যুৎ গেলে এবং কোন রকমে ঝড় উঠলে আর কখন বিদ্যুতের আগমন ঘটবে বলা মুশকিল। বিদ্যুতের অত্যাচারে কেবল আবাসিক গ্রাহকদেরকে ভোগাচ্ছে তা নয়, বরং ব্যবসা বাণিজ্য ডগে উঠতে বসে অনেক সময়। কল কারখানা, বিদ্যুৎ চালিত খুবই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, মেশিন বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট কাজের সাথে জড়িতরা এবং বিশেষ করে কাজে আসা লোকজনের ভোগান্তির অন্ত থাকেনা। বুধহাটা ফেডারে উপজেলার বৃহত্তর মোকাম বুধহাটা বাজারসহ অনেকগুলো বাজার ও মোকাম রয়েছে। রয়েছে বহু কলেজ, স্কুল, মাদরাসা, ব্যাংক-বীমা, এনজিওসহ অনেক অফিস ও প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুতের অভাবে চরম বিপাকে পড়তে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের সাথে জড়িত শিক্ষার্থীরা ও শিক্ষকবৃন্দ গরমে ঘর্মাক্ত হয়ে কঠিন বাস্তবতায় পড়ে থাকেন। বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকবে, তাতে কারো প্রশ্ন নেই, কিন্তু বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি ও বিমাতা সুলভ আচরণের অভিযোগ সত্যি ভাববার বিষয়। তাছাড়া দিবারাত্র এভাবে এক নাগাড়ে বিদ্যুতের প্রস্থান, ঘন ঘন বিদ্যুতের যাওয়া-আসা, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় প্রস্থান গ্রাহকদেরকে অশান্তিতে ফেলে থাকে। পল্লী বিদ্যুতের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে গ্রাহক ভোগান্তির হাত থেকে আশাশুনিবাসী, বিশেষ করে বুধহাটা ফেডারের গ্রাহকদেরকে নিস্কৃতিদানে সদয় হবেন এদাবী ভুক্তভোগি সকলের।

আশাশুনিতে কর্মসৃজন কর্মসূচির কাজ পরিদর্শণ

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মসৃজন কর্মসূচির কাজ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। সোমবার ও মঙ্গলবার তিনি বিভিন্ন স্পটে গিয়ে শ্রমিকদের কাজ তদারকি করেন। এলাকার অসহায় মানুষদেরকে কাজের মধ্যে নিয়ে তাদের মজুরি প্রদানের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা দানের লক্ষ্যে ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব মানুষ কাজ করতে অনেকটা কাবু হয়ে গেছে, যাদের কাজের সুযোগ কম, এমন অসহায় দরিদ্র মানুষদেরকে কাজের মধ্যে এনে এলাকার উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের পরিবারকে অর্থ কষ্ট থেকে রক্ষার জন্য কর্মসূচির আওতায় কাজ করানো হচ্ছে। এসব কাজের অগ্রগতি, কাজের সাথে জড়িত শ্রমিকদের উপস্থিতি, এলাকার উন্নয়নে কতটুকু কাজে আসছে তা অবলোকন, তদারকি ও সার্বিক খোজ খবর নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাশুনি সদর ও শোভনালী ইউনিয়নে সরেজমিন পরিদর্শনে যান। তিনি কাজের সাথে জড়িত শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন এবং সার্বিক বিষয় সম্পর্কে খোজখবর নেন। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সোহাগ খান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন, শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক ম মোনায়েম হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক বুলু’র ভাইয়ের দাফন সম্পন্ন

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের কাপসন্ডা গ্রামের সমাজ সেবক এস এম সাহাজুদ্দিন সানা (৬৫) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি অইন্না ইলায়হি রাজেউন)। মঙ্গলবার মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কাপসন্ডা গ্রামের মরহুম জহির উদ্দিন সানার পুত্র ও সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন বুলুর ভাই সাহাজুদ্দিন সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর গ্রামের মেহদী বাগে বসবাস করেন। সেখানে সোমবার দিবাগত রাতে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে রাতেই তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। কাশেমপুর জামে মসজিদ চত্বরে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরহুমের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে কাপসন্ডা ঈদগাহ ময়দানে ২য় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন, মাওঃ মুনছুর আহমেদ। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃতকালে তিনি স্ত্রী, ১ পুত্র ও ১ কন্যাসহ বহু আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। আগামী রোববার বাদ জোহর কাপসন্ডা জামে মসজিদে মরহুমের রূহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়ানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
আশাশুনি দয়ারঘাট বেড়ী বাঁধ পরিদর্শন করলেন ইউএনও

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি সদরে ভয়াবহ ভাঙ্গনের মুখে পতিত বেড়ী বাঁধ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। আশাশুনি সদরের জেলেখালী, দয়ারঘাট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘ বেড়ী বাঁধটি যুগ যুগ ধরে ভাঙ্গন কবলিত হয়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতি বছর কোন না কোন স্থানে পানি ওভার ফ্লো বা কিছু অংশ ভেঙ্গে ভিতরে পানি ঢোকে বা আতঙ্কের কারণ হয়ে দেখা দেয়। বাঁধটি রক্ষার জন্য স্থায়ী কোন পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি। প্রতি বছর সামান্য কিছু কাজ করা হলেও তেমন কোন উপকারে আসেনি। বর্তমানে বাঁধের একটি বড় অংশের অবস্থা খুবই হুমকীতে আছে। কোথাও কোথাও পৌনে ১ হাত বা একহাত মত বাঁধ টিকে আছে। পুরো বাঁধটি খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ও ভয়াবহ বাঁধটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। তিনি বাঁধের অবস্থা দেখে শংকিত হয়ে পড়েন। বাঁধ রক্ষার্থে স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ইতিপূর্বেও অবহিত করা হয়েছে, আবার ডিসি মহোদয়ের মাধ্যমে এমপি মহোদয়সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সোহাগ খান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কুল্যায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত-৫

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলার কুল্যায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে কুল্যা সোনালী সিনেমা হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কুল্যা সোনালী সিনেমা হল এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে ফরিদ হোসেন ও তার বোন ফিরোজা বেগম একত্রে বাড়ীর পাশে একটি মৎস্য ঘের পরিচালনা করে আসছিলেন। তাদের মৎস্য ঘেরটিতে একটি বৈদ্যুতিক পাম্প দিয়ে পানি সরবরাহ করা হয়। সম্প্রতি তাদের মিটারের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য ফিরোজা বেগম তার ভাই ফরিদ হোসেনের কাছে বিলের ৫শত টাকা চাইলে সে দিতে অস্বীকার করে এবং গালি গালাজ করতে থাকে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ফরিদ হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরোজা বেগমকে মারপিট শুরু করে। ফিরোজা বেগমের স্বামী মোঃ কামরুজ্জামান ও ছেলে সোহাগ হোসেন ঠেকাতে গেলে তারা সহ অপর পক্ষের ফরিদ হোসেন আহত হয়েছে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিলো বলে জানাগেছে।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন