জেলা পর্যায়ে মাল্টি সেক্টরাল পুষ্টি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত


মে ১২ ২০১৯


শ্যামনগর ব্যুরো ঃ  গতকাল সকাল ১১.০০ ঘটিকায় জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে  সিভিল সার্জন অফিস সাতক্ষীরা’ এর সভা কক্ষে পুষ্টি বিষয়ক এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদরফিকুল ইসলাম।  বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন  ইউনিসেফ খুলনার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা- ডা: এস এম নাজমুল আহসান,  উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, সাতক্ষীরা ডা: রওশন আরা জামান।  সভায় নবযাত্রার পক্ষ থেকে সংক্ষেপে প্রকল্পের সার্বিক কর্মকান্ড তুলে ধরেন ,শ্যামনগরের ফিল্ডঅফিস ম্যানেজার রবার্টসন সরকার, এবং প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী ‘মা, শিশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টি’ সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকান্ড উপস্থাপন করেন ডা: মুশতাকআহমেদ, ম্যানেজার, মা, শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মসূচী, নবযাত্রা।  মা, শিশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ  কাজ গুলোর মধ্যে রয়েছে দরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারীমা’য়েদের জন্য শর্তাধীন টাকা প্রদান, শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশ পর্যবেক্ষন, প্রশিক্ষণের মাধ্মে সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীর দক্ষতা উন্নয়ন, উঠান বৈঠক ও বাড়ি পর্যায়ে ভিজিটের মাধ্যমে মা, শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টিসম্পর্কেউদ্বুদ্ধকরণ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বার্তা প্রদান ইত্যাদি। বক্তারা  সরকারী বিভিন্ন কর্মসূচী ও দপ্তরের সাথে মাল্টি সেক্টরাল সমন্বয়ের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায় মা, শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি সম্পর্কিত নবযাত্রার বিভিন্ন কর্মকান্ড ফলপ্রসুভাবে বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সভায় অতি-দরিদ্র মায়েদের জন্য প্রসব-পূর্ববর্তী সেবার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয়, এ ধরনের সেবা প্রদানে ‘মা ও শিশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়নে’ নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও ফলো-আপের প্রয়োজন রয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে ডা: মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন- “উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও এন.জি.ও.  কাজ করেন, কিন্তুসবার মধ্যে সমন্বয় সাধনের কোন বিকল্প নেই। ভবিষ্যতে সুন্দর ভাবে কর্মকান্ড পরিকল্পনা করার জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন,  পুষ্টির অবস্থা উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ করার সাথে সাথে প্রতি মাসে আয়োজিত বিভিন্ন সভায় যাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয় সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহন করতে আমরা বদ্ধ পরিকর।”

ডা: নাজমুল আহসান বলেন, “অত্র এলাকায় স্টান্টিংহার অনেক বেশী। একই সাথে বাল্য বিয়ের সংখ্যা ও অনেক বেশী। স্টান্টিং এর হারের সাথে বাল্যবিবাহের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তাই  এই ধরনের বিয়ের হার কমাতে হবে। চরম অপুষ্টি দূর করতে হাসপাতাল গুলোতে যথাযথ ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাছাড়া, পুষ্টি কার্যক্রমের ব্যাপক প্রসারের জন্য একটি কার্যকর মডেল তৈরীর ক্ষেত্রে এন.জি.ও.এবং উন্নয়ন সংস্থা সমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।” পুষ্টি নিশ্চিত করনে জেলা পর্যায়ে একটি ফোরাম গঠনের উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

উ ল্লেখ্য আমেরিকান সরকারের আন্তজার্তিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) এরফুড ফর পিস (টাইটেল ২) খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের অর্থায়নে নবযাত্রা একটি পাঁচ বছর মেয়াদী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যা ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে  শুর হয়েছে এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর নেতৃত্বে নবযাত্রা প্রকল্প অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলীয় খুলনা জেলার দাকোপ ও কয়রা এবং সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও সহনশীলতার উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে ৮,৫৬,১১৬ জন উপকারভোগীর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী, যেমন: মা, শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি, ওয়াটারও স্যানিটেশন, কৃষি ও বিকল্প জীবিকায়ন, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারী-পুরুষ সাম্য, এবং সুশাসন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন