বুধহাটার পাইথালীতে সরকারী পুকুর থেকে বালু উত্তোলন হুমকির মুখে বাজার, সড়ক ও সরকারী স্থাপনা


মে ৪ ২০১৯


আশাশুনি প্রতিনিধি :
বুধহাটা ইউনিয়নের পাইথালী বাজারের সরকারী পুকুর থেকে অবৈধ্য ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পাইথালী বাজার, সরকারী এজিইডি সড়ক ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন হুমকির মুখে আছে। বালু উত্তোলনের ফলে এসকল এলাকা ও প্রতিষ্ঠান যে কোন সময় ধ্বসে পড়তে পারার আশংকা করছেন এলাকার সচেতন মহল
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের পাইথালী বাজারের সরকারী জেলা পরিষদ পুকুরের ভূ-গর্ভ থেকে অবৈধ্য ভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বালু উত্তোলনের ফলে পাইথালী বাজার, সরকারী এজিইডি সড়ক ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন হুমকির মুখে আছে। বালু উত্তোলনের ফলে এসকল এলাকা ও প্রতিষ্ঠান যে কোন সময় ধ্বসে পড়তে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকার সচেতন মহল। জানাগেছে পাইথালী বাজারের সরকারী জেলা পরিষদ পুকুরের ভূ-গর্ভ থেকে অবৈধ্য ভাবে বালু উত্তোলন করে পুকুরের দক্ষিণ পাশে স্থানীয় সুব্রত কুমার দে’র একটি গভীর গর্ত বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে ভরাট করছে মেশিন মালিক ও ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়রা জানান, এর আগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রায় একমাস আগে বাবু গোহ এবং উৎপদ নন্দি বাশ বাগান, দুলাল দে’র পুকুর ও আশ পাশের বহু পুকুর, খানা, নিচু এলাকা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে উক্ত সরকারী পুকুর থেকে বালু উত্তোলন করে ভরাট করা হয়েছে। শনিবার বিকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের মধ্যে একটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধ্য ভাবে বালু উত্তোলন করছে। সরকারী নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ড্রেজার মেশিন মালিক বহাল তবিয়তে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভূ-গর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে সদ্য খননকৃত জেলা পরিষদের পুকুরের চার পাশের ঢালের মাটি ধ্বস নেমে পুকুরে পড়ছে। পুকুরের পশ্চিম পাশে একটি সরকারী এলজিইডি সড়ক, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদসহ পুকুরের আশ পাশে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। যেখানে কিনা বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৬২নং আইনে সু-স্পষ্ট ভাবে লেখা আছে, পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ হইতে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাইবে না। সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি পাকা স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন ১ (এক) কিলোমিটার সীমানার মধ্যে থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না। বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধান কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অমান্য করিলে বা এই আইন বা বিধান লংঘন করিলে অথবা বালু বা মাটি উত্তোলনের জন্য বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করিলে সেই ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট (এক্সিকিউটিভ বডি) অনূর্ধ্ব ২(দুই) বৎসর কারাদন্ড বা সর্বনিম্ন ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা হইতে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করিবেন। কিন্তু উন্মুক্ত সরকারী পুকুর থেকে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা এবং প্রশাসনকে নিরব ভূমি পালন করার দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়িিট নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে বুধহাটা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা মনিরুজ্জামান বলেন, কিছুদিন আগে অভিযোগ পেলে পুকুর থেকে বালু উত্তোলন বন্দ করে দিয়েছিলাম। যদি তারা নির্দেশ অমান্য করে বালু উত্তোলন করে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন