বনরক্ষাকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সুন্দরবন উজাড়!


এপ্রিল ২১ ২০১৯

 নিজস্ব প্রতিনিধি: শুনতে অবাক লাগলেও বনরক্ষার দায়িত্বে থাকা পশ্চিম সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনি ষ্টেশন অফিসার (এসও) কবির উদ্দিনের নেতৃত্বে উজাড় হয়ে যাচ্ছে সুন্দরবন। তার প্রতক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বিক্রি হচ্ছে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ গরান কাঠ। আবার তিনিই টাকার বিনিময়ে দায়িত্ব নিয়ে ট্রলারের মাধ্যমে টেনে জেলেদের ইর্ঞ্জিনচালিত নৌকা পৌছে দিচ্ছেন গহীন বনে ও অভয়ারণ্য এলাকায়। কিন্তু বিধি অনুযায়ী সুন্দরবনের গহীনে ইঞ্জিনচালিত নৌকার প্রবেশ নিষেধ।
এছাড়াও এসও কবিরের বিরুদ্ধে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ মাছের পোনা ধরতে সুযোগ করে দেওয়া, জেলেদের বন আইনে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। এসব অভিযোগ ভুক্তোভোগীসহ খোদ সুন্দরবনে যাতায়াতকারী জেলে বাউয়ালীদের। যারা কিনা গোপন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত টিমের কাছে কবীর উদ্দীনের যাবতীয় অপকর্মের সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত। বুড়িগোয়ালিনি ষ্টেশন অফিসার (এসও) কবির উদ্দিনের এসব অপকর্মের তথ্য নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশনে যোগদান করেন কবির উদ্দিন। যোগদানের পর থেকে তিনি গোটা বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশনের নিয়ন্ত্রণভার নিয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের উপর একক আধিপত্য গড়ে তোলেন।
পারশে মাছের পোনা শিকার ধরার বন্ধ থাকলেও তিনি যোগদানের পর থেকে আবারও পারশে মাছের পোনার চালান নিতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা বনে ঢোকার সুযোগ পেয়ে যায়। এছাড়া সিডর ও আইলার পর থেকে গরানের অকশন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কবীর উদ্দীন যোগদানের কিছুদিনের মধ্যে গরানের অকশন এর প্রচলন ঘটিয়েছেন মূলত তার গরান কাঠ পাচার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে। যে কারণে নওয়াবেঁকী বাজারে বিভিন্ন সময়ে গরান কাঠ বিক্রি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও প্রতিবারই কবীর উদ্দীন ঐসব কাঠ অকশন এর বলে দাবি করে চোরাই ব্যবসায়ীদের পক্ষাবলম্বন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের গত ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শ্যমানগরের হায়বাদপুর মোড়ে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীসহ কয়েকজন যুবক গরান কাঠের বিশলাকারের একটি চালানসহ ইঞ্চিন চালিত নসিমন আটক করে। এসময় আটককৃত চালানের মালিক ই¯্রাফিল হোসেন শুরুতে যাবতীয় গরান কাঠ আব্দুল আজিজের জানিয়ে মুটোফোনে আব্দুল আজিজকে ফোন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে ই¯্রাফিল তার ব্যবহৃত মুটোফোন বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসার কবীর উদ্দীনকে ধরিয়ে দিলে তিনি মুটোফোনের এ পাশে থাকা ব্যক্তিদের জানায়, ‘অল্প কিছু গরান কাঠ হয়তা গোলপাতার নৌকায় করে নিয়ে যাচ্ছিল, তাই তাদেরকে ঝামেলা না করে ছেড়ে দিলে আব্দুল আজিজ পরের দিন সংশ্লিষ্টদের সাথে দেখা করে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলবে।’
এসময় সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মী মুটোফোনে কবীর উদ্দীনের কাছে জানতে চান, ‘গোলপাতার নৌকা আনলোড হচ্ছে ঝাঁপালী ও নওয়াবেঁকী, কিন্তু রমজাননগর থেকে সদ্য কাটা গরানের খুঁটি আসার নেপথ্য কারণ কি?’ এসময় চোরাকাঠ শিকারীদের পক্ষ নিয়ে প্রতিবেদককে কবীর উদ্দীন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ‘হয়তো বা তারা কিছু গরান কাঠ চুরি করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে এবং ঐ পথে পাচার হচ্ছে’। তবে পরবর্তীতে এসব বিষয়ে কার্যক্রম কোন উদোগ নেয়ার বিষয়ে তিনি নুন্যতম আগ্রহ প্রকাশ করেননি।
জানা গেছে ওই ঘটনার পরের দিন ৩ ফেব্রুয়ারির রাত নয়টার দিকে কাশিমাড়ির গোবিন্দপুর এলাকায় প্রায় একই ধরনের একটি গরান কাঠের চালান আটক করলেও স্থানীয়রা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এদিনও কবীর উদ্দীনকে মুটোফোনে যোগাযোগ করে কোন প্রতিকার না মেলার অভিযোগ স্থানীয় ঐসব তরুণদের। তাদের দাবি মূলত অর্থের বিনিময়ে কবীর উদ্দীন সুন্দরবন উজাড় করার ‘প্রজেক্ট’ হাতে নিয়ে বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশনে যোগদান করেছিলেন।
এছাড়া সুন্দরবনের গোলপাতা বোঝাই নৌকা ফিরে আসার সময় গোলপাতা পড়ে যাওয়ার শংকায় নৌকার দু’পাশে শত-শত মোটা গরানের খুঁটি ব্যবহারের সুযোগ দানের মাধ্যমে কবির উদ্দিন সুন্দরবন থেকে গরান কাঠ পাচারের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলেও অনেকের অভিযোগ।
এসব অভিযোগকারীরা জানান, নওয়াবেঁকী আব্দুল আজিজসহ কয়েকজনের গোলপাতার নৌকা আনলোড হওয়ার সময় সেখানে সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হয়ে গোলপাতার নিচে গরান কাঠ দেখতে পান। এছাড়া নৌকার দুপাশে আরও শত-শত গরানের খুটি দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে কবীর উদ্দীনের কাঠে মুটোফোনে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘ভাই, পাতার চাপ রাখার জন্য আমরা রাজস্ব নিয়ে কিছু কিছু গরান কাঠ দিতে বাধ্য হই।’ তবে গরান কাঠ কর্তন নিষিদ্ধ জানাতেই ‘পারলে উচ্চ মহলের কাছে নালিশ করেন’-জানিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছন্ন করে দেন।
আবুল কাশেম ও জবেদ আলী, আব্দুল হামিদসহ অনেকের অভিযোগ কবীর উদ্দীনের প্রত্যক্ষ মদদে গোলপাতা মৌসুমে পাচার হয়ে আসা হাজার হাজার মণ গরান কাঠ এখন নওয়াবেঁকী বাজার ও ঝাপাাঁলীর বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে। এসব বিষয়ে অভিযোগ জানালে কবীর উদ্দীনের ষ্পষ্ট জবাব, সবার অকশনের স্লিপ রয়েছে।
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান গত জানুয়ারি মাসে কবীর উদ্দীনের তৎপরতায় একটি অকশন হয়। কিন্তু ঐ একটি অকশন এর স্লিপকে পুঁজি করে নওয়াবেঁকী থেকে ঝাঁপালী গোটা এলাকার সকল কাঠ পাচার চক্রের সদস্যরা কবীর উদ্দীনের ছত্রছায়ায় দিব্যি ব্যবসা করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় অনেকেরই অভিযোগ এসব আড়ৎদাররা প্রশাসনের অভিযানের ভয়ে যৎসামান্য গরান কাঠ সামনে প্রদর্শনীর জন্য রাখলেও তাদের অজ্ঞাত গুদামে হাজার হাজার মন গরান কাঠ পাওয়া যাবে।
পশ্চিম সুন্দরবনে একক আধিপাত্য বিস্তারকারী কবির উদ্দিন সম্প্রতি সুন্দরবনের দোবেকী টহল ফাড়ির ছোট চোরা খাল এবং বড় চোরা খালের ধার থেকে বড়-বড় ৪০টির অধিক কেওড়া গাছ কেটে নিজে ঠিকাদার হয়ে বুড়িগোয়ালিনি ষ্টেশন, কলাগাছি টহলফাড়ি এবং কাঠেরসর টহল ফাড়ির সংস্কার কাজ করেছেন। কিন্তু এ কাজের জন্য ১১ লক্ষাধিক টাকার টেন্ডার দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ আছে সুন্দরবন থেকে কেটে নিয়ে আসা এসব কেওড়া গাছের অর্ধেক এসও কবির উদ্দিন বিক্রি করেছেন নোয়াবেকির আশরাফ এবং রফিকের ‘স’ মিলে। এসব অভিযোগের ব্যপারে এসও কবির উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বিকার করেন।
তবে, পশ্চিম সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনির দুর্নীতিবাজ এ ষ্টেশন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন শত-শত অভিযোগ প্রায়ই স্থানীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয় কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়না।
স্থানীয় সুধীমহলের দাবি সুন্দরবন রক্ষা করতে হলে অনতিবিলম্বে এসও কবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে অচিরেই সুন্দরবনের মহামূল্যবান অনেক সম্পত্তি হারিয়ে যাবে।

নরক্ষী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সুন্দরবন উজাড়! (পর্ব-১) নিজস্ব প্রতিনিধি: শুনতে অবাক লাগলেও বনরক্ষার দায়িত্বে থাকা পশ্চিম সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনি ষ্টেশন অফিসার (এসও) কবির উদ্দিনের নেতৃত্বে উজাড় হয়ে যাচ্ছে সুন্দরবন। তার প্রতক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বিক্রি হচ্ছে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ গরান কাঠ। আবার তিনিই টাকার বিনিময়ে দায়িত্ব নিয়ে ট্রলারের মাধ্যমে টেনে জেলেদের ইর্ঞ্জিনচালিত নৌকা পৌছে দিচ্ছেন গহীন বনে ও অভয়ারণ্য এলাকায়। কিন্তু বিধি অনুযায়ী সুন্দরবনের গহীনে ইঞ্জিনচালিত নৌকার প্রবেশ নিষেধ।
এছাড়াও এসও কবিরের বিরুদ্ধে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ মাছের পোনা ধরতে সুযোগ করে দেওয়া, জেলেদের বন আইনে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। এসব অভিযোগ ভুক্তোভোগীসহ খোদ সুন্দরবনে যাতায়াতকারী জেলে বাউয়ালীদের। যারা কিনা গোপন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত টিমের কাছে কবীর উদ্দীনের যাবতীয় অপকর্মের সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত। বুড়িগোয়ালিনি ষ্টেশন অফিসার (এসও) কবির উদ্দিনের এসব অপকর্মের তথ্য নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশনে যোগদান করেন কবির উদ্দিন। যোগদানের পর থেকে তিনি গোটা বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশনের নিয়ন্ত্রণভার নিয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের উপর একক আধিপত্য গড়ে তোলেন।
পারশে মাছের পোনা শিকার ধরার বন্ধ থাকলেও তিনি যোগদানের পর থেকে আবারও পারশে মাছের পোনার চালান নিতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা বনে ঢোকার সুযোগ পেয়ে যায়। এছাড়া সিডর ও আইলার পর থেকে গরানের অকশন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কবীর উদ্দীন যোগদানের কিছুদিনের মধ্যে গরানের অকশন এর প্রচলন ঘটিয়েছেন মূলত তার গরান কাঠ পাচার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে। যে কারণে নওয়াবেঁকী বাজারে বিভিন্ন সময়ে গরান কাঠ বিক্রি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও প্রতিবারই কবীর উদ্দীন ঐসব কাঠ অকশন এর বলে দাবি করে চোরাই ব্যবসায়ীদের পক্ষাবলম্বন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের গত ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শ্যমানগরের হায়বাদপুর মোড়ে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীসহ কয়েকজন যুবক গরান কাঠের বিশলাকারের একটি চালানসহ ইঞ্চিন চালিত নসিমন আটক করে। এসময় আটককৃত চালানের মালিক ই¯্রাফিল হোসেন শুরুতে যাবতীয় গরান কাঠ আব্দুল আজিজের জানিয়ে মুটোফোনে আব্দুল আজিজকে ফোন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে ই¯্রাফিল তার ব্যবহৃত মুটোফোন বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসার কবীর উদ্দীনকে ধরিয়ে দিলে তিনি মুটোফোনের এ পাশে থাকা ব্যক্তিদের জানায়, ‘অল্প কিছু গরান কাঠ হয়তা গোলপাতার নৌকায় করে নিয়ে যাচ্ছিল, তাই তাদেরকে ঝামেলা না করে ছেড়ে দিলে আব্দুল আজিজ পরের দিন সংশ্লিষ্টদের সাথে দেখা করে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলবে।’
এসময় সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মী মুটোফোনে কবীর উদ্দীনের কাছে জানতে চান, ‘গোলপাতার নৌকা আনলোড হচ্ছে ঝাঁপালী ও নওয়াবেঁকী, কিন্তু রমজাননগর থেকে সদ্য কাটা গরানের খুঁটি আসার নেপথ্য কারণ কি?’ এসময় চোরাকাঠ শিকারীদের পক্ষ নিয়ে প্রতিবেদককে কবীর উদ্দীন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ‘হয়তো বা তারা কিছু গরান কাঠ চুরি করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে এবং ঐ পথে পাচার হচ্ছে’। তবে পরবর্তীতে এসব বিষয়ে কার্যক্রম কোন উদোগ নেয়ার বিষয়ে তিনি নুন্যতম আগ্রহ প্রকাশ করেননি।
জানা গেছে ওই ঘটনার পরের দিন ৩ ফেব্রুয়ারির রাত নয়টার দিকে কাশিমাড়ির গোবিন্দপুর এলাকায় প্রায় একই ধরনের একটি গরান কাঠের চালান আটক করলেও স্থানীয়রা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এদিনও কবীর উদ্দীনকে মুটোফোনে যোগাযোগ করে কোন প্রতিকার না মেলার অভিযোগ স্থানীয় ঐসব তরুণদের। তাদের দাবি মূলত অর্থের বিনিময়ে কবীর উদ্দীন সুন্দরবন উজাড় করার ‘প্রজেক্ট’ হাতে নিয়ে বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশনে যোগদান করেছিলেন।
এছাড়া সুন্দরবনের গোলপাতা বোঝাই নৌকা ফিরে আসার সময় গোলপাতা পড়ে যাওয়ার শংকায় নৌকার দু’পাশে শত-শত মোটা গরানের খুঁটি ব্যবহারের সুযোগ দানের মাধ্যমে কবির উদ্দিন সুন্দরবন থেকে গরান কাঠ পাচারের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলেও অনেকের অভিযোগ।
এসব অভিযোগকারীরা জানান, নওয়াবেঁকী আব্দুল আজিজসহ কয়েকজনের গোলপাতার নৌকা আনলোড হওয়ার সময় সেখানে সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হয়ে গোলপাতার নিচে গরান কাঠ দেখতে পান। এছাড়া নৌকার দুপাশে আরও শত-শত গরানের খুটি দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে কবীর উদ্দীনের কাঠে মুটোফোনে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘ভাই, পাতার চাপ রাখার জন্য আমরা রাজস্ব নিয়ে কিছু কিছু গরান কাঠ দিতে বাধ্য হই।’ তবে গরান কাঠ কর্তন নিষিদ্ধ জানাতেই ‘পারলে উচ্চ মহলের কাছে নালিশ করেন’-জানিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছন্ন করে দেন।
আবুল কাশেম ও জবেদ আলী, আব্দুল হামিদসহ অনেকের অভিযোগ কবীর উদ্দীনের প্রত্যক্ষ মদদে গোলপাতা মৌসুমে পাচার হয়ে আসা হাজার হাজার মণ গরান কাঠ এখন নওয়াবেঁকী বাজার ও ঝাপাাঁলীর বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে। এসব বিষয়ে অভিযোগ জানালে কবীর উদ্দীনের ষ্পষ্ট জবাব, সবার অকশনের স্লিপ রয়েছে।
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান গত জানুয়ারি মাসে কবীর উদ্দীনের তৎপরতায় একটি অকশন হয়। কিন্তু ঐ একটি অকশন এর স্লিপকে পুঁজি করে নওয়াবেঁকী থেকে ঝাঁপালী গোটা এলাকার সকল কাঠ পাচার চক্রের সদস্যরা কবীর উদ্দীনের ছত্রছায়ায় দিব্যি ব্যবসা করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় অনেকেরই অভিযোগ এসব আড়ৎদাররা প্রশাসনের অভিযানের ভয়ে যৎসামান্য গরান কাঠ সামনে প্রদর্শনীর জন্য রাখলেও তাদের অজ্ঞাত গুদামে হাজার হাজার মন গরান কাঠ পাওয়া যাবে।
পশ্চিম সুন্দরবনে একক আধিপাত্য বিস্তারকারী কবির উদ্দিন সম্প্রতি সুন্দরবনের দোবেকী টহল ফাড়ির ছোট চোরা খাল এবং বড় চোরা খালের ধার থেকে বড়-বড় ৪০টির অধিক কেওড়া গাছ কেটে নিজে ঠিকাদার হয়ে বুড়িগোয়ালিনি ষ্টেশন, কলাগাছি টহলফাড়ি এবং কাঠেরসর টহল ফাড়ির সংস্কার কাজ করেছেন। কিন্তু এ কাজের জন্য ১১ লক্ষাধিক টাকার টেন্ডার দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ আছে সুন্দরবন থেকে কেটে নিয়ে আসা এসব কেওড়া গাছের অর্ধেক এসও কবির উদ্দিন বিক্রি করেছেন নোয়াবেকির আশরাফ এবং রফিকের ‘স’ মিলে। এসব অভিযোগের ব্যপারে এসও কবির উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বিকার করেন।
তবে, পশ্চিম সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনির দুর্নীতিবাজ এ ষ্টেশন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন শত-শত অভিযোগ প্রায়ই স্থানীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয় কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়না।
স্থানীয় সুধীমহলের দাবি সুন্দরবন রক্ষা করতে হলে অনতিবিলম্বে এসও কবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে অচিরেই সুন্দরবনের মহামূল্যবান অনেক সম্পত্তি হারিয়ে যাবে।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন