পাইকগাছায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন মোহাম্মদ আলী, বুলু ও লিপিকা নির্বাচিত


এপ্রিল ২ ২০১৯


বি. সরকার । পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।
খুলনার পাইকগাছায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন, কোন সংঘাত ও সংঘর্ষ ছাড়াই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ৫ম পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী নৌকা প্রতীকে ৩৪ হাজার ৮৬৫ ভোট পেয়ে গাজী মোহাম্মদ আলী উপজেলা চেয়ারম্যান, তালা প্রতীকের প্রার্থী শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু ৩৭ হাজার ৫৬১ ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান ও পদ্মফুল প্রতীকের প্রার্থী লিপিকা ঢালী ২৭ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটারের সংখ্যা ২লাখ ৯ হাজার ৩৩৮ এবং মোট ভোটারের উপস্থিতি ছিল ৭৩ হাজার ৭৮৬ জন।
নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিয়োজিত থাকায় নির্বাচনের কোন কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে নির্বাচনী কার্যক্রম সার্বিক মনিটরিং করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও জুলিয়া সুকায়না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহীম ও শরফুদ্দীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুল আউয়াল, র‌্যাব-৬ এর উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ গোলবর ও ওসি এমদাদুল হক শেখ।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হলেও ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪, ভাইস চেয়ারম্যানপদে ৪ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ সহ মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্ধিতা করেন। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ৪ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক গাজী মোহাম্মদ আলী ৩৪ হাজার ৮৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মনিরুল ইসলাম মটর সাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৭৮৬ ভোট, অনান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন শেখ আবুল কালাম আজাদ (দোয়াত-কলম প্রতীক) ১২ হাজার ৫৮৬ ভোট, মোঃ রশিদুজ্জামান মোড়ল (আনারস প্রতীক) ৬ হাজার ৬৪৩ ভোট এবং উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোট অবৈধ্য (রিজক্ট) ১ হাজার ৯০৬ ভোট।
৪ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগনেতা শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু তালা প্রতীকে ৩৭ হাজার ৫৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, নিকটতম প্রার্থী কৃষ্ণপদ মন্ডল (টিউবওয়েল প্রতীক) পেয়েছেন ১ ৯ হাজার ২৮ ভোট, অনান্য প্রার্থীরা দেবব্রত রায় (চশমা প্রতীক) ৮ হাজার ৫৯৪ ভোট, সুকৃতি মোহন সরকার (টিয়া পাখি প্রতীক) ৫ হাজার ৩৭৯ ভোট এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট অবৈধ্য (রিজক্ট) ৩ হাজার ২৪৯ ভোট।
৬ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিপিকা ঢালী পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে ২৭ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নিকটতম প্রার্থী ফাতেমাতুজ্জোহরা রূপা (কলস প্রতীক) পেয়েছেন ১২ হাজার ৫৭১ ভোট। অনান্য প্রার্থীরা নাজমা আক্তার (ফ্যান প্রতীক) ৯ হাজার ৬২৬ ভোট, জুলি (প্রজাপতি প্রতীক) ৯ হাজার ১৫৩ ভোট, ময়না খাতুন (ফুটবল প্রতীক) ৬ হাজার ৮১০ ভোট এবং মাসুমা খাতুন (হাঁস প্রতীক) ৪ হাজার ৮৭৭ ভোট এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট অবৈধ্য (রিজক্ট) ২ হাজার ৮৫০ভোট।
নির্বাচন প্রসঙ্গে থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, একটি সুন্দর নির্বাচনের জন্য অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর ছিল। ফলে নির্বাচনে কোথাও কোন সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না জানান, প্রশাসনের পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ, আইনশৃংখলা বাহিনী, এলাকাবাসী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন