আজ শ্যামনগরে চাঞ্চল্যকর ২২ হরিণ শিকার মামলায় দায়েরকৃত রীটের আদেশ প্রদান করবেন মহামান্য হাইকোর্ট


আগস্ট ২ ২০১৮

ঢাকা ব্যুরো : মহামান্য হাইকোর্ট আজ শ্যামনগরে চাঞ্চল্যকর ২২ হরিণ শিকার মামলায় দায়েরকৃত রীটের আদেশ প্রদান করবেন! এই শিকারে অংশ নেয়া সাত পুলিশকে আসামী না করে এবং আইনের যথাযথ ধারা বাদ দিয়ে দুর্বল ভাষায় এজাহার দায়ের করায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত নয়াবার্তা’র সম্পাদক আবু বকর জনস্বার্থে বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি মো: খায়রুল আলমের যৌথ বেঞ্চে ৯৭৯১/২০১৮ রীটটি দায়ের করেন।গত ৩১ জুলাই মঙ্গলবার রীটের শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।অজ মামলাটি আদেশের জন্য কার্য তালিকায় রয়েছে। ইতিমধ্যে এই মামলায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামী জামিনে মুক্তি পেয়েছে।এর আগে পলাতক অভিযুক্ত আসামীরাও আগাম জামিন নিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।এখন মামলাটির ফাইনাল রিপোর্ট প্রদানের নীলনক্সা বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

এক তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে,পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল ২০১৬ সালের জুন মাসে সুন্দরবনে বাঘ হত্যা ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকারের কাছে জমা দেয়।‘সুন্দরবনের বাঘ হত্যা’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী এলাকার ৩২ জন রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই বাঘ হত্যায় মদদ দেওয়া ও চোরাচালানে জড়িত। ইন্টারপোলের এই প্রতিবেদনের আলোকে ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় “বাঘ হত্যা ও চোরাচালানে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা” শীর্ষক খবর প্রকাশিত হবার পর মহামান্য হাইকোর্ট একটি স্যুয়োমোটো রুল নং-৭/২০১৬ প্রদান করেন।মামলাটির শুনানী চলছে।পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের ঐ ৩২ তালিকাভূক্ত বাঘ শিকারীর মধ্যে একজন হলেন, আলহাজ্ব আঃ সাত্তার মোড়ল। গত ৭ জুলাই ভোরে শ্যমনগরের স্থানীয় এক সাংবাদিকের নিকট খবর আসে যে শ্যামনগর থানার এসআই লিটন, এসআই হাবিব, দুই এএসআই মামুন ও ফজলুল করিম এবং কনস্টেবল আলমগীর কনস্টেবল সাইফুল্লাহ ও কনস্টেবল উত্তম কুমারের নিরাপত্তা প্রহরায়্ ইন্টারপোলের তালিকাভূক্ত বাঘ শিকারী আলহাজ্ব আঃ সাত্তার মোড়ল ৯জন শিকারি ও শিকার সহযোগিদের নিয়ে দুটি ট্রলার এবং ৬টি বন্দুক সহ রাতে বিশ্ব ঐতিহ্য সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সংরক্ষিত পশ্চিম সুন্দরবনে প্রবেশ করেছে।ঐ সাংবাদিক সারাদিন সংবাদ তথ্যের সত্যতা নির্নয় সহ ঘটনাটির পেছনে লেগে থাকেন।তিনি জাতীয় স্বার্থে এই শিকারি চক্রকে ধরিয়ে দেবার জন্য স্থানীয় র‌্যব কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন।র‌্যাব অভিযানের প্রস্তুতি নিলেও কমান্ডিং অফিসার স্টেশনে না থাকায় ৭ জুলাই রাতের অপারেশন থেমে যায়।এর মধ্যে খবর আসে শিকারি চক্র ২২টি হরিণ শিকার করেছে।২টি তারা রান্না করে খেয়েছে। বাকি ২০টি হরিণের পেট ফেড়ে নাড়িভুড়ি বের করে আস্ত হরিণ বরফ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করেছে।৮ জুলাই ঐ সাংবাদিক যোগাযোগ করেন স্থানীয় কোস্টগার্ড কর্মকর্তাদের সাথে।তার কাছে থাকা সকল তথ্য তিনি কোস্টগার্ডকে জানান।কোস্টগার্ড রাতে অভিযানে সম্মত হয়।পূর্ব অভিঙ্গতার কারনে ঐ সাংবাদিক কোস্টগার্ডের উপর পুরোপুরি ভরসা না রেখে বনবিভাগের বুড়িগোয়ালীনি্ ও কদমতলা স্টেশন এবং চুনকুড়ি টহল ফাড়ির কর্মকর্তাদের পুরো তথ্য জানান।শেষে জানান খুলনার বিভাগীয় বনকর্মকর্তাকে।মজার ব্যাপার হলো কোস্টগার্ড এবং বনবিভাগের তিন স্টেশনের কর্মকর্তারা জানতেন না যে এই তথ্য অণ্য কেউ জানে।চারটি গ্রুপই নিজেদের শতভাগ সাফল্যের আশায় অতি গোপনীয়তার সাথে ৮ জুলাই দিবাগত রাতে অভিযান শুরু করেন।অভিযানে চার গ্রুপ মুখোমখি হবার পর জানতে পারেন তারা একই অভিযানে এসেছেন।এর পর তারা নিজেদের মধ্যে অভিযান কর্মপন্থা নির্ধারণ করে চার ভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান নেন।মধ্য রাতে কাঙ্খিত শিকারিদের দুটি ট্রলার অভিযানকারীদের নজরে আসে।বন বিভাগ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা বনের চুনকুড়ি নদী ও দোবেকির মধ্যবর্তী স্থানে শিকারি পুলিশ দলের মুখোমুখি হয়। তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।সুন্দর বনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক ঘটনা সম্পর্কে বলেন, আমরা তাদের কাছাকাছি পৌছে স্প্রীড বোর্ড তাদের ট্রলারে লাগিয়ে ঠেলে চরে তুলি। এসময় আটক ট্রলারে সাদা পোষাকে থাকা পুলিশ জানায় তারা হরিণ শিকারীর ট্রলার আটক করেছে। সে সময় পুলিশ বনকর্মকর্তা কর্মচারি এবং কোষ্ট গার্ডকে শিকারীর ট্রলারের পাশে যেতে দেননি।এসআ্ই লিটন হুমকি দেন যে, ”তাদের নৌকায় কেউ উঠলে তার বুক ঝাজরা করে দেবে”। অভিযানে অংশ নেয়া কৈখালী কোষ্ট গার্ডের পেডি অফিসার এক্ই ধরনের তথ্য জানিয়ে বলেন , পুলিশের পক্ষ থেকে ঐ ট্রলারে থাকা বর্তমান গ্রেফতারকৃত দু’জন বাদে বাকিরা পুলিশের সোর্স এবং এই অভিযানটি কোষ্ট গার্ড , পুলিশ ও বন বিভাগের যৌথ অভিযান দেখাতে বলা হয়। কোষ্ট গার্ডের এখতিয়ারাধীন এলাকায় পুলিশি অভিযানে কোষ্ট গার্ডকে আগে থেকে কোন তথ্য দেওয়া হয়েছিলো কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন , না আমোদেরকে আগে থেকে এ ধরনের কোন তথ্য দেওয়া হয়নি এমনকি ঐ সময় ট্রলার , অস্ত্র , হরিণ ও শিকারীসহ আমাদের ছবি নিতেও বাধা প্রদান করা হয়।তিনি বলেন,যেখানে পুলিশের পোশাক পরে বনে চাদাবাজী ও ডাকাতি হচ্ছে।সেখানে তাদের পালানোর প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে আমরা যদি ”ফাযার ওপেন” করতাম তবে দুই বাহিনী’র মধ্যেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতো। এবিষয়ে গত ৯ জুলা্ই নয়াবার্তা’র অন লাইন সংষ্করনে পৃথক দু’টি খবর প্রকাশিত হয়। প্রথমটি’র শিরেোনাম ছিলো “শ্যামনগরে চাঞ্চল্যকর ২২টি হরিণ শিকারের ঘটনা ধামাচাপা দিতে চলছে কোটি টাকার ছড়াছড়ি!”। আর দ্বিতীয়টি’র শিরেোনাম ছিলো “আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র কর্তৃক শ্যামনগরে চাঞ্চল্যকর ২২ হরিণ শিকারের ঘটনা ধামাচাপা দিতে চলছে কোটি টাকার ছড়াছড়ি!”। গত ১০ জুলাই”হরিণসহ অস্ত্র উদ্ধার ঘটনায় শ্যামনগর থানায় পৃথক দু’টি মামলা”এবং গত ১৮ জুলা্ই “প্রসঙ্গ ২২ হরিণ শিকার-ঘটনা একটি,প্রশ্ন একাধিক……” শিরনামে নয়াবার্তা’র অন লাইন সংষ্করনে আরো দু’টি খবর প্রকাশিত হয়।২০ জুলাই শ্যামনগরে ২২ হরিণ শিকার ঘটনায় আসামী বাদী হওয়ায় ঘটনা ভিন্ন পথে মোড় নিয়েছে শিরনামে নয়াবার্তা’র অন লাইন সংষ্করনে আরো একটি খবর প্রকাশিত হয়।এসব খবরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে,কোস্টগার্ড ও বনবিভাগ যৌথ অভিযান চালিয়ে কদমতলা ষ্টেশনের চুনকুড়ি নদীর সুবদি গুবদি এলাকা থেকে দুইটি ট্রলারসহ ১৭ জনকে আটক করে। এসময় তাদের নিকট থেকে শিকারকৃত ২০ টি হরিণ ও ছয়টি আগ্নেয়ান্ত্র উদ্ধার করা হয়।আটককৃতদের মধ্যে ছিলেন, চক্রের প্রধান জাপা নেতা আব্দুস সাত্তার, তার সহযোগি আনোয়ারুল ইসলাম, মহিবুল্লাহ, আলী হোসেন, মনজু, সামাদ, বিকাশ,আকজান, ইউসুফ, ও বাচ্চু।এছাড়াও ছিলেন, শ্যামনগর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মর্যাদার দুইজন এবং সহকারি উপ-পরিদর্শক মর্যাদার দুইজনসহ সাত পুলিশ সদস্য।এর পর শুরু হয় পুলিশের নাটক।পুলিশ দাবি করে শ্যামনগর থানার সাধারন ডায়েরী নং-২৮২,তারিখ ৬ জুলাই মুলে তারা সংরক্ষিত বনে অভিযানে গিয়েছিলো।অভিযানে তারা হরিণ শিকারি গ্রেফতার করেছে ।উল্লেখ্য শ্যামনগর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা্ এই ধরনের সাধারন ডায়েরী করে সুন্দরবনে শিকারিদের সহায়তা করেন।ধরা পড়লে এই ডায়েরী তাদের আইনের রক্ষা কবচ হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,ঐ রাতে বোট, হরিণ বন্দুক ও পুলিশ সদস্যসহ সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় কোষ্ট গার্ডে’র দোবেকি’র ভাসমান স্টেশনে। সেখানে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডকে বোঝানো হয়, পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক এবং হরিণ ও বন্দুক জব্দ করেছে। পুলিশ সদস্যরা এ সময় হরিণ শিকারের অভিযোগ বেমালুম অস্বীকার করে জানান, তারা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়েছেন মাত্র। দোবেকি ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক আলি জানান, গভীর রাতে সবাইকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে তারা সবাই চলে গেছেন শ্যামনগর থানার উদ্দেশ্যে।

এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বসিরুল ইসলামের কাছে সোমবার টেলিফোন করা হলে তিনি জানান, ‘আমি খবর পেয়েছি দুটি শিকার করা হরিণ ও তিনটি বন্দুক জব্দ করেছে পুলিশ।’ তিনি আরও জানান, ‘পুলিশ বলছে তারা অভিযান চালাতে গিয়েছিল। তাদের কথা তো আর অবিশ্বাস করা যায় না।’ শ্যামনগর থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলি জানান, ‘সুন্দরবনের ঘটনাস্থল থেকে আমার থানার এসআই লিটন জানিয়েছেন রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেঘনা নদীর মোহনায় একটি বোট দ্রুত গতিতে যেতে দেখে তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। পরে ওই বোটে তল্লাশি চালিয়ে ৩টি শিকারকৃত হরিণ ও তিনটি একনলা বন্দুক পাওয়া যায়। এ সময় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়।’ ওসি আরও বলেন, এ বিষয়ে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ তারাও একই স্থানে অভিযান চালাতে গিয়েছিলেন। তবে ওসির কাছে জানতে চাওয়া হয় এসআই লিটন যে বোট নিয়ে কথিত অভিযান চালান সেটিতে ১৬ খণ্ড বরফ কেন ছিল এবং তারা তিনদিন আগে হরিণ শিকারি দলের সঙ্গে কেন বনে গেছেন এর কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি ওসি। তবে তিনি হরিণ শিকারে তার পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এখানে উল্লেখ্য,গ্রেফতারকৃতদের থানায় আনার পর সাতক্ষীরা’র পুলিশ সুপার নিজেই শ্যামনগর থানায় ছুটে যান এবং সারাদিন শ্যামনগর থানায় অবস্থান করেন।৯ জুলাই সন্ধায় সাতক্ষীরা থেকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা যায় যে এঘটনায় শ্যামনগর থানার সংশ্লিষ্ট ৭ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।খবরের সত্যতা যাচায়ের জন্য ঐদিন রাতে নয়াবার্তা’র পক্ষ থেকে প্রথমে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত মর্মকর্তা এবং পরে সাতক্ষীরা’র পুলিশ সুপারের সথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান,সংশ্লিষ্ট ৭ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়নি।অথচ পরবর্তীতে এসআ্ই লিটন মিয়াকে প্রত্যার করে খুলনা ডি্ইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়। আর ওসি সৈয়দ মান্নান আলিকে বদলি করা হয় দেবহাটা থানায়।আর গত ২২ জুলাই সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত ৮৫ নং স্মারকের এক পত্রে এই অভিযানে অংশ নেয়া বন কর্মকর্তাদের ২৬ জুলাই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তলব করা হয়।বন বিভাগের বুড়িগোয়ালীনি’র স্টেশন কর্মকর্তা কবিরের নের্তৃত্বে কদম তোলার স্টেশন কর্মকর্তা নাসির, চুনকুড়ি টহল ফাড়ির ওসি মোস্তাফিজুর রহমান,দোবেকী টহল ফাড়ির ওসি মোবারক এবং মিড়গাঙ টহল ফাড়ির্ওসি মিজানুর রহমান পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হন।তারা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তারের সাথে বৈঠকে মিলিত হয়ে ঘটনা’র বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৯ এপ্রিল শ্যামনগর থানার পুলিশ কর্তৃক সুন্দরবনে শিকার করা হরিণের সাড়ে সাত মণ মাংস ভাগাভাগি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর শুরু হয় তোলপাড়। সে সময়ও শ্যামনগর থানার ওসি ছিলেন সৈয়দ মান্নান আলী। ওই সময় সাংবাদিকদের তথ্য দেবার অভিযোগ তুলে এসআই আরিফ সহ আটজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সে সময়ের হরিণ শিকারেও প্রত্যক্ষ সহায়তা দেন এসআই লিটন। কিন্তু তিনি বরখাস্ত থেকে কৌশলে রক্ষা পান।

এখানে উল্লেখ্য,“গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ক -এ রাষ্ট্র কর্তৃক জীববৈচিত্র,বন ও বন্যপ্রণী,সংরক্ষন্ ও নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।”এরই আলোকে ২০১২ সনের ৩০ নং আইন প্রনীত হয়।আইনটির শিরনাম হলো “বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন,২০১২। কোন ব্যক্তি’র অভয়ারণ্য সম্পর্কে বাধা নিষেধ প্রসঙ্গে এই আইনের ১৪ এর (ঙ) তে বলা হয়েছে,”প্রধান ওয়ার্ডেন বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতিত কোন প্রকার আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রবেশ করিতে পারিবেন না।এই আইনের ৩৫ ধারায় ধারা ১৪ এর বিধান লংঘনের দন্ড উল্লেখ করা হয়েছে।বলা হয়েছে,”কোন ব্যক্তি ধারা ১৪ এ উল্লেখিত কোন নিষিদ্ধ কর্মকান্ড করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন্ ও উক্তরুপ অপরাধের জন্য জামিন অযোগ্য হইবেন এবং তিনি সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা্ উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং এ্কই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ৫ (পাচ) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৪ (চার) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

অথচ পুলিশ “বন্যপ্রাণী (সংরক্ষন ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর ৩৭ (১) ও (২) এবং তৎসহ ১৮৭৮ অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) জামিন যোগ্য ধারায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।এক পর্যায়ে রাতভর নানা দেন দরবারের পর ৯ জুলাই সকালে তিনটি হরিণ, তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ট্রলারসহ তিন জনকে আসামী করে অস্ত্র ও বন্য প্রাণী নিধন আইনে মামলা করা হয়। হরিণ শিকারের মামলায় আসামীরা হলো,পাতাখালি গ্রামের আমজাদ গাজীর ছেলে মহিবুল্লাহ, কদমতলা গ্রামের ঈমান আলী ও বন্দকাটি গ্রামের কুরবান আলী মোড়লের ছেলে বিশিষ্ট মাছ ব্যবসায়ী জাপা নেতা আলহাজ¦ আব্দুস সাত্তার মোড়ল।
এদিকে ১০ জুলাই আটককৃত আগ্নেয়াস্ত্র তিনটি লাইসেন্সধারী বন্দুক হওয়ায় তিন বন্দুকধারী মালিকের নামেও মামলা হয়েছে। আসামীরা হলো, পাতাখালি গ্রামের আয়জদ্দী গাজীর ছেলে আব্দুল আজিজ,হরিনগর গ্রামের আব্দুস সাত্তার গাজীর ছেলে সালাউদ্দীন ও কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গ্রমের আব্দুর রশিদের ছেলে হাফিজুল। দুটি মামলার ৬ জন আসামীর মধ্যে ৪ জনকে পালাতক দেখানো হয়েছে। আর আসামী মুনজু ও মহিবুল্লাহকে আটক দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।এবিষয়ে কোষ্ট গার্ড এবং বন বিভাগের পক্ষ থেকে সঠিক আইনের ধারায় মামলা দায়ের না হওয়ায় জন মনে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

“বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন,২০১২। এই আইনের ১৪ এর (ঙ) তে বলা হয়েছে,” কোন ব্যক্তি অভয়ারণ্যে প্রধান ওয়ার্ডেন বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতিত কোন প্রকার আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রবেশ করিতে পারিবেন না।এই আইনের ৩৫ ধারায় ধারা ১৪ এর বিধান লংঘনের দন্ড উল্লেখ করা হয়েছে।বলা হয়েছে,”কোন ব্যক্তি ধারা ১৪ এ উল্লেখিত কোন নিষিদ্ধ কর্মকান্ড করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন্ ও উক্তরুপ অপরাধের জন্য জামিন অযোগ্য হইবেন এবং তিনি সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা্ উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং এ্কই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ৫ (পাচ) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৪ (চার) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন। ইন্টারপোলের ৩২ তালিকাভূক্ত বাঘ শিকারীর মধ্যে একজন হলেন, আলহাজ্ব আঃ সাত্তার মোড়ল।এর আগে তার বিরুদ্ধে হরিণ শিকারের মামলা হলেও পুলিশ চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

অথচ পুলিশ “বন্যপ্রাণী (সংরক্ষন ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর ৩৭ (১) ও (২) এবং তৎসহ ১৮৭৮ অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) জামিন যোগ্য ধারায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। “বন্যপ্রাণী (সংরক্ষন ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর ধারা-৩৭। (১) কোন ব্যক্তি তফসলি ১ এ উল্লখিতি কোন চতিা বাঘ, লাম চতিা, উল্লুক, সাম্বার হরণি, কুমরি, ঘড়য়িাল, তমিি বা ডলফনি হত্যা করলিে তনিি অপরাধ করয়িাছনে বলয়িা গণ্য হইবনে এবং উক্তরূপ অপরাধরে জন্য তনিি র্সবোচ্চ ৩ (তনি) বৎসর র্পযন্ত কারাদন্ড অথবা র্সবোচ্চ ৩ (তনি) লক্ষ টাকা র্পযন্ত র্অথদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডতি হইবনে এবং একই অপরাধরে পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে র্সবোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর র্পযন্ত কারাদন্ড অথবা র্সবোচ্চ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা র্অথদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডতি হইবনেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, চিতা বাঘ বা কুমির কর্তৃক কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হইলে এবং উহার ফলে তাহার জীবনাশঙ্কার সৃষ্টি হইলে জীবন রর্ক্ষাথে উক্ত আক্রমণকারী চিতা বাঘ বা কুমিরকে হত্যার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে নাঃ

তবে আরো শর্ত থাকে যে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন মামলা দায়েরের প্রশ্ন দখো দিলে সংশ্লষ্টি স্টেশন র্কমর্কতা ওয়ার্ডন এর সহিত পরামর্শক্রমে মামলা দায়ের করতিে পারিবেন।

(২) কোন ব্যক্তি তফসিল ১ এ উল্লেখিত কোন চিতা বাঘ, লাম চিতা, উল্লুক, সাম্বার হরিণ, কুমির, ঘড়িয়াল, তিমি বা ডলফিন এর ট্রফি বা অসর্ম্পূণ ট্রফি মাংস দেহের অংশ সংগ্রহ করিলে দখলে রাখিলে বা ক্রয় বিক্রয় করলিে বা পরিবহন করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর র্পযন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডতি হইবনে এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ৪ (চার) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডতি হইবনে।

রীটে ১/ “বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন,২০১২ এর ১৪(ঙ) ধারা লংঘন করে পুলিশ সহ শিকারীদল সংরক্ষিত বনে প্রবেশ করায় আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আইনের সঠিক ধারায় মামলা দায়ের করার ডাইরেকশন চাওয়া হয়েছে।

রীটে ২/ “বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন,২০১২ মোতাবেক বন্ কর্তৃপক্ষ মামলা করবে পুলিশ নয়। তাই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করায় মামলা স্থগিত করন আদেশ প্রদানের আবেদন করা হয়েছে।

রীটে ৩/ বিচার বিভাগীয় তদন্তের ডাইরেকশন চাওয়া হয়েছে।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন