যোগ্যনেতৃত্বের অভাবে মাঝিবিহীন নৌকার মতো ভাসমান অবস্থায় ভোমরা স্থল বন্দর


জুলাই ১১ ২০১৮

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আহরণে হোঁচট খেয়েছিল ভোমরা শুল্ক স্টেশন। সরকারের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি এ শুল্ক স্টেশনটি। সংশ্লিষ্টদের মতে কাস্টমস্ প্রশাসন, সীমান্তরক্ষী বিজিবি আর সিএন্ডএফ কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে থমকে গেছে আমদানী বানিজ্য।
সীমান্ত প্রশাসনের অহেতুক হয়রাণী সময়ক্ষেপণ এবং বাড়তি নজরদারীতে ভোমরা বন্দরটি পড়েছে মুখ থুবড়ে। আমদানীকারক ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হয়ে ভোমরা বন্দর থেকে পিছুটান নিয়েছে। অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা পিছুটান নেওয়ায় আমদানী বানিজ্য এখন বিপর্যয়ের মুখে।

ভোমরা স্থল বন্দর

ভোমরা স্থল বন্দরের রাজস্ব আহরণের গতি দেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮০৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ কওে দেয়। কিন্তু সে অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করতে পারেনি এ রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বেঁধে দেওয়া লক্ষমাত্রা ৮০৭ কোটি টাকা হলেও শুল্ক স্টেশনটি আহরণ করেছে ৭৯৫ কোটি টাকা। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা।
রাজস্ব ঘাটতির এ দুঃসময়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভোমরা স্থল বন্দরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১০৮৪.৩৯ কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ১২ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা রাজস্ব আহরণ করেছে। ভোমরা কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষ জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভোমরা স্থল বন্দরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১০৮৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিলেও রাজস্ব ঘাটতির আশংকা রয়েছে। কেননা প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেই তবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। কিন্তু জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আদায় হয়েছে মাত্র ১২ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা।
এ বন্দরের অধিকাংশ সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ দিনের পর দিন আমদানী বানিজ্য কমে যেয়ে ভোমরা বন্দরটি প্রাণহীন হয়ে পড়ছে। বহুমুখী চাপে আমদানী-রপ্তানী বানিজ্যে পড়ছে ভাটা। এক শ্রেণীর সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধার করতে এখন মরিয়া। কাস্টমস্ প্রশাসনের সঙ্গে সিএন্ডএফ কর্মকর্তাদের নেই কোনো সমন্বয়। ক্ষমতার দাপট আর কুক্ষিত নেতৃত্বের প্রভাব খাটিয়ে চলছে আমদানী বানিজ্য। এছাড়া কাস্টমস্ প্রশাসনের সঙ্গে যে ব্যবসায়ীর সম্পর্ক আর যোগাযোগ ভালো সেই ব্যবসায়ী লুঠছে ফায়দা। মধ্যম সারির ব্যবসায়ীরা পড়ছে বিপাকে।
অভিযোগে জানা যায়, বিজিবি, কাস্টমস্ প্রশাসন এবং সিএন্ডএফ কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বিত মনোভাব এবং একে অপরের প্রতি সহযোগিতার সুফল না থাকায় নষ্ট হচ্ছে ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিহিংসার দাবানলে পুড়ছে প্রগতিশীল বন্দরটির রাজস্ব খাত। এমন দূরাবস্থা দীর্ঘদিন চললে অচিরেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপণীত হবে এ বন্দরটি। এছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য ও বিভেদ থাকায় আমদানী বানিজ্য পরিচালনায় আসে ব্যাপক বাঁধা।
সব মিলিয়ে সীমাহীন নৈরাজ্যের মধ্যে অবস্থান করছে ভোমরা বন্দরটি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভোমরা স্থল বন্দরটি দক্ষ ও যোগ্যনেতৃত্বের অভাবে মাঝিবিহীন নৌকার মতো ভাসমান অবস্থায় বিরাজ করছে।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন