সাতক্ষীরায় আহলে হাদিছদের দুই ঈদের জামাত এক করে দিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ইফতেখার হোসেন


জুন ২০ ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার ::
সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আহলে হাদিছ অনুসারীদের ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে। দীর্ঘদিন পর এবার আহলে হাদিছ অনুসারীরা নিজেদের মধ্যে সকল ভেদাভেদ ভূলে একই স্থানে একই ইমামের পিছনে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। আর এজন্য মধ্যস্তকারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম¥দ ইফতেখার হোসেন।

সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে কয়েক হাজার মহিলা ও পুরুষ ঈদের এই জামাতে অংশ নেয়।

ঈদের নামাজে ইমামতি করেন মহরুম ড. আব্দুল বারী গ্র“পের আলহাজ্ব মাওলানা মো: ওবায়দুল্লাহ গজনফর এবং খুদবা পাঠ করেন ড. আছাদুল্লাহ আল গালিব গ্র“পের আলহাজ্ব মাওলানা মো: আব্দুল মান্নান।

আহলে হাদিছ অনুসারীদের ঈদের প্রধান জামাতে পুরুষের পাশাপাশি মহিলাদের জন্য নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। একই ইমামের পিছনে মহিলা ও পুরুষ একত্রিত হয়ে তারা নামাজ আদায় করেছেন।

ঈদের নামাজ শুরুর আগেই সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক মুসল্লিদের আগমনে পুরো ময়দান কানায় কানায় ভরে যায়। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এই ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে মুসল্লীরা আসনে।

সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন আহলে হাদিছ অনুসারীদের ঈদের এই প্রধান জামাতে নামাজ আদায় করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসকের মা সেতারা হোসেন, স্ত্রী সাদিয়া নুসরাত হোসেন, তিন ছেলেসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন নামাজ শুরুর আগে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, সকল বিভেদ ভূলে সাতক্ষীরা জেলা শহরে আহলে হাদিছ অনুসারীরা একই জামাতে নামাজ আদায় করছে এটা দেখে মহান আল্লাহর কাছে আমি শুকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহ আমাদের এভাবে যেনো সারা জীবন সব ভুলবুঝাবোঝি অবসন ঘটিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করেন। তিনি বলেন, এক মাস ব্যাপী আমরা সিয়াম পালন করেছি। রোজা আমাদেরকে যে শিক্ষা দিয়েছে সেই শিক্ষা যেনো আমরা ভূলে না যায়। ঈদের নামাজের পর আমরা যেনো আমাদের প্রতিবেশিদের হক আদায় করতে পারি। বাড়ির আশেপাশে গরীব ও দুস্থদের যেনো খেদমত করতে পারি। আমরা যেনো তাদের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই। তিনি বলেন, দেশে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। আমাদের এই মাতৃভূমিতে যেনো আল্লাহর শান্তি বিরাজ করে। সকল হানাহানি , বিভেদ ভূলে আমরা যেনো শান্তিপ্রতিষ্ঠায় কাজ করতে পারি।

ঈদের এই জামাতে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন সাতক্ষীরার প্রবীন আইনজীবী অ্যাড. এ কে এম শহীদউল্যাহ, অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন, অধ্যাপক রফিউদ্দিন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, এটিএন বাংলার সাংবাদিক এম কামরুজ্জামান, ডা: রাশেদ রেজা, ডা: আমিনুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিন্টু চৌধুরী, সাপ্তাহিক সূয্যের আলোর সম্পাদক আব্দুল অরেশ খান চৌধুরী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আহলে হাদিছ অনুসারীরা ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে আহলে হাদিছ অনুসারীরা পৃথক দু’টি ভাগে ভাগ হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ড. আছাদুল্লাহ আল গালিব অনুসারীরা সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এবং মরহুম ড. আব্দুল বারী অনুসারীরা সাতক্ষীরা পি এন হাইস্কুর মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতেন।
আহলে হাদিছদের পৃথক ঈদের জামাতের কথা জানার পর সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন গত ১৪ জুন জেলা প্রশাসকের বাংলোতে দুই গ্র“পের নেতাদের নিয়ে বৈঠ করেন। তিনি পৃথক স্থানে ঈদের নামাজ আদায় না করে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এইক স্থানে একই আমামের পিছুনে নামাজ আদায় করার জন্য আহবান জানান।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের আহবানে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর পর এবার আহলে হাদিছ অনুসারীরা সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেলেন।

ঈদের নামাজ শেষে দেশ ও জাতির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন আলহাজ্ব মাওলানা মো: আব্দুল মান্নান।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন