তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রত্যাহার করতে হবে


মে ২৭ ২০১৮

শহর প্রতিনিধি: সংবিধানে বলা হয়েছে জনগন সকল ক্ষমতার মালিক। প্রশাসনিক ব্যাক্তিরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। জনতার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর আচারণ জনগণের প্রতিনিধিদের মর্যাদা ও সম্মানহানীর কারণ হলে অপমানিত হয় জনসাধারণ। যা তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আচরণে মাধ্যমে প্রস্ফুটিত হয়েছে। ফলে স্থানীয় জনগণের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় তালার সকল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদমুখর হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জনপ্রতিনিধিদের দাবি অবিলম্বে নির্বাহী অফিসারকে প্রত্যাহার করা না হলে জনতাকে সাথে নিয়ে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবে।
গতকাল সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শহীদ স.ম আলাউদ্দিন মিলনায়তনে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে তালা উপজেলা চেয়ারম্যান লিখিত বক্তব্যে নির্বাহী অফিসারের অনিয়ম দুর্নীতি ও বিধিবহির্র্ভূত আচারণের তথ্য তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরিদ হোসেনের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ তোপ দাগলেন উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১২ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তাদের সাথে যোগ দিলেন তালা কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।
তারা ঘুষ দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা অসদাচরন ও নানা অনিয়মের কারণে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রত্যাহার দাবি করেছেন। এ ছাড়া তার স্বেচ্ছাচারের প্রতিবাদে ৩ জুন পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের যাবতীয় কাজ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। পরদিন ৪ জুন এক সমাবেশের মাধ্যমে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন । শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, দুইজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১২ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এ সময় তালা কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ উপস্থিত থেকে তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার ও চেয়ারম্যানগণ বলেন, ২০১৬ সালের ৯ মে তারিখে যোগদানের পর থেকে নির্বাহী অফিসার ফরিদ হোসেন ঘুষ গ্রহণ ও নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম করছেন। ভ্রাম্যমান আদালতের ভয় দেখিয়ে তিনি উপজেলা পরিষদকে ভীতিকর জায়গায় পরিণত করেছেন।
তাকে ‘দুস্কৃতিকারী’ আখ্যায়িত করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৪ জুন মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় তিনি কয়েকজন চেয়ারম্যানকে শারীরিকভাবে আঘাত করতে উদ্যত হন। এমন কি তাদেরকে আটকে রেখে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন।
অভিযোগ করে তারা আরও বলেন, নির্বাহী অফিসার আইন কানুনের তোয়াক্কা না করেই নিজের খেয়াল খুশীমতো যাবতীয় সিদ্ধান্ত পরিষদের ওপর চাপিয়ে দেন। বিভিন্ন প্রকল্প এবং ইজারাসহ নানা খাতে তাকে নির্ধারিত ঘুষ দিতেই হয়। তিনি বিনা কারণে জনপ্রতিনিধিদের সাথে অসদাচরণ করেন। এমনকি কথায় কথায় তেড়ে আসেন।
এ প্রসঙ্গে তারা তালা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, উপজেলা মৎস্য অফিসার, নগরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান ও ধানদিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে তার অসৌজন্যমূলক আচরণ এমনকি মারপিট করতে যাওয়ার বিষয়ও তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ইউএনও ফরিদ হোসেন তালা উপজেলার সাড়ে পাঁচ লাখ জনগোষ্ঠীর কাছে এখন এক আতংক হিসাবে দেখা দিয়েছেন। তার সাথে বসে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার কোনো পরিবেশ নেই। সংবাদ সম্মেলনে তালা উপজেলার ১২ টি ইউনয়নের চেয়ারম্যানগন ছাড়াও দুই ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইকতিয়ার হোসেন ও জেবুন্নেসা খানম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের চার সদস্য ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন।
তবে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাহী অফিসার ফরিদ হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছর জুন মাস আসতেই পরিষদের কয়েকজন সদস্য কিছু অনিয়মতান্ত্রিক কাজ আদায়ের জন্য এ ধরনের প্রচারণা চালিয়ে থাকেন। এবারও তারা একইভাবে তাদের তদবির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এসব কথা বলছেন। তিনি কোনো ধরনের ঘুষ দুর্নীতির সাথে জড়িত নন।’

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন