সরকারি খাল ও ফসলী জমির মাটি পুড়ানো হচ্ছে তালার ইট ভাটায়


এপ্রিল ১৮ ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: তালার গোনালী নলতাস্থ জিআইবি ইট ভাটার মাটির যোগান পেতে মহন্দীর ঘাঁট কান্দার খালসহ স্থানীয় কৃষি জমির মাটিবাহী যন্ত্রদানবের অত্যাচারে রীতিমত অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন তালা সদরসহ প্রত্যন্ত এলাকাবাসী। প্রতিদিন অন্তত অর্ধ ডজন ট্রাক্টর দিয়ে নির্মিত অবৈধ ট্রাক যোগে মহন্দী ঘাঁট কান্দা এলাকা থেকে প্রায় ৭ কিঃমিঃ রাস্তার উপর দিয়ে ঐ মাটি আনা হচ্ছে। এনিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয়,আঞ্চলিক দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলেও স্থানীয় প্রশাসন এক অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেননা। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা ও ভাটা মালিকের খুঁটির জোর নিয়েও এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন যে,চলতি ইট ভাটা মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তালার গোনালী নলতাস্থ জিআইবি ইট ভাটা ইট প্রস্তুত করতে প্রধান উপাদান মাটির যোগান পেতে উপজেলার মহন্দি এলাকার ঘাট কান্দার সরকারি খাল ও ফসলি জমি থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ঘণ ফুট মাটি কেটে তা বড় ট্রাক্টর দিয়ে বহন করে ভাটায় নিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়,মাটি বহন করতে তারা স্থানীয় প্রশাসনসহ কতিপয় মহলকে ম্যানেজ করে খাল এলাকা থেকে ভাটা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিঃমিঃ রাস্তার উপর দিয়ে তালা উপজেলা সদর হয়ে পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়ক ব্যবহার করছে। প্রতি দিন অব্যাহত ভাবে চলা এসব যন্ত্রদানবের চাপে মারাতœকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাস্তাগুলি। অন্যদিকে দু’টি বাইপাস সড়ক হয়ে পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়কের উপর দিয়ে চলা যন্ত্রদানবের ভয়ে সারাক্ষণ তটস্থ থাকতে হচ্ছে পথচারীদের। এতে যেকোন সময় সড়কে ঘটে যেতে পারে কোন প্রাণঘাতি দূর্ঘটনা বলে সেই প্রথম থেকে আশংকা করে আসছেন এলাকাবাসী। ব্যস্ততম একাধিক সড়ক ব্যবহার করে চলা ভাটার এসব বাহনের চলাচল বন্ধে এলাকাবাসী এর আগে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন। তবে প্রশাসন এক অজ্ঞাত কারণে সেই প্রথম থেকেই ভাটার স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধাণ্য দিয়ে আসছেন।
অভিযোগে প্রকাশ থাকে যে,এর আগে তালার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী কল্যাণ বসুর মালিকানাধীণ গোনালীস্থ জিআইবি ব্রিক্সে ইটের প্রধান উপকরণ মাটির যোগান মেটাতে তারা কপোতাক্ষের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বাঁধ থেকে চুরি করে মাটি কেটে ইট প্রস্তুত করছিল। কয়েকবার ধরা পড়ে তাদের শ্রমিকরা জরিমাণার শিকারও হয়। তবে এখন পর্যন্ত মালিক পক্ষের কারো বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি কেউ। এবার নতুন করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা পুনরায় বিনা অনুমতিতে তালার মহন্দীর ঘাঁট কান্দা সরকারী খাল ও ফসলী জমি থেকে যন্ত্রদানবযোগে নিয়ে আসছে অবৈধ পন্থায় মাটি। এতে নতুন করে তাদের খুঁটির জোর ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,ভাটা কতৃপক্ষ প্রায় একমাস ধরে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে প্রতিদিন ভোর থেকে অন্তত ৬ টি ট্রাক্টর দিয়ে নির্মিত অবৈধ যন্ত্র দানব দিয়ে সেসব মাটি নিয়ে আসছে ইট ভাটায়। এতে তারা মহন্দী হয়ে প্রায় ৫ কিঃমিঃ পথ পাড়ি দিয়ে তালা সদরের উপর দিয়ে আরো ২/৩ কিঃমিঃ প্রধান সড়ক ব্যবহার করছে। প্রতিদিন অবিরাম যন্ত্র দানবের চলাচলে মারাতœকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাস্তাগুলি। অথচ স্থানীয় প্রশাসন এব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপই নিচ্ছেননা।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত,এরুপ অনবরত ভারী মাটিবাহী ট্রাকের খিপ্র ঝাঁকুনিতে রাস্তার মাটির তলদেশ পর্যন্ত অনবরত কম্পনে রাস্তা মারাতœকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এক সময় তা ধ্বসে পড়ারও আশংকা রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা সদরের উপর দিয়ে এসব নিয়ন্ত্রণহীন যন্ত্রদানবের অবিরাম ছুটে চলায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন পথচারীরা। বিশেষ করে উপজেলা সদরে অবস্থিত বিভিন্ন স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসা পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদের পথ চলা ও রাস্তা পারাপারে তৈরী হয়েছে চরম নিরাপত্তাহীনতা।
এব্যাপারে এর আগে সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন বলেছিলেন,তিনি কাউকে কোন সরকারী খাল থেকে মাটি কাটার অনুমতি দেননি। যদি কেউ এভাবে মাটি কেটে রাস্তা নষ্ট করে ইট ভাটায় মাটির যোগান মেটায় তা হলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি তিনি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবেন তবে পরে তিনি বদলী হয়ে যাওয়ায় কোন ব্যবস্থা নেয়নি কেউ।
সর্বশেষ অবৈধভাবে মাটি কেটে প্রধান সড়ক দিয়ে মাটি নেয়ার বৈধতা সম্পর্কে জানতে জিআইবি ইট ভাটার ম্যানেজার প্রকাশ’র নিকট তার ব্যবহৃত মোবাইলে বারংবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন