প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বোরো ধানে বাম্পার ফলনের আশা


এপ্রিল ৫ ২০১৮

নিজম্ব প্রতিনিধি: জেলার বিভিন্ন স্থানে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে মাঝে মাঝে বৈরী আবহাওয়া দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন কৃষকেরা। সুষ্ঠুভাবে ধান ঘরে তুলতে পারবে, কি না জলপনা কল্পনার অন্ত নেই। জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন সময় বোরো রোপন করা হয়। ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকের মনে যথই শঙ্কা থাকুক না কেন মৃদু মনানন্দও কাজ করছে। কৃষক-কৃষাণীরা ব্যাস্থ হয়ে পড়েছে ধান উত্তোলনে। কৃষকদের সাথে সাথে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কামারাও। সদরের পরানদাহ কামার পাড়া ঘুরে দেখা গেছে কাঁচি তৈরীতে খুবই ব্যাস্ত সময় পার করছে কামাররা। অধিকাংশ কৃষক ধান কাটার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। সদরের পরানদাহ বাজারের নিতাই কামার দিনে ৫০ টি করে কাঁচি তৈরী করেও ক্রেতা চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। ধান মাড়াই মেশিন তৈরীতেও ব্যস্ত কারিগররা। কারো মেরামত করোর নতুন তৈরী করে হিমশিম খাচ্ছে শ্রমিকরা। আবাদের হাটস্থ হাজী আব্দুল গফ্ফরের লেদে গিয়ে দেখা গেছে শ্রমিকরা ধান মাড়াই মেশিনে তৈরীতে খুবই ব্যস্ত তিনি। এখান থেকে প্রতি মৌসুমি ৫০Ñ৬০ টি ধান মাড়াই মেশিন তৈরী হয়।
জেলায় ৭৬৩৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। রোপন মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কোন অসুবিধায় পড়েনি। কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে ফসলে সবুজ আর সোনালী রংয়ের সমারহ। কৃষক ব্যস্ত শেষ মূহুর্তের পরিচর্যায়। গত বছর ৭৪৪৩০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৩০৮৭৪২ মেট্রিক টন ধান। চলতি বছরে আবাদ বেশী হয়েছে। কৃষি অফিস বলছে, সুষ্ঠ ভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারলে ৭৩০৪২০ মেট্রিকটন উৎপাদন আশা করছি। সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় বেশী বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। সদরে ২৩৯২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। লোনা পানির প্রভাবে এবারও শ্যামনগরে অর্থাৎ ২১০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের আওতায় আনা হয়েছে। সদর উপজেলার বাখারঘোজ গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, এ বছর কোন প্রকৃতিক দুর্যোগ না হলে বিঘা প্রতি ২৮ – ৩০ মণ ধান আশা করছি। সবার মুখে মুখে এখন বোরো ধানের ফলন ভাল হওয়ার গল্প। তবে শঙ্ক একটি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানান, এবার এখানো পর্যন্ত জেলায় বোরো ধানের ফলন ভাল লক্ষ্য করছি। আকাশের মাঝে মেঘের ঘনঘাটা দেখে একটু চিন্তিত। সুষ্ঠ ভাবে কৃষকের ঘরে ধান উঠলে আমাদের লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছেন তিনি।
সদর উপজেরার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, এখনো পর্যন্ত ফলন ভাল আশা করছি। তবে এবার ধানে বিক্রয় বাজার যদি ভাল না থাকে তবে কৃষক অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাবে।
উপজেলার টেংরাভবানীপুর গ্রামের লিয়াকত হোসেন জানান, এই মৌসুমে ধান কাটা, বাঁধা শ্রমিক ব্যাপক সংকট দেখা দেয়। যদিও পাওয়া যায় তবে শ্রমিক মুজুরী বাজার ছাড়া অনেক বেশী। ধানের দাম ভাল পাওয়া গেলে খরচ পুশিয়ে লাভের আশা করা যায়।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফসলের ফলন ভাল হলে কৃষক খুশি হয়। কিন্তু কিছু আসাধু ব্যবসায়ীর করনে নায্য মূল্য থেকে কৃষক বরাবরই বঞ্চিত হয়। প্রশাসনের কোন হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করা যায় না। কৃষকদের একটি দেশের প্রাণ বলা হয়। তাদের অধিক কষ্টের উৎপাদিত ফসলের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত যাতে না হয় সে দিকে নজর রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান করছে কৃষকেরা

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন