সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে জনসাধারণ


মার্চ ২৩ ২০১৮

শহর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল চিকিৎসক সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। হাসপাতালে মোট চিকিৎসকের পদের মধ্যে অর্ধেকই শূন্য পড়ে আছে দীর্ঘদিন। ফলে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছে।

সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর হাসপালে মোট চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২৭টি। যার মধ্যে ১৪টি পদই শূন্য। শূন্য পদগুলোর মধ্যে আছে সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থ. সার্জারি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়ার কনসালটেন্ট (পেডিয়েট্রিক্স), জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (প্যাথলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া),আবাসিক মেডিকেল অফিসার, রেডিওলজিস্ট, মেডিকেল অফিসারের (হোমিও/ইউনানী/ আয়ুর্বেদী) একটি ও মেডিকেল অফিসারের দুইটি পদ। এছাড়াও নার্সিং সুপার ভাইজার, স্টাফ নার্স, সহকারী নার্স ও স্টোর কিপারের একটি করে ও সিনিয়র স্টাফ নার্সের পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে।

ফলে শিশু ওয়ার্ড সামলাচ্ছেন একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক। এ্যানেসথেসিয়া দিচ্ছেন যে কোন মেডিকেল অফিসার। চোখের চিকিৎসা করছেন যখন যে চিকিৎসক (সাধারণ মেডিকেল অফিসার) দায়িত্বে থাকছেন তিনি। কখনও কখনও উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসাররাও রোগী দেখছেন।

উল্লেখ্য, সদর হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন দেড়শ থেকে দুইশ রোগী আসেন ডাক্তার দেখাতে। সুচিকিৎসা তো দূরে থাক জনবল সংকটে এতো রোগী সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


সরজমিনে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীদের দীর্ঘ লাইন। সেবা নিতে আসা সবার মুখেই হতাশার ছাপ। যারা ডাক্তার দেখাতে পারছেন তারাও খুশি নন। কারণ যে রোগের চিকিৎসক দেখাতে এসেছেন, সেই ডাক্তার নেই। অর্থাৎ পদটি শূন্য রয়েছে।
সদর হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এমনই একজন তালা উপজেলার মীর্জাপুরের ভ্যানচালক জাহাঙ্গীর হোসেন। দীর্ঘদিন চোখের সমস্যায় ভুগছেন। তিনি এসেছিলেন চোখের ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু চোখের ডাক্তার না থাকায় সাধারণ মেডিকেল অফিসারকে দেখাতে বাধ্য হলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘কি করবো, চোখের ডাক্তার তো নেই। ভ্যান চালায়। আমরা কি ক্লিনিকে ৫০০ টাকা দিয়ে ভাল ডাক্তার দেখাতে পারি? কিন্তু তালা থেকে সদর হাসপাতালে এসেও যদি ডাক্তার না পায় তাহলে ভাগ্যের দোষ দেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না। তারপরও ভয় থাকে, যে ডাক্তার দেখালাম, যদি চিকিৎসা সঠিক না হয়, তাহলে চোখ দুটিই তো শেষ হয়ে যাবে, তখন?’

সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি রয়েছে শ্যামনগর উপজেলার দামদরকাঠির শাহীদ উদ্দিনের তিন মাসের ছেলে। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সদর হাসপাতালে এসেও চিন্তামুক্ত হতে পারেননি তিনি। কারণ সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞের পদটি শূন্য। শিশু ওয়ার্ড চালাচ্ছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক নাজমুল হাসান ও মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট শফিউল্লাহ মুন্না।
শূন্য রয়েছে আরএমও’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটিও। এ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ডা. হাফিজউল্লাহ। জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্হিবিভাগের রোগী সামলাতেই রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের তো কিছু করার নেই।’
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞের পদটি শূন্য। তাই যখন যাকে পাই (মেডিকেল অফিসার) তাকে দিয়েই কাজ চালানো হয়। জনবল সংকটে কখনও কখনও উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার দিয়েও রোগী দেখাতে হচ্ছে। কোন উপায় নেই।’
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন তৌহিদুর রহমান জানান, ‘সদর হাসপাতালে জনবল সংকেটর কারণে চিকিৎসা সেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার অবহিত করেছি। ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্য সচিবের সাথেও দেখা করেছি। তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ^াস দিয়েছেন।’

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন