ফের সচল হচ্ছে সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্প


ফেব্রুয়ারি ১০ ২০১৭

এসবিনিউজ ডেস্ক : ফের সচল হচ্ছে  ‘ঢাকার শেরে বাংলানগরে জাতীয় সচিবালয় নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের করা মূল নকশার অভাবে এতোদিন থমকে ছিল সচিবালয় স্থানান্তর। এখন নকশা পেয়ে প্রকল্প পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মূল নকশা অনুসারে সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) পুনর্গঠন শেষে চলতি মাসেই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।

ফলে প্রায় দুই বছর ( ১ বছর ১০ মাস ২৬ দিন) পর আবারও সচল হচ্ছে সচিবালয় স্থানান্তরের কাজ।

মূল নকশা না থাকায় ২০১৫ সালের ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া থেকে বিরত থাকে। ওই সভায় একনেক চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল নকশা দেশে এনে সে অনুসারে প্রকল্প পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেন। ফলে প্রকল্পটি একনেক সভা থেকে ফিরে যায়।

প্রকল্পের বিষয়ে একনেক সভায় সিদ্ধান্ত  হয়েছিলো, ‘প্রস্তাবিত  এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয় সচিবালয় নির্মাণের লক্ষ্যে লুই আই কানের মূল নকশা যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করে সে অনুসারে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে ফের একনেকে পাঠাতে হবে’।

একনেকের সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে গত বছরের ০১ ডিসেম্বর মার্কিন স্থপতি লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশা দেশে আনা হয়েছে। পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির আর্কাইভ থেকে ৪১টি বাক্সে নকশাগুলো এনে জাতীয় সংসদের আর্কাইভে রাখা হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন-১) এস এম আরিফ-উর-রহমান বলেন, ‘নকশায় যেভাবে আছে, ঠিক সেভাবে প্রকল্প পুনর্গঠন করবো। খুব শিগগিরই পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। এর পরে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয়, সে অনুসারে প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে’।

চার বছরে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একনেক সভায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিলো দুই হাজার ২০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তবে পুনর্গঠিত ডিপিপি’তে মেয়াদ ও ব্যয় অনেক বাড়বে বলে সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩২ একর জমিতে চারটি ব্লকে ভাগ করে জাতীয় সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিলো। দু’টি বড় ব্লকে ৩২টি বড় মন্ত্রণালয় এবং দু’টি ছোট ব্লকে ১৬টি ছোট মন্ত্রণালয়কে স্থানান্তরের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিলো। যেখানে থাকবে  অডিটোরিয়াম, সম্মেলন কেন্দ্র, ব্যাংক, পোস্ট অফিস, মসজিদ, কার পার্কিং ইত্যাদি।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় আরও ছিলো, জাতীয় সংসদ ভবনের উচ্চতা ১৫০ ফুট। সে ক্ষেত্রে সচিবালয় নয় তলার বেশি হবে না। সংসদ ভবনের উচ্চতা সীমার বিষয়টি রক্ষার্থে বিশ্বের উন্নত দেশের মতো ভূ-গর্ভস্থ বা কয়েকটি ফ্লোর মাটির নিচে করারও পরিকল্পনা ছিল।

তবে লুই আই কানের নকশা অনুসারে ডিপিপি পুনর্গঠন করা হলে সব কিছুরই পরিবর্তন হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই  আই কানের নকশা সংশোধন করেছে স্থাপত্য অধিদফতর। কারণ, ইতোমধ্যে আগের চেয়ে জমি কমে গেছে ১০ একর। এ জমিতে লুই আই কানের নকশা বহির্ভূত কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

 

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন