শার্শায় নির্বাচনী আমেজে আ’লীগ, যাযাবর জীবনযাপন বিএনপির


ডিসেম্বর ৩ ২০২৩

Spread the love

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি : দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে শার্শায়। গলি থেকে রাজপথ, পাড়া মহল্লা, বাজার, চায়ের দোকানে এখন চলছে নির্বাচনী আলোচনা। মুখরোচক এসব আলোচনাতে অংশ নিচ্ছে সব শ্রেণির মানুষ। মনোনয়ন ক্রযের পর থেকে মিষ্টিমুখ পটকা বাজি ফোটানো, আনন্দ মিছিল, প্রিয নেতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর মতো ছোট ছোট উৎসব আমেজে মেতেছে আওয়ামী লীগ। এখন চলছে প্রার্থীদের নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ। কে দলীয় প্রার্থী কে স্বতন্ত্র, কে অন্য দলের, জনপ্রিয়তায় কে এগিয়ে, কার কোথায় ভোট বেশি বা কম এসব নিয়ে চুলচেরা আলোচনা চলছে নির্বাচনী এলাকায়।
অন্যদিকে নির্বাচনে অংশ না নেয়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থা বড়ই বেগতিক। মামলা মাথায় নিয়ে দিনে গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও রাতে তারা কেউ নিজের বাসায় বালিশে মাথা দিয়ে ঘুমাতে পারছে না। সংসার সন্তান, মা-বাবা, স্ত্রী ফেলে বাগানে কবরস্থানে ধানক্ষেতের আইল এখন তাদের রাতে যাপনের ঠিকানা। একাধিক মামলায় জর্জরিত বিএনপি’র নেতাকর্মীরা কেউ তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাষাবাদ, চাকুরী ঠিকমতো করতে পারছে না প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাত আসামী থাকায় মামলার বাইরে যারা আছেন তারাও তাদের পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
জেল থেকে জামিন পেলেও অনেকে আবার নতুন মামলায় জড়িয়ে পড়ছে এসব নাশকতা মামলার সর্বশান্ত হচ্ছে নেতা কর্মীরা।একাধিক মামলার আসামি কয়েকজন নেতা কর্মী বলেন, মিথ্যা মামলায় তাদের জড়ানো হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকলেও মামলার আসামি করা হচ্ছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফাইদা লুটতে সরকার এসব মিথ্যা গায়েবি মামলা দিয়ে বিএনপিকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, পুলিশ অভিযানের নামে তামাশা করছে অভিযানে গিয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদের সাথে দুর্ব্যবহার করছে। নাজেহাল করছে পরিবারে অন্য সদস্যদের। অভিযুক্তদের না পেয়ে তারা অন্য স্বজনকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
শার্শা থানা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব খায়রুজ্জামান মধু বলেন, সরকার আমাদের মুখের ভাষা ও রাতের ঘুম দুটোই কেড়ে নিয়েছে। আমরা এখনো পরাধীন, আমাদের ন্যায় সঙ্গত আন্দোলন বন্ধ করার জন্য সরকার এই গায়েবী মামলা দিয়ে আন্দোলন প্রতিহত করতে চাই।
একাধিক মামলার আসামি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান জহির বলেন, আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমার সন্তান মারা গিয়েছে আমি তাকে দেখতে পারিনি। শার্শার ১১ টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার নেতাকর্মী মামলার আসামি ও অজ্ঞাত তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের সংসার সন্তান মা-বাবা স্ত্রী ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে দলীয় সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে এবং প্রশাসন মামলা করছে। এসব বন্ধ না হলে এবং আমাদের নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা এসব অন্যায়ের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেব।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তি রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে বলেন, রাতের আঁধারে সরকার আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম স্তব্ধ করতে চাই। সরকার তার পোষ্য বাহিনী ও প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে দমন, নিপীড়ন চালাচ্ছে আমাদের নেতাকর্মীরা মামলা হামলা শিকার। তারা রাতে নিজেদের বাসায় ঘুমাতে পারছে না। পরিবারের সাথে নেতাকর্মীদের যোগাযোগ ছিন্ন তারা এখন যাযাবর জীবন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবারে সংসারের চাকা অচল হয়ে পড়েছে। বেশি দিন দেশের জনগণ এসব মেনে নেবে না তারা জীবনের বিনিময়ে হলেও সরকারকে প্রতিহত করবে।
বিএনপির এসব অভিযোগের প্রশ্নে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম আকিকুল ইসলাম বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ও আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বানচাল করার লক্ষে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো নানান সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হচ্ছে তবে তাদের অযথা হয়রানি করা বা পরিবারের প্রতি কোন প্রকার দুর্ব্যবহার পুলিশ করছে না। আমরা শুধু মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি