গ্রাম বাংলায় শীতকালীন পিঠার আমেজ আর নেই


জানুয়ারি ১৪ ২০২২


বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি:
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হরেক রকমের শীতকালীন বাহারি পিঠা। একসময় পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায় ছোট-বড় সকলেই পিঠা খাওয়ার আনন্দে মেতে উঠত। কিন্তু এখন তা আর চোখে পড়েনা। কর্মচাঞ্চল্য এই ব্যস্তময় জীবনের গর্ভে তা এখন হারিয়ে যাচ্ছে। আগে যত শীত বাড়তো ততই যেন মানুষের পিঠা বানানোর ব্যস্ততা বেড়েই চলত। শীতকাল আসলে গ্রাম-গঞ্জে, ফুট-পথ হতে শুরু করে প্রতিটি ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর ব্যস্ততা বেড়ে যেত। বাহারি রকমের পিঠা তৈরির উৎসবে আত্মহারা হত সর্বস্তরের মানুষ। এসময় গ্রামে সন্ধ্যা হলেই চাল কোটার শব্দে মুখরিত হতো চারদিক। রাতভর চলতো পিঠা তৈরির কাজ। অনেকে আবার পিঠা তৈরির সময় গীত গেয়ে রাত পার করতো। পিঠার অন্যতম উপাদান চালের গুঁড়ো হলেও এর সঙ্গে লাগে গুড়, ক্ষীরসহ নানা উপকরণ। এ উপকরণের সঙ্গে শীতের একটা যোগসূত্র আছে। তাই হেমন্ত থেকে শীতকাল পর্যন্ত পিঠা তৈরির ধুম পড়ে। বাংলাদেশে কত রকম পিঠা হয় তা বলে শেষ করা কঠিন। শীতের এই সময়ে গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতি ঘরেই চিতল, দুধচিতল, পুলি, নকশি, পাটিসাপটা, ভাপা, পাখন, তেলে ও গোটা পিঠাসহ হরেক রকমের পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গৃহিণীরা। তবে জনপ্রিয় পিঠার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চিতই, পাটিসাপটা, লরি পিঠা, ভাপা, আন্দশা, কুশলী, পাতা পিঠা, কাটা পিঠা, ছিট পিঠা, চুটকি পিঠা, মুঠি পিঠা, মেরা পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, চাপড়ি পিঠা, নকশি পিঠা, পুলি পিঠা, জামাই পিঠা, ঝুরি পিঠা ও বিবিয়ানা পিঠা। কিন্তু কালের বিবর্তনে ও কর্মচাঞ্চল্যের কারণে গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখন বাড়িতে পিঠা তৈরির সেই উৎসবমুখর আমেজ হারিয়েছেন। সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবন যাত্রা বদলে যাচ্ছে অনেক। কালের বিবর্তনে সাথে সাথে আমাদের গ্রামীন সংস্কৃতি গুলো হারিয়ে যাচ্ছে। লতা খাতুন নামের একজন গৃহিণী শীতের ঐতিহ্যবাহী হরেক রকমের বাহারি পিঠা সম্পর্কে বলেন, শীত আসলে আগে কত ধরণের পিঠা বানাতাম। সারা রাত বসে ঢেঁকিতে চাল গুড়া করতাম এবং ভোরে উঠে পিঠা বানাতাম সবাই মিলে। ছেলে মেয়েরা আনন্দের সাথে পিঠা খেয়ে স্কুলে চলে যেত। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে পিঠা তৈরি হয় না। আগের সেই পিঠা বানানোর আমেজ হারিয়ে গেছে অনেক দিন আগে। এখন সবাই পিঠা বাজার থেকে কিনে এনে খায়। এতে কোন আনন্দ-উৎসব থাকে না। গ্রামের গৃহিণীদের মধ্যে আগের মত পিঠা বানানোর উৎসব নেই। হরেক রকমের পিঠ আমাদের নতুন প্রজন্ম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই পিঠা বানানোটা এখন স্মৃতি হয়ে গেছে।

আশাশুনিতে চাল ভর্তি ট্রাক উল্টে মৎস্য ঘেরে
আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বুধহাটা টু চাম্পাফুল সড়কে খাদ্য অধিদপ্তরের চালবাহী ট্রাক উল্টে রাস্তার পাশে মৎস্য ঘেরে গিয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে শোভনালী ব্রীজ এর পরের কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় এ চালবাহী ট্রাকটি ইঞ্জিন ভ্যানকে সাইড দিতে গিয়ে উল্টে যায়। স্থানীয়রা জানান, যশোর-ট (১১-১১৯৩) ট্রাকটি সাতক্ষীরা থেকে “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুদা হবে নিরুদ্দেশ” এই শ্লোগানে বাংলাদেশ খাদ্য অধিদপ্তরের চাল নিয়ে আশাশুনির দিকে যাচ্ছিলো। ঘটনাস্থলে পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইঞ্জিন ভ্যানকে সাইড দিতে গিয়ে চাকা বসে ট্রাকটি উল্টে পাশের মৎস্য ঘেরে গিয়ে পড়ে। চালবাহী ট্রাকটিতে প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি করে ৬০০ বস্তা (যার ওজন ১৫/১৬ টন) চাল ছিলো। স্থানীয়রা আরও জানান, বর্তমানে আশাশুনি টু সাতক্ষীরা সড়কের চাপড়া বেইলী ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অধিকাংশ মালবাহী যানবাহন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। এদিকে এ সড়কটির কিছু অংশ ওভার লোডের কবলে পড়ে বেহাল দশায় পরিণত হলেও সংস্কারের তেমন কোন সাড়া মেলেনি। ক্রমবর্ধমান এসব দূর্ঘটনা রোধে বুধহাটা টু চম্পাফুল রাস্তার বেউলা মায়ার বাড়ি হতে চম্পাফুল পর্যন্ত সড়ক সংস্কার জরুরী বলে স্থানীয়রা জানান।
আশাশুনিতে ওমিক্রণ প্রতিরোধে ভার্চুয়ালী মিটিং
আশাশুনিতে ওমিক্রণ সংক্রমণ প্রতিরোধে জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এ মিটিং এর আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁনের সভাপতিত্বে জুম সভায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহাগ খানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ ও এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন। সভায় করোনা ভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রণ এর প্রাদুর্ভাব ও দেশে এই রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃ মন্ত্রনালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যাবলি এবং চলাচলের উপর বিধি-নিষেধ প্রতিপালনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও বিধি নিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন