প্রাপ্ত ভোটে শতকের ঘর পার করতে পারেনি ৮ চেয়ারম্যান প্রার্থী : আশাশুনির ১১ ইউপি নির্বাচনে জামানত হারালেন ২৭ চেয়ারম্যান প্রার্থী


জানুয়ারি ১১ ২০২২


বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি:
সদ্য সমাপ্ত পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আশাশুনি উপজেলার ১১ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে ২৭ জন তাদের জামানাত হারিয়েছেন। এদের মধ্যে ৮জন প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ১০০ এর নিচে রয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলার উপজেলার ১১ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সর্বমোট ৫৬ জন প্রার্থী নির্বাচন করেছিলেন। যার মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক ১১ জন, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীক ২ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীক ৪ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ মনোনীত মশাল প্রতীক ১ জন ও বাকী ৩৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা, ঘোড়া, আনারস, মোটরসাইকেল, টেবিল ফ্যান, টেলিফোনসহ বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। এসকল প্রার্থীদের মধ্যে সর্বমোট ৩৭ জন নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মোট পোলকৃত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের স্ব স্ব জামানত হারিয়েছেন। ফলাফলে বিশ্লেষনে দেখাগেছে, শোভনালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন নির্বাচনে অংশগ্রহন করলেও তাদের মধ্যে ৩ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যার মধ্যে আব্দুল মজিদ মোল্যা ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৬২ ভোট, এসএম মনিরুজ্জামান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৮৯ ভোট এবং লুৎফর রহমান হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৫৬ ভোট। বুধহাটা ইউনিয়নে ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যার মধ্যে এমডি ফিরোজ আহমেদ আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২০৪ ভোট, আবুল হাসেম চশমা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৯৮৩ ভোট, রেজবিদান সরদার লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৬৭ ভোট এবং মোবারক হোসেন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২২৬ ভোট। কুল্যা ইউনিয়নে ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ২ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যার মধ্যে মাসুম আলী ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৩ ভোট এবং ইয়াকুব আলী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫০৯ ভোট। দরগাহপুর ইউনিয়নে ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যার মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৮৯ ভোট, স ম জাকির হোসেন চশমা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১২১৩ ভোট এবং অজিয়ার রহমান হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৪২ ভোট। বড়দল ইউনিয়নে ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যার মধ্যে, আব্দুল হান্নান মন্টু সরদার আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৪৬৪ ভোট, এসএম নাসিরউদ্দীন আরজু সানা চশমা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১০৯ ভোট, আবু সাইদ ঢালী মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২১৬ ভোট এবং আব্দুল গফুর রজনীগন্ধা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১৭ ভোট। আশাশুনি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা ৩ জন প্রার্থীই কাঙ্খিত ভোট পাওয়ায় ঐ ইউনিয়নে কোন চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়নি। শ্রীউলা ইউনিয়নে ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে শুধুমাত্র রফিকুজ্জামান ছট্টু চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে ১৩৯১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। খাজরা ইউনিয়নে ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যার মধ্যে ফজলুর রহমান ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩ ভোট, রবিউল ইসলাম রবি চশমা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৩২৫ ভোট, বোরহান উদ্দিন মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫০ ভোট, ফজলুল হক মশাল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৬ ভোট ও নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল রজনীগন্ধা ফুল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫১ ভোট। আনুলিয়া ইউনিয়নে ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে শুধুমাত্র জাবেদুল মাওলা মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে ৫০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। প্রতাপনগর ইউনিয়নে ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যার মধ্যে নুরুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৫ ভোট, শেখ রিয়াদ মাহমুদ মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৩ ভোট ও হারুন-উর-রশিদ টেবিল ফ্যান প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৩৪২ ভোট। কাদাকাটি ইউনিয়নে ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে শুধুমাত্র অমৃত কুমার সানা ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৮৬৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। প্রাপ্ততথ্যে দেখাগেছে, জামানত হারানো ২৭ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন ১০০ ভোটও পাননি।

আশাশুনিতে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত
বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি:
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আশাশুনিতে শুভেচ্ছা মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় আশাশুনি উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ আয়োজনে শুভেচ্ছা মিছিলটি আশাশুনি জনতা ব্যাংক মোড় থেকে শুরু হয়ে বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জনতা ব্যাংকের সামনে এসে পথসভায় মিলিত হয়। আশাশুনি সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন হোসেনের সভাপতিত্বে এসময় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বিপুল, সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি তবিবুর রহমান, সহ-সভাপতি নাহিদুজ্জামান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসমাউল হুসাইন, ছাত্রলীগ নেতা তানভীর রহমান রাজ, তারিক, শংকর, শাহরুল, মিজান, শান্ত, এমদাদ, রাফসান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

আশাশুনিতে শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে
ব্যবস্থাপনার অভাবে এক কেন্দ্রে টিকাদান বন্ধ

আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সপ্তম থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ এর প্রথম ডোজ টিকাদান কার্যক্রমের ২য় দিনে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর ২ ঘন্টা পর ব্যবস্থাপনার অভাবে একটি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দাড়িয়ে দাড়িয়ে অপেক্ষার পর বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছে। আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুল্যা ইউনিয়নের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭ম থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের টিকাদান করা হয়। একেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়। অপরদিকে, রিভারভিউ কেওড়া পার্কে বুধহাটা ইউনিয়নের সকল মাধ্যমিক স্তরের স্কুল, মাদরাসার কলেজের ৭ম থেকে একাদশ শ্রেনির শিক্ষার্থীদের টিকাদানের আয়োজন করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী টিকা নিতে সকাল ৮ টার পর থেকে কেওড়া পার্কে আসতে শুরু করে। ১০ টার দিকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু একটি মাত্র পথে ছাত্রছাত্রীদের ঢোকা ও বের হওয়ার ব্যবস্থা ছিল। প্রথমে লাইনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যে লাইন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। সেখানে কয়েকজন গ্রাম পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের পক্ষে ছাত্রছাত্রী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব ছিলনা। তাছাড়া একটি মাত্র কেন্দ্রে একটি মাত্র পথে এতগুলো মানুষের প্রবেশ বাহির হওয়ার ব্যবস্থা থাকায় পরিবেশ ঠিক রাখাও কঠিন ছিল। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষক, অভিভাবক টিকাদান কক্ষের মধ্যে প্রবেশ করায় জটিলতা বেড়ে যায়। টিকাদান কাজের সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বারবার চেষ্টা করেও তাদেরকে বের করতে না পেরে বল প্রয়োগ করতে গেলে শারীরিক এ্যাসাল্ট ও বিশৃংখলা সৃষ্টির করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে। সবমিলে ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এনিয়ে শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সচেতন অনেকে উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্মরনাপন্ন হলেও শেষ পর্যন্ত পরিবেশ রক্ষার ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। দূরদুরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে বিফল মনোরথ হয়ে টিকা না পেয়ে ফিরতে বাধ্য হয়। অপরদিকে, টিকানিতে আসা মানুষকে বহনকারী যানবাহন, সড়কের প্রতিদিন চলাচলকারী যানবাহনের ভিড়ে সাতক্ষীরা-শ্রীউলা ভায়া আশাশুনি সড়কের মহেশ্বরকাটি থেকে ব্রীজ হয়ে আশাশুনি বাইপাস সড়কের বড় অংশ জুড়ে চরম যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে ৩ টা পর্যন্ত যানজটে পড়ে পথচারী, যানবাহন যাত্রী ও চালকদের মধ্যে কল্পনাতীত দুর্ভোগ নেমে আসে। উল্লেখ্য, আজ (মঙ্গলবার) আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দরগাহপুর ইউনিয়নের এবং রিভারভিউ কেওড়া পার্কে কাদাকাটি ইউনিয়নের সকল মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে।

আশাশুনিতে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আশাশুনিতে শুভেচ্ছা মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় আশাশুনি উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ আয়োজনে শুভেচ্ছা মিছিলটি আশাশুনি জনতা ব্যাংক মোড় থেকে শুরু হয়ে বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জনতা ব্যাংকের সামনে এসে পথসভায় মিলিত হয়। আশাশুনি সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন হোসেনের সভাপতিত্বে এসময় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বিপুল, সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি তবিবুর রহমান, সহ-সভাপতি নাহিদুজ্জামান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসমাউল হুসাইন, ছাত্রলীগ নেতা তানভীর রহমান রাজ, তারিক, শংকর, শাহরুল, মিজান, শান্ত, এমদাদ, রাফসান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

আশাশুনিতে শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে
ব্যবস্থাপনার অভাবে এক কেন্দ্রে টিকাদান বন্ধ

আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সপ্তম থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ এর প্রথম ডোজ টিকাদান কার্যক্রমের ২য় দিনে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর ২ ঘন্টা পর ব্যবস্থাপনার অভাবে একটি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দাড়িয়ে দাড়িয়ে অপেক্ষার পর বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছে। আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুল্যা ইউনিয়নের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭ম থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের টিকাদান করা হয়। একেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়। অপরদিকে, রিভারভিউ কেওড়া পার্কে বুধহাটা ইউনিয়নের সকল মাধ্যমিক স্তরের স্কুল, মাদরাসার কলেজের ৭ম থেকে একাদশ শ্রেনির শিক্ষার্থীদের টিকাদানের আয়োজন করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী টিকা নিতে সকাল ৮ টার পর থেকে কেওড়া পার্কে আসতে শুরু করে। ১০ টার দিকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু একটি মাত্র পথে ছাত্রছাত্রীদের ঢোকা ও বের হওয়ার ব্যবস্থা ছিল। প্রথমে লাইনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যে লাইন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। সেখানে কয়েকজন গ্রাম পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের পক্ষে ছাত্রছাত্রী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব ছিলনা। তাছাড়া একটি মাত্র কেন্দ্রে একটি মাত্র পথে এতগুলো মানুষের প্রবেশ বাহির হওয়ার ব্যবস্থা থাকায় পরিবেশ ঠিক রাখাও কঠিন ছিল। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষক, অভিভাবক টিকাদান কক্ষের মধ্যে প্রবেশ করায় জটিলতা বেড়ে যায়। টিকাদান কাজের সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বারবার চেষ্টা করেও তাদেরকে বের করতে না পেরে বল প্রয়োগ করতে গেলে শারীরিক এ্যাসাল্ট ও বিশৃংখলা সৃষ্টির করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে। সবমিলে ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এনিয়ে শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সচেতন অনেকে উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্মরনাপন্ন হলেও শেষ পর্যন্ত পরিবেশ রক্ষার ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। দূরদুরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে বিফল মনোরথ হয়ে টিকা না পেয়ে ফিরতে বাধ্য হয়। অপরদিকে, টিকানিতে আসা মানুষকে বহনকারী যানবাহন, সড়কের প্রতিদিন চলাচলকারী যানবাহনের ভিড়ে সাতক্ষীরা-শ্রীউলা ভায়া আশাশুনি সড়কের মহেশ্বরকাটি থেকে ব্রীজ হয়ে আশাশুনি বাইপাস সড়কের বড় অংশ জুড়ে চরম যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে ৩ টা পর্যন্ত যানজটে পড়ে পথচারী, যানবাহন যাত্রী ও চালকদের মধ্যে কল্পনাতীত দুর্ভোগ নেমে আসে। উল্লেখ্য, আজ (মঙ্গলবার) আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দরগাহপুর ইউনিয়নের এবং রিভারভিউ কেওড়া পার্কে কাদাকাটি ইউনিয়নের সকল মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে।

আশাশুনিতে টিকাদান কাজে বাধা, সরকারি
কর্মচারীকে লাঞ্চিত ও বিশৃংখলা সৃষ্টির অভিযোগ
বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি:
আশাশুনিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ছাত্র/ছাত্রীদের টিকা প্রদান কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীকে লাঞ্চিত ও বিশৃংখলা সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার উপজেলার রিভারভিউ কেওড়া পার্ক টিকাদান কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদেষ্ণা সরকার, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সহকারী, স্টাফ নার্স ও কর্মচারীবৃন্দ জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের টিকাদান কর্মসূচি মোতাবেক চাপড়া রিভারভিউ কেওড়া পার্কে সোমবার সকাল ১০ টা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। ফাইজারের টিকা এসি রুমের মধ্যে সংরক্ষণ করে এসি রুমে টিকা প্রদান করা হয়। সেখানেই টিকা গ্রহিতাদেরকে টিকা নেওয়ার পর কমপক্ষে ২০ মিনিট রেষ্ট নিতে হয়। ছোট একটি কক্ষে কার্যক্রম চলছিল, সেখানে অতিরিক্ত ও নিষ্প্রয়োজনীয় ব্যক্তি হিসাবে কোদন্ডা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজী শিক্ষক মইনুর আলম ও কুঁন্দুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী আজিজুর রহমান দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় তাদেরকে বাইরে যেতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বারবার অনুরোধ অগ্রাহ্য করে শিক্ষক মইনুর দায়িত্বরত কর্মচারী স্বাস্থ্য সহকারী এসএম মোক্তারুজ্জামানকে (ইউএইচএ’র উপস্থিতিতে) তারা গায়ের জামা ধরে টানা হেচড়া, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও এলোপাতাড়ী কিল ঘুষি মেরে বিশৃংখলার সৃষ্টি করেন এবং দপ্তরী আজিজুর জুতা দিয়ে মারপিট করতে উদ্যত হন। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমীক সুপার ভাইজারকে অবহিত করে কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে আক্রমনকারী দুজনকে শনাক্ত করলে তারা অফিসারের সামনে আক্রান্ত কর্মচারীকে পুনরায় গালিগালাজসহ মারতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদেষ্ণা সরকার সাংবাদিকদের জানান, তাদের কাজে বাধা, হেনস্থা করা, মারপিট ও বিশৃংখলা সৃষ্টির কারনে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লেখা আবেদনপত্র তৈরি করা হয়েছে। কাল জমা দেওয়া হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমীক সুপার ভাইজার হাসানুজ্জামান বলেন, তারা কোন স্কুলের সেটি আমার সঠিক জানা নেই। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি আমার সাথে কথা বলার সময় তারা আক্রমনাক্তক হয়েছিল বলে তিনি স্বীকার করেন। এদিকে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন