গ্রামের দর্ষি মেয়েটা দেশসেরা দ্রুততম মানবী শিরিন


আগস্ট ২২ ২০২১


এস,এম,হাবিবুল হাসান :সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত গ্রামের দর্ষি মেয়েটা দেশসেরা দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। গত বাংলাদেশ গেমস সহ টানা ১২ বার দ্রুততম মানবী ট্রাক অ্যান্ড ফিল্ডের এই রাণীর। অ্যাথলেট হিসাবে ১০০ মিটারে জেতা যা দেশসেরা রেকর্ড। এছাড়াও তার অর্জনে আছে, ২০১২ সাল পর্যন্ত জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম স্থান, এসএ গেমসে ২টি ব্রোঞ্জ, জুনিয়র এসএ গেমসেও ২টি ব্রোঞ্জ, ২০১৬ রিও অলিম্পিকে হিটে ৫ম স্থান, কমনওয়েলথ গেমসে অংশগ্রহন। তার আশা আগামী ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকে অংশগ্রহন করে দেশের জন্য পদক নিয়ে আসবেন । ভবিষ্যৎতে স্পোর্টস সাইন্স’র উপর পিএইচডি করে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের হয়ে অ্যাথলেটিক্স খেলোয়াড় তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন দেশসেরা এই দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার।  
সাতক্ষীরা সদরের অজপাড়াগাঁয়  দহাকুলা গ্রামে ১৯৯৪ সালে ১২ অক্টোবর এক দরিদ্র কৃষক শেখ আব্দুল মুজিদ ও আঙ্গুরা খাতুন দম্পত্তির ঘরে জন্মগ্রহন করে এই দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। চার বোনের মধ্যে শিরিন দ্বিতীয়। ছোট বেলা থেকে দুরন্তপনা ও দর্ষি মেয়ে শিরিন আক্তার। দহাকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় দুরন্তপনার সাক্ষী হয়ে যায় শিক্ষক এবং তার পরিবারের কাছে।সেই প্রথম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে অর্জন করতেন পুরস্কার। তারপর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে ভর্তি হয় পৌর শহরতলীর কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে পড়া অবস্থায় ২০০৭ সালে বিকেএসপি থেকে সাতক্ষীরায় খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচিতে শিরিন আক্তার সিলেক্ট হয়। বিকেএসপিতে ৭ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে এসএসসি, এইচএসসি শেষ করে, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স, উত্তরা ইউনিভার্সিটি থেকে বিপিএড, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্পোর্টস সাইন্স’র উপর এমএস করছেন এই দ্রুততম মানবী শিরিন। 
বর্তমানে শিরিন আক্তার তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়ের উপর বৃদ্ধ পিতা-মাতাসহ দুই বোনের পড়াশুনার খরচ নির্বাহ করে। একটি বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তার পরিবার এখন ৫জনে। তার দুইবোনও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পোর্টস সাইন্স’র উপর পড়ছেন। ট্রাক অ্যান্ড ফিল্ডের এই রাণী শিরিন আক্তার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে অ্যাথলেটিক্স ট্রাকে অংশগ্রহন করে।
দেশসেরা দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার বলেন, ছোটবেলার দুরন্তপনা ও দর্ষি মেয়ে থেকে আজ  আমি দেশসেরা দ্রুততম মানবী। আমার এই অর্জনের জন্য বিকেএসপি, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, আমার কোচ সহ সবার কাছে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যৎতে স্পোর্টস সাইন্স’র উপর জার্মানী অথবা আমেরিকায় পিএইচডি করে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের হয়ে অ্যাথলেটিক্স খেলোয়াড় তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন দেশসেরা এই দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। আমি চাই আরও সামনে এগিয়ে যেতে। আমার লক্ষ্য ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে আইডল হিসাবে মানেন তিনি। এছাড়াও তিনি তার নিজের জেলা সাতক্ষীরাতেও অ্যাথলেটিক্স খেলোয়াড় তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এজন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়েছেন।    

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন