ক্ষুদিরামের পক্ষ অবলম্বনকারী সতীশচন্দ্র চক্রবর্তীর প্রশ্ন ও ক্ষুদিরামের উওর


আগস্ট ১২ ২০২১

:আশরাফুল ইসলাম রাব্বি

সতীশ : কাহাকেও তোমার দেখিতে ইচ্ছা হয় না ?ক্ষুদি : হাঁ হয় বৈকি । মরণের আগে জন্মভূমি মেদিনীপুরকে দেখিতে সাধ হয় ; দিদির ছেলেমেয়েগুলিকে দেখিতে মন চায় ।সতীশ : তোমার মনে কোনো দুঃখ আছে কি ?ক্ষুদি : না , কিছু না ।সতীশ : কোন আত্মীয়-স্বজনকে এখানে আসিতে বলিতে চাও !ক্ষুদি : না, তবে তাঁরা ইচ্ছা করিলে আসিতে পারেন ।সতীশ : তোমার মনে কোন ভয় হয় কি ? ক্ষুদি : কেন ভয় করিব ? ( হাসতে হাসতে )আমি কি গীতা পড়ি নাই ?সতীশ : জেলে তোমার প্রতি কেমন ব্যবহার করা হয় ?ক্ষুদি : একরকম ভালোই । জেলের খাবারটা খারাপ , আমার সহ্য হয় না , তাতেই শরীরটা খারাপ হয়েছে । একটা নির্জন ঘরে আমাকে বন্দি করে রাখে , কেবল একবার স্নানের সময় বাইরে আসতে দেয় । একা থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি , কোন খবররের কাগজ বা বই পড়তে দেয় না । দিলে ভালো হতো ।সতীশ : তুমি কি জান রংপুর হইতে আমরা কয়েকজন উকীল তোমাকে বাঁচাইতে আসিয়াছি ? তুমি তো নিজেই আপন কৃতকর্ম স্বীকার করিয়াছ ।ক্ষুদি : কেন স্বীকার করব না ? সকলে স্তম্ভিত হয়ে গেল । বুঝলো এ আর কেহ নয় , স্বয়ং বালকরূপে মৃত্যুঞ্জয় মহাকাল । অন্তিম সময়ে সে ম্যাৎসিনী, গ্যারিবল্ডি ও রবীন্দ্ররচনাবলী পড়তে চেয়েছিল , অন্তিম দিনে উকীল কালিদাস বাবুকে বলেছিলেন , রাজপুত নারীরা যেমন নির্ভয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়া জওহরব্রত উদযাপন করত , আমিও তেমন নির্ভয়ে প্রাণ দিব । আগামীকাল আমি ফাঁসির আগে চতুর্ভুজার প্রসাদ খাইয়া বধ্যভূমিতে যাইতে চাই । ফাঁসির আগে ক্ষুদিরামের শেষ ইচ্ছা প্রথমে ছিল এই যে – তিনি বোমা বানাতে পারেন, অনুমতি পেলে ওটা সবাইকে শিখিয়ে যেতে চান! বলাবহুল্য সে ইচ্ছা এককথায় বাতিল করে দিয়ে আবার জানতে চাওয়া হয় যে তাঁর শেষ ইচ্ছা কি । এবার ক্ষুদিরাম জানান যে তাঁর দিদিকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে । দুর্ভাগ্যবশতঃ তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ হয় নি কারণ ইচ্ছা থাকলেও স্বামীর অমতে অপরূপা দেবী ভাই ক্ষুদিরামকে দেখে যেতে পারেন নি । কিন্তু সেদিন তাঁর ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন তাঁর পাতানো দিদিটি । সেই পাতানো দিদিটি কে ? জুবেদা খাতুন , তিনীই ক্ষুদিরামের মামলার খরচ যুগিয়েছিলেন । তিনি সব বাধা কাটিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন মজঃফরপুরে ক্ষুদিরামের সাথে দেখা করতে । ইংরেজদের জল্লাদ পুষ্পমাল্যে ভূষিত হবার যোগ্য তার কন্ঠে ফাঁসির দড়ি পড়াচ্ছিল ; বাংলার দামাল ছেলে সে , সে দড়ি ধরে তাকে সহাস্যে শুধাল “ফাঁসির দড়িতে মোম দেওয়া হয় কেন ?” – এটাই তার শেষ কথা ।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন