নির্মূল কমিটি খুলনা জেলার সভায় শাহরিয়ার কবির : ধর্মের নামে সমাজে বিভাজন, বিদ্বেষ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে


জুলাই ৩০ ২০২১

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: আজ৩০ জুলাই ২০২১ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে ‘জঙ্গী মৌলবাদীদের বিস্তার: বিপন্ন বাঙালি সংস্কৃতি’ এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়েছে। ওয়েবিনারে নির্মূল কমিটি খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম-এর সভাপতিত্বে ও নির্মূল কমিটি খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্র নাথ সেন সঞ্চলনায় আলোচনা সভার প্রধান বক্তা হিসাবে থাকবেন নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।ওয়েবিনারে আরো উপস্থিত থাকেন নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের সভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতারের সঙ্গীতশিল্পী ড. মনোরঞ্জন ঘোষাল, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ও জাগরণের যুগ্ম সম্পাদক লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান, নির্মূল কমিটির যশোর শাখার সভাপতি হারুণ আর রশিদ, নির্মূল কমিটির কুড়িগ্রামের সভাপতি সংস্কৃতিকর্মী জ্যোতি আহমদ, নির্মূল কমিটির খুলনা জেলার সহ-সভাপতি সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক আবুল ফজল, খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি গোপী কৃষাণ মুন্ধঢ়া, খুলনা মহিলা পরিষদের সদস্য সচিব অজন্তা দাস ও খুলনা মহিলা পরিষদের সদস্য এ্যা ভোকেট পপী ব্যানাজী সহ খুলনা জেলার নেতৃবৃন্দ।আলোচনা সভার প্রধান বক্তা নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন,‘১৯৪৭ সালে সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য ও উত্তরাধিকারত্বের উপর বারবার আঘাত এসেছে। বাঙালির রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের কারণে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পাকিস্তানিকরণের চক্রান্ত সফল হতে পারেনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতমভিত হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক বাঙালিত্বের চেতনা, যাছিল মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অবিস্মরণীয় বিজয়ের প্রধান সাংস্কৃতিক হাতিয়ার।শাহরিয়ার কবির আরওবলেন, ‘১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নৃশংসহত্যাকা-ের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির মৌলবাদীকরণ, সাম্প্রদায়িকীকরণÑতথা পাকিস্তানিকরণের যে প্রক্রিয়া স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী অপশক্তি চালু করেছে তা আজও অব্যাহত রয়েছে। রাজনীতি, সমাজ, এমনকি মানুষের মনোজগতেও মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে। গ্রামবাংলা থেকে চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির যাবতীয় অভিব্যক্তি হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ মেলা এবং বাঙালির অন্যান্য উৎসবের স্থান দখল করেছে জামায়াত-হেফাজতি উগ্রবাদী মোল্লাদের অশ্লীল ওয়াজ। ভিন্নধর্ম, ভিন্নমত এবং ভিন্নজীবনধারার অনুসারী এবং বিশেষভাবে নারীদের এসব ওয়াজে যে কদর্য ভাষায় বিষোদগারকরা হয় তা সমাজে উগ্রতা, বিদ্বেষ ও সন্ত্রাসের জমিন উর্বর করছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকারের আমলে ও সংস্কৃতিমন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ হচেছ সর্বনি¤œ। অন্যদিকে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে মডেল মসজিদ ও ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র বানানো হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে শত শত মডেল মসজিদ ও ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণ সংবিধান এবং বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের পরিপন্থী। ধর্মের নামে সমাজে বিভাজন, বিদ্বেষ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অনুসারী নাগরিক সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে। অসাম্প্রদায়িক বাঙালিত্বের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করতে হবে।নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের সভাপতি স্বাধীনবাংলা বেতারের সঙ্গীতশিল্পী ড. মনোরঞ্জন ঘোষাল বলেন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে পরিক্রমা সেটাই সংস্কৃতি, বিশাল ক্যানর্ভাস। সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নাটক, যাত্রা, সিনেমাÑ এ সবই সংস্কৃতির উপকরণ। সংস্কৃতি প্রবহমান নদীর মতো। নদীতে বাঁধ দিয়ে যেমন নদীর প্রবাহকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করা যায় কিন্তু নদী তার রাস্তা তৈরি করে নেয়। পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিল কিন্তু বাঙালিদের প্রদীপ্ত আন্দোলনেতা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠী বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ফণা তোমার চেষ্টা করছে কিন্তু বাঙালি সংস্কৃতিকর্মীরা তা রুখে দেবে। সংস্কৃতিকে সাময়িকভাবে বিপন্ন করা যায় কিন্তু থামিয়ে দেয়া যায়না। সংস্কৃতি প্রবহমান নদীর মতো আপন বেগে ধাবিত হয়।

4You and 3 othersLikeCommentShare

0 Comments

ActiveWrite a comment…

People You May Know

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন