শ্যামনগরে স্থায়ী বেঁড়িবাধ নির্মান, লবনাক্ততা ও জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা মোকাবেলায় বরাদ্দের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদান


মে ২৯ ২০১৯


নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্থায়ী বেঁড়িবাধ নির্মানসহ লবনাক্ততা ও জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় বরাদ্দের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন ও প্রধান মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলার সিএসআরএল সম্মেলন কক্ষে উক্ত সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলার ১২ টি ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভুমি) এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পৃথক পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান পরিষদের সেক্রেটারী এস আতাউর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, আটুলিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহবাবু, কাশিমাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, বুড়িগোয়ালীনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল, ঈশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান এড. শোকরআলী,গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মুসুদুল আলম, মুন্সিগজ্ঞ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়র, শ্যামনগরের প্যানেল চেয়ারম্যান বেবী নাজনীন প্রমুখ। এ ছাড়া এ আরো উপস্থিত ছিলেন ১২টি ইউনিয়নের একজন করে নারী ও পুরুষ সদস্য। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জলবায়ু পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নাজিমুদ্দীন, সদস্য শেখ হারুন-অর-রশীদ, মাস্টার নজরুল ইসলাম, চন্দ্রিকা ব্যানার্জী,  শম্পা গোস্বামী, প্রগতির শেখ রফিকুল ইসলাম ও সিএসআরএলের সুপর্ণা প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন জলবায়ু পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী।

তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বিপর্যস্ত জনপদ গুলোর একটি হচ্ছে শ্যামনগর উপজেলা। গত দশ বছরে এখানে সিডর, আইলাসহ ১০ টি বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত এনেছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, আগামী দিন গুলোতে এর সংখ্যা বাড়বে এবং প্রভাব তীব্র হবে। নদী ভাঙনের ফলে এ উপজেলার পদ্মপুকুর, আটুলিয়া, গাবুরা, মুনিাসগঞ্জ, বুগিগোয়ালিনী, কাশিমাড়ি ও কৈখালী ইউনিয়নে মাইগ্রেশনের সংখ্যাও বেশী। পরিবার কল্যাণ মন্ত্রানালয়ের তথ্য অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলায় আইলা ও সিডর পরবর্তী সময়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধির কারনে আগামী পঞ্চাশ বছরের মধ্যে উপকুলীয় জেলা গুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা আগে তলিয়ে যাবে। পরিবেশবীদদের এমন আশঙ্কায় এ জনপদ থেকে নীরব অভিবাসন শুরু হয়েছে। আর লবনাক্ততা এই উপজেলার অন্যতম প্রধান অভিঘাত। সমুদ্র উপকুলবর্তী হওয়ায় এ উপজেলার মূল জলাধারা সমুহ লোনাপানির। প্রধান নদী ইছামতি, কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া, কালিন্দি, মাদার , যমুনা ও রায়মঙ্গল নদীসহ ১২৬টি খাল ও জলমহল রয়েছে। নদী থেকে কুষি জমি ও চিংড়ি ঘেরে লোনা পানি আনা ও বের করে দেয়ার কাজে এই খাল গুলো ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে খাল গুলো অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হওয়ায় কারনে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্যামনগরসহ জেলার ৭টি উপজেলার বিস্তির্ণ এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগরকে বাঁচাতে তারা এ সময় ১২ দফা দাবী উপস্থাপন করেছেন। দাবী গুলোর মধ্যে রয়েছে, উপকুলীয় বাধের নতুন ডিজাইন করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট জোয়ারের উচ্চতা প্রতিরোধে সক্ষম বেঁড়িবাধ দ্রুত নির্মানের জন্য বরাদ্দ প্রদান, প্রত্যেক ইউনিয়নে জলববায়ু তহবিল গঠনে বরাদ্দ দেয়া, উপকুলবর্তী প্রত্যেক গ্রামে কমপক্ষে দুটি সাইক্লোন সেন্টার নির্মান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সঙ্কট নিরসনে আরও পানির প্লান্ট তৈরিসহ বিভিন্ন দাবী তুলে ধরেন।

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন