সাতক্ষীরায় এবার ৫৭৭টি মণ্ডপে দূর্গাপূজা


অক্টোবর ৪ ২০১৮

নিজস্ব প্রতিনিধি: শরতের আগমনে কাশফুলকে আর আগের মত সাতক্ষীরার মাঠে দেখা মেলে না। এরপরও শারদীয়া দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা শরৎকালকে মনে করিয়ে দেয় বাঙালিদের। শাস্ত্রমতে আগামী ৮ অক্টোবর সোমবার পূণ্য মহালায়ার মধ্য দিয়ে মর্ত্যধামে দেবীপক্ষের শুরু। আর ১৫ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর শুরু।

‘ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন’ উক্তি আর ঢাক ও কাসির বাজনা ছাড়াও মায়েদের কপাল সিন্দুরে রাঙানোর মধ্য দিয়ে ১৯ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয়া দূর্গাপূজা।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ৫৭৭টি সার্বজনীন ও পারিবারিক মন্দিরে দূর্গাপূজা হচ্ছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ১০৬টি, তালায় ১০৬টি, পাটকেলঘাটায় ৭৮টি, আশাশুনিতে ১০৭টি, শ্যামনগরে ৬৬টি, কালিগঞ্জে ৪২টি ও দেবহাটায় ২১টি দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বুধবার দিনব্যাপী পুরাতন সাতক্ষীরার বেশিরভাগ মন্দিরে দেখা গেছে শিল্পীরা মাটির কাজ শেষে প্রতিমা রঙ করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কয়েকটি মণ্ডপে মাটির কাজ শেষে রঙ দেওয়ার আগে প্রতিমা শুকিয়ে নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন শিল্পীরা।

স্থানীয়রা জানান, শরৎকাল মাঝামাঝির দিকে হলেও শিশিরের কোন দেখা নেই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে শীতের দেখা নেই। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে গরম। এবার মা আসছেন দোলায় ও যাবেন গজে। ফলে মহালয়া শেষ না হতেই ঝড়ের দেখা মিলতে পারে। তবে বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে এবারের দূর্গাপূজা মিলন মেলায় পরিণত হবে। তবে দেবহাটা সীমান্তের ইছামতী নদীতে দুই বাংলার মিলন মেলা না হওয়ায় উভয় পারের বাঙালিরা খানিকটা হতাশার মধ্যে রয়েছেন।

পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি সার্বজনীন দূর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব ব্যানার্জী জানান, এবার মায়ের বাড়িতে মূল প্রতিমার সঙ্গে ২২৫টি অতিরিক্ত মূর্তি তৈরির কাজ চলছে। মাটির কাজ শেষে মঙ্গলবার রঙ টানার প্রাথমিক স্তরের কাজ শেষ হয়েছে। এবার প্রতিমা তৈরির খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ টাকা। অতিরিক্ত আকর্ষণ থাকায় এবার তাদের মণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাবে বলে তিনি আশাবাদী। দর্শনার্থীরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা দর্শন করতে পারে সেজন্য স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।

ভাস্কর অনিল সরকার জানান, দুই মাস আগে থেকে মায়ের বাড়িতে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন তারা। ছয়জন সহযোগীকে নিয়ে তিনে মঙ্গলবার প্রতিমার গায়ে প্রথম পর্বের রঙ টানার কাজ শেষ করেছেন। অতিরিক্ত ২২৫টি মূর্তি মায়ের বাড়ির দূর্গাপূজার বিশেষ আকর্ষণ। যথাসময়ে প্রতিমা নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সহসভাপতি গোষ্ঠ বিহারী মন্ডল জানান, অশুভ শক্তিকে পরাজিত করার মনোবাসনা নিয়ে এবার মা দূর্গা দোলায় চেপে মর্তে আসছেন। যথাযোগ্য উৎসাহ ও উদ্দীপনা ও আড়ম্বরের সঙ্গে এবার শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৮ অক্টোবর সোমবার মহালায়ার মধ্য দিয়ে মহামায়ার আগমনী বার্তা নিয়ে পূজা আনন্দে মেতে উঠবে সাতক্ষীরাবাসী। মহামায়ার আগমনে বিনাশ হবে অশুভ শক্তি। তবে গত বছরে আশাশুনির কচুয়া ও কল্যাণপুরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা যাতে এবার না ঘটে সেজন্য তারা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পূজার আগে সদরের ওয়ারিয়ায় রাধা গোবিন্দ মন্দিরের মূর্তিতে যেভাবে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে তাতে তারা উদ্বিগ্ন। তবে পূজা মণ্ডপগুলো যথাসময়ে জেলা প্রশাসন ও হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তা পাবে বলে তিনি আশাবাদী।

সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার জানান, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা। এ পূজাকে ঘিরে যাতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হতে পারে সেজন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।’

শ্যামনগর

যশোর

আশাশুনি


জলবায়ু পরিবর্তন